মাংস, তাও আবার নিরামিষ! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা কিন্তু একটা দারুণ রেসিপি। আসলে ‘নিরামিষ’ শব্দটির অর্থ শুধুমাত্র পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া রান্না নয়। মাছ, মাংস, ডিম এমনকি মুসুর ডালও আমিষের মধ্যে পড়ে। তবে পুজো-পার্বণে বলি হওয়া পাঁঠার মাংস নিজের হাতে রান্না করতেন মন্দিরের পুরোহিত, যা দেবতাকে ভোগ হিসাবে অর্পণ করা হতো। সেই রান্নায় পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবহার করা হত না। আর তার সূত্র ধরেই প্রবর্তিত হয়েছে নিরামিষ পাঁঠার মাংসের রেসিপি। খুব সহজ এই রেসিপি-

উপকরণঃ
- পাঁঠার মাংস
- আলু
- হলুদ, ধনে, লঙ্কা গুঁড়ো
- টক দই
- তেল ও গাওয়া ঘি
- ফোড়নের জন্য তেজপাতা, সবুজ এলাচ, লবঙ্গ
- হিং
- আদা বাটা, ধনে, হলুদ, কাঁচা লঙ্কা
- নুন ও চিনি পরিমাণমতো
প্রণালীঃ
১। পাঁঠার টুকরোগুলো নুন, হলুদ বাটা এবং আদা বাটা দিয়ে মেখে ঘরের তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে।

২। তার পর দই মিশিয়ে আরও ২ ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখতে হবে।
৩।একটি কড়াইতে প্রথমে তেল গরম করতে হবে। গরম তেলে তেজপাতা, সবুজ এলাচ এবং লবঙ্গ দিতে হবে।
৪। কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করে ম্যারিনেট করা মাংস দিতে হবে। ম্যারিনেটের অতিরিক্ত মশলা আলাদা রাখতে হবে।
৫।প্রথমে ১৫ মিনিট মাংসটি বেশি আঁচে রান্না করতে হবে।
৬। এবার গ্যাসের ফ্লেম মাঝারি রেখে ১ ঘণ্টা ঢেকে রান্না করতে হবে। এই সময় প্রতি ১০ মিনিট অন্তর ঢাকনা সরিয়ে পাঁঠার মাংসটি ভালো ভাবে নাড়তে হবে।
৭। এক ঘণ্টা হয়ে গেলে রান্নায় গাওয়া ঘি দিতে হবে৷ সঙ্গে আলু, বাকি নুন, হলুদ বাটা, ধনে গুঁড়ো এবং লাল লঙ্কার গুঁড়ো মেশাতে হবে।
৮। এই সময় ৩ টেবিল চামচ জল ছড়িতে দিতে হবে যাতে মশলা পুড়ে না যায়।
৯। ওই আলাদা করে রাখা অতিরিক্ত ম্যারিনেটের মশলাও এই সময়ে দিতে হবে৷
১০। এবার অনবরত নাড়তে হবে। গ্যাসের আঁচ বাড়িয়ে ২০ মিনিটের মতো রান্না করতে হবে।
১১। এর পর জল গরম দিয়ে চিনি, কাঁচা লঙ্কা এবং বাড়িতে তৈরি পাঁচ ফোড়নের গুঁড়ো মেশাতে হবে।
১২। মাংস ভালো ভাবে সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা বন্ধ করে কম আঁচে আরও কিছুক্ষণ রান্না করতে যেতে হবে।

১৩। প্রেশার কুকারে করলে তিনটে সিটি না পড়া পর্যন্ত কম আঁচে রান্না করতে হবে।
১৪। এবার গ্যাস বন্ধ করে ১৫ মিনিট পরে কুকার খুলতে হবে।