দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে মা কালীর আরাধনা করা হয়। এই রাত একদিকে যেমন উৎসবের, তেমনই অন্যদিকে তন্ত্রসাধনার। মা কালী অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেন। কিন্তু ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করার পাশাপাশি কিছু ভুল কাজ এড়িয়ে চলাও শাস্ত্র মতে আবশ্যক। প্রচলিত বিশ্বাস, কালীপুজোর রাতে কিছু বিশেষ কাজ করলে দেবী রুষ্ট হতে পারেন এবং জীবনে নেমে আসতে পারে ঘোর বিপদ। জেনে নিন, এই রাতে কোন কোন ভুলগুলি একেবারেই করা উচিত নয়।

১। সন্ধ্যার পর ঘর ঝাড়ু নয়
- বিশ্বাস করা হয়, কালীপুজোর দিন সূর্যাস্তের পর বা রাতের বেলায় বাড়ি ঘর ঝাড়ু দেওয়া উচিত নয়।
- সন্ধ্যার পর ঘর ঝাড়ু দিলে সংসারের লক্ষ্মী বিদায় নেন এবং জীবনে অমঙ্গল নেমে আসে।
- তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সন্ধ্যার আগেই সেরে ফেলা উচিত।
২। চুল খোলা রেখে ঘুম বা বাইরে বেরোনো
- মহিলাদের জন্য এই রাতে চুল খোলা রাখা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়।
- রাতে চুল খোলা রেখে ঘুমোনো বা বাইরে বেরোনো উচিত নয়।
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, খোলা চুল নেতিবাচক শক্তিকে খুব সহজে আকর্ষণ করে, যা নিজের ও পরিবারের ক্ষতি করতে পারে।
৩। শ্মশান বা কবরস্থানের কাছাকাছি যাওয়া
- কালীপুজোর রাতে শ্মশান বা সমাধিক্ষেত্রের আশেপাশে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
- এই রাতে তন্ত্রসাধনা চলে এবং এমন স্থানে নেগেটিভ শক্তি খুব সক্রিয় থাকে।
- অশুভ শক্তি গ্রাস করতে পারে, তাই এই স্থান থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪। এঁটো বাসন জমিয়ে রাখা ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর
- পুজোর রাতে দেবী প্রসন্ন হন যখন চারপাশ পরিচ্ছন্ন থাকে।
- তাই রাতের খাওয়া শেষে ভুলেও এঁটো বাসনপত্র রান্নাঘরে জমিয়ে রাখবেন না।
- যত দ্রুত সম্ভব সব বাসন পরিষ্কার করে রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা মঙ্গলজনক। অপরিচ্ছন্নতা অশুভকে আমন্ত্রণ জানায়।
৫। রাগ বা কলহ এবং মদ্যপান
- কালীপুজোর মতো পবিত্র দিনে কারোর সঙ্গে রাগ, বিবাদ বা কলহ করা উচিত নয়। এটি দেবীর ক্রোধের কারণ হতে পারে।
- একইসঙ্গে এই রাতে মদ্যপান বা অন্য কোনও নেশা করাও শাস্ত্র মতে বর্জনীয়।
- শুদ্ধ মনে ও শান্ত পরিবেশে মায়ের আরাধনা করাই শ্রেয়।
৬। দুধ জাতীয় কোনও জিনিস চাইলে
- এই দিনগুলোতে সন্ধ্যার পর যদি কেউ আপনার কাছ থেকে দুধ বা দুধ জাতীয় কোনও জিনিস চান, তা হলে তা দেবেন না।
- এর ফলে আপনার বাড়ি থেকে পজিটিভ শক্তি কমতে থাকবে ও নেগেটিভ শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
কালীপুজো শুদ্ধতা, ভক্তি এবং বিশ্বাসের উৎসব। উপরোক্ত ভুলগুলি এড়িয়ে চললে মা কালীর আশীর্বাদ আপনার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এনে দেবে। তাই দেবীর কৃপা লাভ করতে এই রাতে সতর্ক থাকুন এবং মন দিয়ে মায়ের পুজো করুন।