আজকের যুগে শুধু সন্তানকে বড় করে তোলা নয়, তাকে এক জন দায়িত্বশীল, আত্মবিশ্বাসী ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটাই স্মার্ট পেরেন্টিং-এর আসল উদ্দেশ্য। অভিভাবকদের ভূমিকা এখানে শুধু পথ দেখানোর নয়, বরং জীবনভর সঙ্গী হয়ে ওঠার। শিশুর মানসিক বিকাশ ও সঠিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য নিচের কিছু টিপস অনুসরণ করা যেতে পারে —
১. গ্যাজেট থেকে দূরে রাখতে বিকল্প তৈরি করুন

আজকালকার শিশুরা মোবাইল, ট্যাব, টিভির প্রতি খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। কিন্তু এগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়ার মানেই নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং বিকল্প দিন—আঁকা, বই পড়া, গল্প শোনা, খেলাধুলা কিংবা ঘরোয়া হস্তশিল্প। সময় কাটানোর এই বিকল্পগুলো ওদের কল্পনাশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করে।
২. প্রতিদিন একান্ত সময় দিন

সন্তানের সঙ্গে ‘গুণগত’ সময় কাটান। স্কুল, খাওয়াদাওয়া, হোমওয়ার্কের বাইরেও এমন সময় রাখুন, যখন ও আপনার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারে। গল্প বলুন, গান গান, বাচ্চার সঙ্গে খেলুন—এই সময়গুলো শিশুর আবেগগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি শেখান
‘এটা করো না’ বলার বদলে ‘এভাবে করলে আরও ভালো হবে’—এই ধাঁচে বোঝানোর অভ্যাস গড়ুন।
৪. আপনি হোন ওর জীবনের প্রথম রোল মডেল
আপনার ব্যবহার, ভাষা, সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ—সবই শিশুর শেখার বিষয়। আপনি যেমন করবেন, ও তাই শিখবে। তাই প্রতিদিন নিজের আচরণের মাধ্যমে শিক্ষা দিন।
৫. শিশুর আগ্রহকে সম্মান করুন

প্রতিটি শিশুর আলাদা প্রতিভা ও আগ্রহ থাকে। কারও নাচ ভালো লাগে, কারও আঁকা, কারও খেলাধুলা। চাপ দিয়ে নয়, ওর পছন্দকে সম্মান জানিয়ে সেই পথে উৎসাহ দিন।
৬. ছোট ছোট দায়িত্ব দিন

সন্তানকে ছোট দায়িত্ব যেমন—জল ঢালা, জামা গুছিয়ে রাখা বা খাবার টেবিল সাজানোর মতো কাজে যুক্ত করুন। এতে আত্মনির্ভরশীলতা ও কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।
শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত তৈরি হয় ছোটবেলায়। তাই শাসন নয়, বোঝাপড়াই হোক স্মার্ট পেরেন্টিং-এর আসল চাবিকাঠি।