পুজোতে নিশ্চয়ই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হয়েছে। সামনেই আবার আসছে কালীপুজো, ভাইফোঁটা ইত্যাদি ইত্যাদি। বাঙালির উৎসববের কিন্তু শেষ নেই, সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার। তবে এরই মাঝে আপনি চাইলেই মন দিতে পারেন ওজন কমানোয়। এর জন্য শুধু খাদ্যাভাস আর শরীরচর্চাতেই মন দিলে হবে না, আরও কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ দিকেও নজর রাখতে হবে। আপনাদের জন্য রইল সেরকমই কিছু টিপস, যা ফলো করলে শুধু যে ওজন কমবে তা নয়, পেটে জমে থাকা চর্বিও কমবে আর থাকবেন স্লিম।

১. খাবারে চিনি-র ব্যবহারঃ
চিনি আমাদের শরীরের ক্যালোরি বাড়ায়। যেহেতু চিনিযুক্ত খাবার ও ড্রিঙ্কস্গুলোতে হাই ক্যালোরি থাকে, তাই এই জাতীয় খাবার খেলে প্রায়শই ওজন বৃদ্ধি পায়। সাধারণত সোডা, আইসক্রিম, কুকিজ ও ক্যান্ডির মতো অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং পানীয় অনেক ক্যালোরি বহন করে। তাই খাবারে যতটা সম্ভব চিনি কম খান। আর চিনির পরিবর্তে আপনি গুড় ব্যবহার করতে পারেন সামান্য পরিমাণে। দেখবেন নিজেই বুঝতে পারবেন উপকার।
২. হেলদি ডায়েটঃ
আর যাই হোক, আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে যাতে প্রোটিনের ঘাটতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট কমালেও, পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খেতে হবে। সবরকমের ডাল, সয়াবিন, দুধ, পনির, মাছ, ডিম, মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। তাই এই খাবারগুলো রাখুন ডায়েটে।

৩. কাজের মধ্যে থাকুনঃ
সক্রিয় থাকুন, মানে নিজেরই ছোট ছোট কাজ সারাদিন করা। শুয়ে বা বসে না থেকে হাঁটতে পারেন। একদিকে ব্যায়াম এবং অন্যদিকে বাকি সময় ঘুমালে আপনার ওজন কমার বদলে বাড়তে থাকবে। জল ভরা, মশারি টাঙানো, নিজের জন্য চা-কফি করার মতো ছোটখাটো কাজ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
৪. খাবারের প্রতি মনযোগঃ
ধীরে ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খাবার খান। আর খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল না দেখাই ভালো। পেট ভরে গেলে হরমোন আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠায়। যার ফলে খাওয়ার ইচ্ছে আর সেরকম থাকে না। তবে, তাড়াতাড়ি খাবার খেলে শরীরের এই হরমোনগুলি ঠিক করে কাজ করতে পারে না। পাশাপাশি চিবিয়ে খেলে হজমও হয় ভালো।

৫. আর্লি টু বেড এন্ড আর্লি টু রাইজঃ
এবার থেকে সময়মতো ঘুমোতে যান ও সময়মতোই ঘুম থেকে উঠুন। দিনে ৭-৮ ঘণ্টা যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। শরীরকে যথাযথ বিশ্রাম না দিলে পরবর্তী দিনে কাজ করার এনার্জিতে ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ঢিলে পড়ে যায় মেটাবলিজমও।