রোজকার জীবনে রান্না করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে ভাত একটু বেশি হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর সেই বেঁচে যাওয়া ভাত কিন্তু বেশিরভাগ সময়-ই চলে যায় ফ্রিজে আর নইলে শেষপর্যন্ত যায় ডাস্টবিনে। অথচ সামান্য কিছু উপকরণ আর একটু মাথা খাঁটালেই এই সাধারণ ভাত দিয়েই কিন্তু তৈরি করে ফেলা যায় একেবারে নতুন স্বাদের দারুণ সব পদ। সকালের ঝটপট জলখাবার থেকে শুরু করে বিকেলের মুখরোচক স্ন্যাকস, এমনকি সুস্বাদু মিষ্টিও—সবই সম্ভব আগের দিনের ভাত দিয়ে। তাই এবার থেকে বেঁচে যাওয়া ভাত আর নষ্ট নয়, বরং তাকে দিন নতুন রূপ আর নতুন স্বাদ।

ভাতের কাটলেট
বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় মুচমুচে কাটলেট। এর জন্য ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ আলু, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা, নুন ও সামান্য ভাজা জিরের গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে মেখে নিতে হবে। মিশ্রণটি থেকে ছোট ছোট গোল আকারের কাটলেট তৈরি করে তাতে ব্রেডক্রাম্ব মাখিয়ে নিন। এরপর অল্প তেলে সোনালি করে ভেজে নিলেই তৈরি জলখাবার উপযোগী এক মুখোরোচক স্ন্যাক্স।

ফ্রায়েড রাইস
বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়ে চটজলদি ফ্রাইড রাইসও তৈরি করে নেওয়া যায়। কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে রসুন, পেঁয়াজ, গাজর, ক্যাপসিকাম ও বিনস ভেজে নিন। এর পর ভাত দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো, নুন ও সয়া সস দিয়ে দিন। চাইলে ডিম, চিকেন বা পনিরও মেশানো যেতে পারে। এইভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে পেটভরে খাওয়া যায় এমন একটি সুস্বাদু পদ।

ভাতের প্যানকেক
সন্ধ্যার জলখাবারে বানিয়ে নিতে পারেন ভাতের প্যানকেক। ভাতের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা ও নুন মিশিয়ে প্রয়োজনমতো জল দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। এবার তাওয়ায় অল্প তেল দিয়ে ছোট ছোট প্যানকেকের মতো করে দু’পিঠ ভালোভাবে সেঁকে নিন। সঙ্গে টক-ঝাল চাটনি থাকলে স্বাদ আরও বাড়বে।

ভাতের পায়েস
ভাত দিয়ে যে মিষ্টিও তৈরি করা যায়, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। দুধ ঘন করে ফুটিয়ে তার মধ্যে বেঁচে যাওয়া ভাত দিয়ে দিন। এরপর চিনি বা গুড়, এলাচ, কাজু ও কিশমিশ দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিলে খুব সহজেই তৈরি হয়ে যাবে ভাতের পায়েস।
তবে মনে রাখবেন, বেঁচে যাওয়া ভাত ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ না রেখে দিয়ে, দ্রুত ঠান্ডা করে ঢাকনাযুক্ত কোনো পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যবহারের আগে ভাতের গন্ধ, রং বা স্বাভাবিকত্বে কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটা দেখে নিতে ভুলবেন না।
