প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিংবা ব্যস্ত দিনে হঠাৎ চুল আঁচড়াতে গিয়ে বিশ্রী জটের সাথে যুদ্ধ করাটা সত্যিই ভীষণ বিরক্তিকর! চিরুনি চালালেই গোছা গোছা চুল উঠে আসা আর টানাটানিতে মাথার স্ক্যাল্পে মারাত্মক ব্যাথা—এই ‘ব্যাড হেয়ার ডে’ ভাইব কারই বা ভালো লাগে বলুন? তবে জেনে অবাক হবেন, আমাদেরই কিছু ডেলি হ্যাবিট আর না জানা ছোট্ট কিছু ভুলের জন্যই চুলে বারবার এভাবে জট পাকিয়ে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পেছনের আসল কারণগুলো!
ডিহাইড্রেশন ও আর্দ্রতার মারাত্মক ঘাটতি:
চুলে প্রপার হাইড্রেশন না থাকলে চুল ভীষণ ড্রাই ও ফ্রিজি হয়ে পড়ে। আর এই শুষ্ক চুল মানেই একটার সাথে আরেকটা পেঁচিয়ে গিয়ে জট বাঁধবেই। অতিরিক্ত রোদ, ধুলোবালি কিংবা বেশি কড়া শ্যাম্পু ব্যবহারে চুলের ন্যাচারাল ময়েশ্চার লক বা সিবাম হারিয়ে এই সমস্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়।
শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার স্কিপ করে যাওয়া:

হাতে সময় কম থাকলে বা অলসতাবশত অনেকেই শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার স্কিপ করে যান, যা চুলের জন্য বেশ ক্ষতিকর। কন্ডিশনার মূলত চুলের ওপরের কিউটিকেলগুলোকে স্মুথ ও সফট রাখে। এটি ব্যবহার না করলে চুল খসখসে হয়ে যায় এবং খুব সহজেই জট পাকিয়ে যায়।
ভেজা চুলে শক্ত তোয়ালের ঘর্ষণ:
ভেজা অবস্থায় আমাদের চুল সবচেয়ে বেশি সেনসিটিভ ও দুর্বল থাকে। এই অবস্থায় চিরুনি দিয়ে টানাটানি করলে বা স্নানের পর তোয়ালে দিয়ে শক্ত করে মাথা ঘষলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং খুব সহজেই জট বেঁধে যায়।
কটন পিলোকভারের ফ্রিকশন ও চুল খোলা রাখা:

আমরা সাধারণত যে সুতির বা কটনের বালিশের কভার ব্যবহার করি, তার টেক্সচার কিছুটা রাফ হয়। রাতে ঘুমানোর সময় চুলের সাথে এই কভারের ফ্রিকশন বা ঘর্ষণে রাতভর চুলে প্রচুর জট পড়ে, বিশেষ করে চুল খোলা রেখে ঘুমানোর হ্যাবিট থাকলে।
স্প্লিট এন্ডস আর ওভার-স্টাইলিং:
সময়মতো চুল ট্রিম না করলে নিচের দিকে ড্যামেজ হয়ে স্প্লিট এন্ডস তৈরি হয়, যা খুব সহজেই আশেপাশের চুলগুলোকে আঁকড়ে ধরে জট পাকাতে শুরু করে। এছাড়া অতিরিক্ত হেয়ার ডাই, রিবন্ডিং বা হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহারে চুলের ন্যাচারাল শাইন নষ্ট হয়ে বারবার জট পড়ে।
কুইক ফিক্স অ্যান্ড কেয়ার টিপস:
প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগানো মাস্ট। সুতির বদলে সার্টিনের পিলোকভার ব্যবহারের চেষ্টা করুন এবং রাতে ঘুমানোর আগে চুল আলতো করে বেণী করে বেঁধে নিন।
