আর ক’টা দিন পরেই হিমেল হাওয়া জানান দেবে শীতের আগমন। এই সময়টা যেমন আমাদের কাছে আরামদায়ক, তেমনি আপনার প্রিয় পোষা কুকুরের জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন ও মনোযোগ। শীতকালে আপনার বন্ধুকে সুস্থ ও উষ্ণ রাখতে কয়েকটি সহজ টিপস মেনে চলুন।

১. উষ্ণতার ব্যবস্থা

ঠান্ডা মেঝে বা খোলা জায়গায় কুকুরকে থাকতে দেবেন না। তাদের শোবার জায়গাটি যেন উষ্ণ ও আরামদায়ক হয়। সম্ভব হলে কম্বল বা মোটা মাদুর ব্যবহার করুন। ছোট লোমযুক্ত বা বয়স্ক কুকুরদের জন্য শীতকালে বাইরে বেরোনোর সময় বা বাড়ির ভেতরেও হালকা সোয়েটার বা জ্যাকেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাথায় রাখবেন, যেন তা খুব আঁটসাঁট না হয়।

২. সুষম খাদ্য ও জল

শীতকালে কুকুরের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কিছুটা বেশি ক্যালোরির প্রয়োজন হতে পারে। তাদের খাদ্যে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখুন। প্রয়োজনে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবারের পরিমাণ বা ধরন পরিবর্তন করুন। আর হ্যাঁ, ঠান্ডা লাগার ভয়ে অনেকেই জল কম দেন। কিন্তু মনে রাখবেন, পর্যাপ্ত জল পান শীতকালেও অপরিহার্য। জল যেন খুব ঠান্ডা না হয়।

৩. শরীরচর্চা ও ভ্রমণ

শীতকালে অলসতা আসে, কিন্তু আপনার কুকুরকে নিয়মিত শরীরচর্চা থেকে বিরত রাখবেন না। দিনের যে অংশে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে, যেমন – সকালের দিকে রোদ উঠলে বা সন্ধ্যার আগে, তখন তাদের নিয়ে বাইরে হাঁটতে যান। এটি তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ রাখবে। তবে কুয়াশা বা তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বেশি সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলুন।

৪. ত্বকের যত্ন

শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অনেক কুকুরেরই এই সময় খুশকি বা চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরম জলে স্নান করানো এড়িয়ে চলুন এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য লোশন বা কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। স্নানের পরে শরীর ভালোভাবে মুছে শুকনো করে দিন।

৫. স্বাস্থ্য পরীক্ষা

যদি আপনার কুকুর কাঁপতে থাকে, ঝিমিয়ে থাকে বা খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা দেখায়, তবে দেরি না করে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বয়স্ক কুকুরের ক্ষেত্রে আর্থ্রাইটিসের সমস্যা শীতে বাড়তে পারে, তাই তাদের গতিবিধির দিকে বিশেষ নজর দিন।

এই সামান্য যত্নটুকু শীতকালে আপনার চারপেয়ে বন্ধুকে দেবে অনাবিল শান্তি আর উষ্ণতা। আপনার উষ্ণ স্পর্শে তারা থাকুক সুস্থ ও চনমনে!

Related Posts