প্রতি বছর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে দেশজুড়ে পালিত হয় জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি হিসেবে এই দিন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, একটা আনন্দোৎসবও। আসুন জেনে নিই জন্মাষ্টমীর কাহিনি ও উদযাপনের নানা দিক—

পুরাণের ইতিহাস

  • কৃষ্ণের বাবা হলেন বাসুদেব এবং মা দেবকী। দৈববাণী ছিল বাসুদেব ও দেবকীর অষ্টম সন্তানের হাতেই অত্যাচারী কংসের মৃত্যু হবে। আর একথা জানার পরই কংস কারাবন্দি করে রাখেন কৃষ্ণের বাবা-মাকে। সেই কারাগারেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়।
  • কৃষ্ণ জন্মগ্রহণের পর বাসুদেব কারারক্ষীদের নজর এড়িয়ে তাকে রাতের অন্ধকারে যমুনা পেরিয়ে গোকুলে পালক মা যশোদার কাছে নিয়ে রেখে আসেন। সেখানেই যশোদা ও নন্দগোপালের স্নেহে কৃষ্ণ বেড়ে ওঠেন।
  • নারায়ণের অবতার হিসেবে পৃথিবী থেকে অন্যায়, অধর্ম ও দানব শক্তি নাশ করার জন্য তিনি অবতীর্ণ হন।

উৎসব পালনের রীতি

  • মন্দিরে শোভাযাত্রা, কীর্তন, গীতা পাঠ ও ভজনের মাধ্যমে ভক্তরা দিনটি পালন করেন।
  • অনেক ভক্ত উপবাস থেকে রাত বারোটায় কৃষ্ণ জন্মমুহূর্ত উদযাপন করেন।
  • শ্রীকৃষ্ণের জন্মকথা নাটকের মাধ্যমে পরিবেশিত হয় ‘রাসলীলা’।
  • গ্রামীণ অঞ্চলে দই-হান্ডি ফাটানো বা মাটকি খেলার বিশেষ আয়োজন থাকে।

জন্মাষ্টমী কোথায় কোথায় হয়

  • শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশ, নেপালসহ বিশ্বজুড়ে হিন্দু ভক্তরা এই উৎসব উদযাপন করেন।
  • মথুরা ও বৃন্দাবনে সবচেয়ে বড় করে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।
  • মহারাষ্ট্রে দহি-হান্ডি উৎসব হয় এইসময়। মানব টাওয়ার বানিয়ে উঁচুতে বাঁধা দইয়ের হাঁড়ি ভাঙা হয়।
  • দক্ষিণ ভারতে ঘরে ঘরে কৃষ্ণের পদচিহ্ন এঁকে শ্রীকৃষ্ণকে স্বাগত জানান ভক্তরা।

ভক্তরা বিশ্বাস করেন এদিন উপাসনা করলে জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। ভগবদ্গীতায় কৃষ্ণের বাণী ‘কর্মই মানুষের প্রকৃত ধর্ম।‘ এই শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়- এটি ভক্তি, আনন্দ ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক।

Related Posts