মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে ধুলোবালি কিংবা আঙুলের ছাপ পড়লে আমরা প্রায়শই হাতের কাছে যা পাই, তা দিয়েই মেছামুছি শুরু করে দিই। তবে অসাবধানতার কারণে আপনার প্রিয় গ্যাজেটটির স্ক্রিনে চিরস্থায়ী দাগ বা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
ডিজিটাল ডিভাইসের সুরক্ষায় স্ক্রিন পরিষ্কার করার সময় যে ভুলগুলো একদমই এড়িয়ে চলবেন:
পোশাক বা সাধারণ তোয়ালে ব্যবহার করা:

পরনের জামার হাতা, গেঞ্জির কাপড়, টিস্যু পেপার কিংবা তোয়ালে দিয়ে স্ক্রিন মোছা একদম উচিত নয়। এগুলি ব্যবহারের ফলে স্ক্রিনে ছোট ছোট আঁচড়ের দাগ ফেলে দিতে পারে। এর বদলে সবসময় পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন।
সরাসরি স্ক্রিনে তরল স্প্রে করা:

জল বা ক্লিনার কখনোই সরাসরি স্ক্রিনের ওপর স্প্রে করবেন না। এতে তরল লিকুইড স্ক্রিনের ভেতরের সার্কিট বা ডিসপ্লের কোণ দিয়ে ভেতরে ঢুকে গিয়ে ডিসপ্লে নষ্ট করে দিতে পারে। সবসময় তরলটি আগে কাপড়ে হালকা স্প্রে করে, তারপর সেই কাপড় দিয়ে স্ক্রিন মুছবেন।
কঠিন রাসায়নিক ক্লিনার ব্যবহার:
গ্লাস ক্লিনার, কাঁচ মোছার তরল বা অতিরিক্ত অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্ক্রিনে দেবেন না। এসব কেমিক্যাল স্ক্রিনের ওপর থাকা প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ বা কোটিং নষ্ট করে দেয়।
অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মোছা:

জেদি দাগ তুলতে স্ক্রিনের ওপর খুব বেশি চাপ দেবেন না। বিশেষ করে ল্যাপটপ বা মনিটরের এলসিডি (LCD) স্ক্রিন ভীষণ সংবেদনশীল হয়। বেশি চাপ দিলে ডিসপ্লের পিক্সেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। হালকা হাতে গোলাকার (Circular) গতিতে মুছে নেওয়া ভালো।
ডিভাইস অন থাকা অবস্থায় পরিষ্কার করা:
কম্পিউটার বা মোবাইল চালু অবস্থায় স্ক্রিন মোছা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথমত, ডার্ক বা বন্ধ স্ক্রিনে ধুলো-ময়লা ভালোভাবে চোখে পড়ে। দ্বিতীয়ত, ডিভাইস বন্ধ রাখলে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্লিক বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে না।
পরামর্শ:
একটি শুকনো মাইক্রোফাইবার কাপড় আলাদা রেখে দিন যা শুধু স্ক্রিন মোছার কাজেই ব্যবহার করবেন। কাপড়টি নোংরা হয়ে গেলে হালকা সাবান-জলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন!
