Spread the love

‘বেড়াতে এলেই ধুলো ওড়ে পায়ে পায়ে / সভ্যতাকেও মনে হয় সহজিয়া,
যেদিকে তাকাও, শহরে গঞ্জে গাঁয়ে, / মাটির হয়েই কথা বলে পুরুলিয়া।’

শ্রীজাত –এর এই কবিতাটি মনে পড়িয়ে দেয় কংসাবতী, ছৌ নাচের কথা, আর আগুনের মশালের মতো জ্বলে ওঠা পলাশ ফুলের সৌন্দর্য, যা আমরা দেখতে পাবো পুরুলিয়াতেই।  

সারা সপ্তাহের ব্যস্ততা, অফিসের চাপ আর শহরের কোলাহল থেকে মুক্তির ইচ্ছা আমাদের সকলের মনেই জাগে। তবে হাতে মাত্র ৩ দিন, আর এই তিন দিনে রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দুটোই একসঙ্গে উপভোগ করতে পুরুলিয়ার থেকে বেস্ট ডেসটিনেশন আর কিছুই হতে পারে না।

কীভাবে পোঁছাবেন?

কলকাতা থেকে পুরুলিয়ার দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটার। বাইকে গেলে জাতীয় সড়ক এবং রাজ্য সড়ক ধরে যেতে পারবেন। NH19 এবং NH 314 ধরে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় লাল মাটির দেশে। এছাড়াও NH16 ধরে খড়গপুর ঝাড়গ্রাম হয়ে বাঁকুড়ার দিকে এগোন ও বাঁকুড়া থেকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা লাগবে পুরুলিয়া পৌঁছাতে।

কোথায় থাকবেন?   

  • প্রকৃতিকে উপভোগ করতে চাইলে অযোধ্যা পাহাড়ে ১০০০–২০০০ টাকার মধ্যে ভালো হোটেল ও হোমস্টে পেয়ে যাবেন।  
  • এছাড়া সস্তায় ভালো জায়গায় থাকতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব আবাস-এ থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনাদের আগে থেকে বুক করে রাখতে হবে।
  • পুরুলিয়া স্টেশনের কাছে ৫০০–১৫০০ টাকার মধ্যে হোটেল পেয়ে যাবেন।
  • পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি উপভোগ করতে বাঘমুণ্ডীতে থাকতে পারেন।

সাইটসিনে এ কী কী দেখবেন?  

যেহেতু আপনার সঙ্গে আপনার বাইক আছে তাই সাইটসিনের জন্য আলাদা করে গাড়ি ভাড়া করতে হবে না, সরাসরি বাইক নিয়ে ঘুরে আসুন।

  • পাখি পাহাড়, ময়ূর পাহার, মার্বেল লেক, লোয়ার ড্যাম, আপার ড্যাম, চারিদা মুখোশ গ্রাম, তুর্গা ও বামনি জলপ্রপাতের মত বিভিন্ন স্থানে।
  • সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন জয়চণ্ডী পাহাড় থেকে।

কী খাবেন?  

কলকাতার মতই এখানকার বিভিন্ন হোটেল বা রেস্তোরাঁয় মাছ, ভাত, মাংস সব কিছুই পেয়ে যাবেন। আবার চাইলে যে হোটেল বা হোমস্টে-তে আছেন সেখানে লোকাল ফুডও খেতে পারেন।  

পুরুলিয়া ভ্রমণের জন্য সেরা সময়

অক্টোবর–এপ্রিল পুরুলিয়া ভ্রমনের সেরা সময়। জুন-সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল থাকে। তাই ওই সময়টি এড়িয়ে চলাই ভালো।   

ব্যাগ প্যাকেজিং

  • ৩ দিনের সফরে বাইক নিয়ে পুরুলিয়ায় গেলে ট্রেকিং ব্যাগ অথবা ট্যাংক ব্যাগ নিতে পারেন।
  • ব্যাগে অবশ্যই হালকা ও আরামদায়ক পোশাক রাখুন।
  • সকালে ও রাতের দিকে যেহেতু ঠাণ্ডা পড়ে, তাই একটা জ্যাকেট বা হুডি সঙ্গে রাখুন।
  • এছাড়া আরামদায়ক স্পোর্টস বা ট্রেকিং জুতো ক্যারি করুন।
  • এই মুহূর্তে ঠাণ্ডা গরমের ওয়েদার। তাই অবশ্যই প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফার্স্ট এইড ব্যাগে রাখুন।
  • যেহেতু বাইকে যাচ্ছেন, তাই প্রয়োজনীয় গিয়ার ও বাইক কিট অবশ্যই নিজের সঙ্গে রাখুন। 

ঠিক এইভাবে প্ল্যানিং করলে আপনার পুরুলিয়া ভ্রমণ হবে আরও সহজ ও আরামদায়ক।

Related Posts