পুজোর ছুটিতে সেই একঘেয়ে দার্জিলিং বা পুরী ছেড়ে এবার একটু অন্য ধারার অভিজ্ঞতা করতে ঘুরে আসুন ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কেরালা থেকে। সবুজে মোড়া পাহাড়, বিস্তীর্ণ চা-বাগান, নারকেল গাছের সারি, শান্ত ব্যাকওয়াটার এবং সমুদ্র সবকিছু একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে যাবেন এই রাজ্যে।

কীভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে কেরালা আপনি বিমান ও ট্রেন দুটোতেই যেতে পারেন। কলকাতা থেকে ট্রেনে যেতে গেলে হাওড়া থেকে হাওড়া–এরনাকুলাম অন্ত্যোদয় এক্সপ্রেস রয়েছে তবে ট্রেনে যেতে সময় লাগে বেশি প্রায় ৩৫ ঘন্টা থেকে ৪৫ ঘণ্টা। কলকাতা থেকে প্লেনে যেতে হলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আপনি সোজা কোচি বা তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে আপনার গন্তব্য অনুযায়ী গাড়ি, বাস বা ট্রেনে যেতে পারেন।

কোথায় কোথায় ঘুরবেন?

মুন্নারঃ

কেরালা ভ্রমণের কথা উঠলেই প্রথমে আসে মুন্নারের নাম। বিস্তীর্ণ চা-বাগান, সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা আর ঠান্ডা আবহাওয়া সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন প্রকৃতির কোলে সাজানো। প্রকৃতিপ্রেমী এবং পাহাড় ভালোবাসেন এমন মানুষদের জন্য মুন্নার অবশ্যই ভালো একটি গন্তব্য।

আলাপ্পুঝাঃ

কেরালার বিখ্যাত ব্যাকওয়াটারের অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে আলাপ্পুঝা যেতে পারেন। এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল হাউসবোট। শান্ত জলের উপর দিয়ে ভেসে যেতে যেতে চারপাশের নারকেল গাছ, ছোট ছোট গ্রাম আর স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। সুযোগ থাকলে অন্তত এক রাত হাউসবোটে থাকতে পারেন।

কুমারাকোমঃ

আলাপ্পুঝার তুলনায় একটু শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ চাইলে কুমারাকোম বেশ ভালো। ভেম্বানাদ লেকের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখা, নৌকাভ্রমণ করা এবং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি সুন্দর।

ভারকালাঃ

সমুদ্র ভালোবাসলে ভারকালা অবশ্যই তালিকায় রাখতে পারেন। সমুদ্রের পাশে উঁচু ক্লিফ, সুন্দর সূর্যাস্ত আর শান্ত পরিবেশ ভারকালাকে অন্যরকমভাবে সুন্দর করে তুলেছে।

থেক্কাডি ও গাভিঃ

জঙ্গল ও ওয়াইল্ড লাইফ ভালোবাসলে থেক্কাডি এবং গাভি আপনার জন্য। পেরিয়ার অঞ্চলের প্রকৃতি, জঙ্গলের পরিবেশ এবং নৌকাভ্রমণ এই ট্রিপে অন্যরকম অভিজ্ঞতা যোগ করবে। গাভি তুলনামূলকভাবে আরও শান্ত এবং অফবিট।

কোথায় থাকবেন?

হোমস্টে/হাউসবোটঃ

মিস্টি ভিলে হোমস্টে — শান্ত পরিবেশে থাকার জন্য ভালো একটি অপশন। খরচ পরবে প্রায় মাথাপিছু ৩,৫০০–৪,০০০ প্রতি রাতের। কেরালা ট্রিপকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় করতে চাইলে আলাপ্পুঝায় অন্তত এক রাত হাউসবোটে থাকা যেতে পারে। খরচ পরবে এক রাতের জন্য ৯,০০০–১২,০০০ থেকে শুরু হতে পারে। কেরালা ট্যুরিজম – এর অফিসিয়াল তালিকাতেও এপ্রুভড হাউসবোট এর আলাদা তালিকা রয়েছে। নিরভান হোমস্টে ভারকালার হেলিপ্যাড রোড এলাকায়, সমুদ্র ও ক্লিফের পরিবেশের কাছাকাছি থাকার জন্য ভালো অপশন। এখানে এক রাতের খরচ প্রায় ৩,০০০–৫,০০০ পরবে বাকি ডিটেলস জানতে হলে আপনি হোটেলের ওয়েবসাইট চেক করে নিতে পারেন।

কী খাবেন?

কেরালায় গিয়ে স্থানীয় খাবারের স্বাদ না নিলে ভ্রমণ যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কলাপাতায় পরিবেশিত কেরালা আপ্পাম, মটন স্টু, পুট্টু, পরোটা এবং বিভিন্ন মাছের পদ অবশ্যই চেখে দেখতে পারেন।

পাহাড়, ব্যাকওয়াটার, সমুদ্র, জঙ্গল আর দক্ষিণ ভারতের নিজস্ব সংস্কৃতি সব মিলিয়ে কেরালা শুধু একটি ভ্রমণস্থান নয়, বরং অনেক রকম অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ। তাই এবারের পুজোয় যদি একটু দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, কেরালা হতে পারে আপনার পরবর্তী ডেস্টিনেশন।

Related Posts