অনেক দিনেরর খাওয়াদাওয়ার কঠোর অনুশাসন, লাগাদার এক্সারসাইজ়ের ফলে আপনি ফিরে পেয়েছেন আপনার কাঙ্খিত বডি ওয়েট, মুক্তি হয়েছে ওবিসিটি থেকে। কথাতেই আছে কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। এদিকে অফিসের ডেডলাইন, সংসারের ঝামেলা। আর তাতেই আপনার হাত আবার চলে যাচ্ছে পেস্ট্রি, চকোলেটের দিকে। একেই আমরা সোজা ভাষায় বলে থাকি স্ট্রেস ইটিং। এতদিনে পরিশ্রমের ফল মাঠেই মাটি। এই ধরনের খাবারই কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমার সবচেয়ে বেশি কারণ।

এই স্ট্রেস ইটিং এর ভিলেন ব্রেনের একটি কেমিক্যাল, নাম সেরোটনিন। অতিরিক্ত স্ট্রেসের সময় ব্রেনে এই ক্যামিক্যালের প্রয়োজন বাড়তে থাকে, তখন কার্বহাইড্রেট সমৃদ্ধ, মিষ্টি জাতীয় খাবারের ক্রেভিং বাড়তে থাকে। মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রায় দু ঘণ্টা পরই যখন ব্লাড সুগার আবার কমে যায়, তখন মস্তিষ্ক থেকে আবার খিদে পাওয়ার সিগন্যাল আসতে থাকে। কেবল স্ট্রেসেই নয় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ওয়েট লস জার্নিটা সফল হওয়ার পরে আবার হঠাৎ করেই ডায়েটের অনুশাসন ভেঙে ফিরে যাওয়া হয় আগের রুটিনে। তাতেও ক্ষতিকারক ফ্যাট শরীরে জমতে থাকে। তা হলে? কেবলই কী অনুশাসন? তাহলে মনের ক্ষিদে মিটবে কীভাবে?

চিনির বদলে:
যখনই মিষ্টি খাবার ক্রেভিং হবে, তখন চকোলেট, পেস্ট্রি জাতীয় খাবারকে ডিচ করে দুই অথবা তিন চামচ গ্লুকোজ় খেয়ে নিন। এর তীব্র মিষ্টতা সেরোটনিনের মাত্রাকে সঙ্গে সঙ্গে কমিয়ে দেয়। যার ফলে ক্রেভিং এর মাত্রা ও কমে যায় শরীরে কোনও ক্ষতি না করেই। ৪০ ক্যালোরি থাকে প্রতি চামচ গ্লুকোজ় পাউডারে। অর্থাৎ আপনার বিঞ্জ ইটিং এর দাবিও মিটল। অথচ পেস্ট্রি, চকোলেট, চিপসের ৫০০-৬০০ ক্যালোরি থেকেও শরীর বাঁচল। এই ধরনের ক্ষতিকারক স্ন্যাকস ঘরেই আনবেন না। তার বদলে গ্লুকোজ় পাউডার যেমন রাখতে পারেন, তেমনই খেজুরও সুইট ক্রেভিং-এর জন্য খুবই ভাল অপশন।

চিট ডে:
বিকেলের রাস্তার ধারে ফুচকা অথবা ভেলপুরি অথবা কোনও রেস্টুরেন্টে ভারি ডিনার, কিংবা ছুটির দুপুরে বাড়িতে লুচি আর খাসির মাংস। ডায়েট মানেই এই সকল স্বর্গীয় সুখ থেকে বঞ্চিত হওয়া নাকি! মোটেই না। আপনি মাসে একবার বা দু বার আপনার পছন্দের খাবার খেতেই পারেন। এতে ওয়েট লসের প্রসেস বন্ধ হয় কেবল, নতুন কোনও ফ্যাট জমে না। ধারাবাহিক ভাবে ডায়েটের বাইরে খাবার অথবা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারেই অতিরিক্ত ফ্যাট জমে। তাই সারামাস অনুশাসনে থাকলে একবার দুবার চিট করাই যায়।

ডায়েটে অনুশাসন:
আপনার ওয়েটলস জার্নি যদি সফল হয়, তাহলে তা মেনটন করার দরকার। তার জন্য দরকার নিয়মাবর্তিতার। ব্রেকফাস্ট না খাওয়া, লাইট লাঞ্চ, হেভি ডিনার এই ধরনের প্রি ডায়েটের অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার ভুল করবেন না। খাওয়ার সময়টা ওয়েট মেনটেন করার জন্যও খুবই জরুরি। শাকসবজি, ফল খান। যদি কোনওদিন ডায়েটের রুটিন ভাঙে, তাহলে ফল বা স্যালাড দিয়ে রাতের খাবার সেরে সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারেন। তবে সবচেয়ে জরুরি এক্সারসাইজ়। খাবারের সঙ্গে কখনও চিট করলেও শরীরচর্চার সঙ্গে চিট করা নৈব নৈব চ। রোজ নিয়ম করে শরীর চর্চা আপনাকে করতেই হবে। সঠিক কাঙ্খিত ওজন পাওয়ার পরও জিমে হোক বা ঘরে এক্সারসাইজ়কে অভ্যাস বানিয়ে ফেলুন। এর ফলে আপনার মেটাবলিক রেট ঠিক থাকবে।
তাহলে? সঠিক ডায়েট নিয়মিত শরীরচর্চাকে রোজকার জীবনের অভ্যেস বানিয়ে নিন। তাহলে অনুষ্ঠান হোক বা হঠাৎ করে এসে পড়া স্ট্রেস একটু আনহেলদি বা অয়েলি খাবার কিন্তু চলতেই পারে।