jamdani

পুরনো লেপ-কম্বল ক্লিন করবেন কীভাবে

শীত চলে এলো, লেপ-কম্বল ব্যবহার থেকে শুরু করে ধোয়া, পরিচর্যা, সংরক্ষণ সবই একবার করা হয়। তাই এই কাজগুলো করতে হবে নিয়ম মেনে, যাতে বছরের পর বছর লেপ-কম্বল টিকে থাকবে। জেনে নিন কীভাবে পুরনো লেপ-কম্বল নামানোর আগে ঘরেই ক্লিন করে নেবেন…

  • দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকলে লেপ-কম্বলে ময়লা পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে আগে ময়লা যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে নেবেন। হাত দিয়ে ঝেড়ে বা শলার ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে বাড়তি ময়লাটুকু সরিয়ে নিতে পারেন। দু-তিনজন মিলে লেপ বা কম্বল খাড়া করে ধরে রাখলো আর আরেকজন ঝেড়ে-পিটিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।
  • অথবা মাটিতে মাদুর পেতে তার উপর রেখেও ঝাড়তে পারেন। চাইলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারও কাজে লাগাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভ্যাকুয়ামের মুখে নাইলনের পাতলা জাল পেঁচিয়ে নিন। এরপরে লেপ-কম্বলের উপর জোরে না ঘষে হালকাভাবে ভ্যাকুয়াম চালান।
  • সবচেয়ে ভালো হয় যদি পুরনো ব্রাশ দিয়ে ময়লা ঝাড়েন। পুরনো ব্রাশের ব্রিসলস অনেক নরম থাকে। তাতে কোন ক্ষতি ছাড়াই ফেব্রিক ক্লিন করা যায়। শক্ত জায়গায় বিছিয়ে কম্বলের একদিকে ধীরে ধীরে ব্রাশ করবেন। এতে ভিতরে আটকে থাকা ধুলোবালি বেরিয়ে যাবে।
  • ব্যবহারের আগে লেপ-কম্বলের বোঁটকা গন্ধ দূর করে নিন, অনেকটাই ফ্রেশ হয়ে যাবে। কড়া রোদ কাঁথা-কাপড়ের গন্ধ দূর করার জন্য সর্বোত্তম। তাই শুকনো, রোদ ও বাতাস চলাচল করবে এমন জায়গায় মাদুরে লেপ-কম্বল বিছিয়ে রাখতে পারেন। ড্রায়ার দিয়েও গন্ধ দূর করতে পারেন।
  • লেপ-কম্বল কখনোই নোংরা জায়গায় রাখবেন না। বা এমন কোন জায়গায় রাখবেন না যেখানে ময়লা-আবর্জনা বেশি ওড়ে। পরিষ্কার, সমতল জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখুন। অব্যবহৃত খাট হলে বিছিয়ে সংরক্ষণ করতে সুবিধা হবে। কভার বা বেডশীট দিয়ে ঢেকে রাখতে পারলে আরো ভালো হয়।
  • প্রফেশনাল স্পট ক্লিনিং তো দাগ তোলার জন্য আছেই। এক্ষেত্রে আপনি ঘরে বসেই কম্বলের দাগ তুলতে পারবেন। তবে তুলোর লেপ ড্রাই ক্লিন করতে গেলে সেটা ভিতরের তুলার ক্ষতি করতে পারে। তাই লেপের দাগ তোলার আগে ঐ জায়গাটার তুলা সরিয়ে নিতে হবে আগে।
  • দাগ তুলতে স্বাভাবিক ঠান্ডা জলের সঙ্গে মাইল্ড ডিটারজেন্ট, বেবি শ্যাম্পু, ক্লাব সোডা বা অক্সিজেন ব্লিচ ব্যবহার করতে পারেন। তবে লেপ-কম্বল উলের বা সিল্কের হলে ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। আজকাল বাজারে অনেক স্টেইন রিমুভার পাওয়া যায় যা দিয়ে সহজে শীতের প্রোডাক্ট স্পট ক্লিন করা সম্ভব।

মেশিনে কম্বল ধোয়ার নিয়মঃ

  • মেশিনে ওয়াশ করার জন্য অবশ্যই ঠান্ডা জল এবং রং ও গন্ধবিহীন মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন।
  • মেশিন অবশ্যই জেন্টল সাইকেলে সেট করে নিবেন।
  • ওয়াশিং মেশিনে জলে ভরে তার সঙ্গে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে নিন। তারপর কম্বল দিয়ে দিন।
  • রং ওঠার ভয় থাকলে কালার ক্যাচার ঢেলে দিতে পারেন, যা বাজারেই কিনতে পাবেন।
  • ওয়াশিং মেশিনে কম্বল ২-৩ মিনিটের বেশি কখনোই ক্লিন করবেন না বা রাখবেন না।

হাতে কম্বল ধোয়ার নিয়মঃ

  • হাতে ধোয়ার জন্য মেশিনের জন্য ব্যবহৃত ডিটারজেন্ট এবং ঠান্ডা জল ব্যবহার করবেন।
  • বড় গামলা বা বাথটাবে পরিমাণমতো জল ও ডিটারজেন্ট ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • এরপরে কম্বল ডুবিয়ে ১০-১৫ মিনিট হাতে আলতোভাবে কাচুন, তবে মোচড়াবেন না। কম্বল যাতে জলে পুরোটা ডুবে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
  • ১৫ মিনিট পরে জল ফেলে দিয়ে ফ্রেশ জল নিয়ে তাতে আধা কাপ হোয়াইট ভিনিগার মিশিয়ে নিন। এরপরে কম্বল আবার ওতে ডোবান। ভিনিগার আপনার কম্বল থেকে বাড়তি ডিটারজেন্ট ধুয়ে ফেলবে এবং কম্বলের রং ঠিক রাখবে।
  • যতক্ষণ পর্যন্ত ডিটারজেন্ট পরিষ্কার না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবেই ভিনিগার দিয়ে ধুতে থাকুন।

    মনে রাখবেনঃ

    • হ্যান্ড-ওয়াশিং বা মেশিন ওয়াশিংয়ের গরম জল ব্যবহার করা নিষেধ।
    • তাঁতের বা অ্যান্টিক লেপ-কম্বল ধোয়ার খুব একটা দরকার হয় না। সেগুলো কয়েক বছর পরপর ক্লিন করলেই যথেষ্ট।
    • লেপ-কম্বল কখনোই এক ভাঁজের উপর বেশিদিন রাখবেন না। মাঝে মাঝে বের করে ভাঁজ পাল্টে দিবেন। বেশিদিন এক ভাঁজে থাকলে লেপের তুলোর বুনট ভেঙে যায়, কম্বলের শেপ নষ্ট হয়।
    • মাঝে মাঝে বের করে রোদে দিলে গন্ধ কম হবে, অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কমবে, এবং ভালো থাকবে বহুদিন।
    • যদি আলমারি, ওয়ারড্রোব, বা সিন্দুকে লেপ-কম্বল রেখে দিতে চান, তাহলে অবশ্যই ন্যাপথলিন বা নিমপাতার পুঁটলি ব্যবহার করবেন। তাতে পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকানো যাবে।

    Trending

    Most Popular

    
    Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes