jamdani

বউ যখন বড়

‘পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা’- আগেকার দিনে এটাই ছিল বিয়ের মূল উদ্দেশ্য। সন্তানের জন্ম দিতে দিতে পুরোদস্তুর একটা ফুটবল টিম বানিয়ে ফেলাটাই ছিল রীতি। এর জন্য গর্ভধারিণীকে হতেই হত বড় দৌড়ের ঘোড়া। স্বামীর তুলনায় বয়সে বেশ খানিকটা ছোট স্ত্রী যখন সন্তানের জন্মে ইতি টানতেন তখনও তাঁকে থাকতে হত পূর্ণ সক্ষম। তবে চেনা ছক, ফ্যামিলি কনসেপ্ট সব কিছুই বদলে গেছে আধুনিক কালে। প্রয়োজনের প্যাটার্নটাও সময় পালটে নিয়েছে নিজের মতো করে। সেলিব্রিটি থেকে সাধারণটি, সবাই বাঁচতে চায় নিজের খুশিতে। বয়সে বড় স্ত্রী এখন আর আজব কাহিনি নয়। তবে চেনা ছক ভাঙার আগে দরকার আছে ভাল-মন্দ বিচারের। আসুন জেনে নিই সুবিধে, অসুবিধে কমফোর্ট জোনগুলি-

সুবিধেঃ

  • স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পারস্পরিক কেয়ারিং ব্যাপারটি অন্তত গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী যদি বয়সে বড় হয় তবে অনেক ছোটখাটো বিষয়ে পুরুষটি তার স্ত্রীর কাছ থেকে সেই যত্ন পেয়ে থাকেন, যেটি নিজের মায়ের কাছে পেয়েছেন।
  • বিবাহিত জীবনে স্বামী, স্ত্রী ছাড়াও সংসারের অন্যান্য মানুষের অস্তিত্ব থাকে। সেক্ষেত্রে স্ত্রী বয়সে বড় হলে সংসারের অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের মনোভাব চট করে বুঝতে পারেন এবং সেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে স্বামীকে আগলে রাখতে সুবিধে হয়।
  • স্বামী যদি প্রফেশনালি অত্যন্ত সাকসেসফুল হন, সেক্ষেত্রে তার পক্ষে নিজের ফিল্ডে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর সহযোগিতা খুব প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সেটি পেতে পারেন।
  • সমীক্ষা বলছে পুরুষের তুলনায় নারীর গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার বিবাহিত জীবনে নারীটি যদি পুরুষটির থেকে বয়সে বড় হন তাহলে তাঁদের বিবাহিত জীবনে একসঙ্গে থাকার মেয়াদকাল অনেকটা দীর্ঘ হয়।

অসুবিধেঃ

  • স্ত্রী বয়সে বড় হলে, তিনি যে বয়সে মা হতে চান, দেখা যায় স্বামীটি তখন অনেক কম বয়সের থাকেন। ফলে তার মধ্যে পিতৃত্বের ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • স্বাভাবিক যৌনজীবন ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মানসিক বন্ধন যদি দৃঢ় না থাকে তাহলে এক্ষেত্রে বিবাহবন্ধন আলগা হয়ে যায়।

বয়সে ছোট পুরুষটি যা ভাববেন

  • স্ত্রী বয়সে বড় হলে ডিসিশন মেকিং-এ প্রায়োরিটি পেতে চাইবেন স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক সুপার ইগো প্রকাশ করলে চলবে না।
  • প্রথা ভেঙে উলোট পুরাণ বিয়েতে পারিবারিক প্রতিরোধ বেশি আসবে আপনার বাড়ি থেকেই। এই সিচ্যুয়েশন হ্যান্ডেল করতে হবে আপনাকেই।
  • পেরেন্টাল ডিউটিতে সমান অংশ নিতে হবে। বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও আর একটি বাচ্চা ভাবলে চলবে না।
  • মেনোপজ আসার আগে থাকতে মহিলাদের মেন্টাল ডিপ্রেশন, অস্থিরতা, অকারণেই খিটমিট প্রবণতা আসতে পারে। বয়সে বড় স্বামীরা এটি হ্যান্ডেল করতে পারেন স্নেহ দিয়ে। বয়সে ছোট হলেও ওই সময়ে আপনাকেও একই রোল প্লে করতে হতে পারে। তখন পিছিয়ে আসলে চলবে না।
  • ম্যচিওরিটিতে মুগ্ধ হয়ে বিয়ে করলেন, এরপর ছটফটে কাউকে দেখে পছন্দ হল। তখন কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো মানসিক জোর থাকা চাই। মনে রাখতে হবে বয়সে বড় হলেও স্ত্রী কিন্তু আপনাকেই নির্ভর করেন।

বয়সে বড় নারীটি যা ভাববেন

  • স্বামী যদি বয়সে ছোট হন তাহলে তাঁর মধ্যে শুরুতেই ফাদার ফিগার খুঁজতে গেলে হতাশ হতেই হবে। এটি জেনে এবং মেনে নিয়েই সম্পর্কে এগোন।
  • মুহুর্তের আবেগ নয়, নিজের সম্পর্কে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস থাকলে তবেই এ ধরণের সম্পর্কে এগোন।
  • দাম্পত্য সম্পর্কে সেক্স একটি ভাইটাল রোল প্লে করে। এই বিষয়টিতে সচেতন হতে হবে প্রথম থেকেই।
  • নিয়মিত বিউটি রেজিম মেইনটেইন করুন, যুগের সঙ্গে নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস স্ট্রং হবে।

 

এবার জেনে নিই তারকাদের মধ্যে এরকম কিছু বিয়ের কথা-

সুনীল দত্ত এবং নার্গিস- এক বছরের নার্গিসের সঙ্গে যখন গাঁটছড়া বাঁধছেন সুনীল, তখন নার্গিস সুনীলের চাইতে অনেক বড় তারকা। ১৯৫৭ সালে ‘মাদার ইন্ডিয়া’র সেটে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন থেকে নার্গিসকে বাঁচান সুনীল। সম্পর্কের সেই শুরু। একবার নার্গিসকে লিখেছিলেন ‘ডার্লিং, রাগ কোরো না, মনে রেখ আমি যদি মরেও যাই, আমি তোমার সঙ্গে স্পিরিচ্যুয়ালি থাকব। আমি তোমার সঙ্গেই জড়িয়ে থাকব এমনভাবে যে, মৃত্যুও আমাদের আলাদা করতে পারবে না সম্পূর্ণভাবে’। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুনীল বোধহয় মনে রেখেছিলেন কথাগুলি।

পরমিত শেট্টি এবং অর্চনা পূরণ সিং- সাত বছরের ছোট পরমিতের সঙ্গে যখন সম্পর্ক হয় অর্চনার, একবারের অসফল বিয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে। চার বছর ধরে তাঁরা লিভ ইন রিলেশন করার পর বিয়ে করেন। প্রথমটায় পরমিতের বাড়ি থেকে আপত্তি ছিল এই বিয়েতে। এখন কুড়ি বছরেরও বেশি সুখী দাম্পত্যে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে তাঁদের সেদিনের সিদ্ধান্ত ছিল একদম সঠিক। অর্চনার দাবি ‘যদি বয়সটাই বিয়ের ক্ষেত্রে প্যারামাউন্ট ক্রাইটেরিয়া হয়, তাহলে সঠিক এজ রেশিওতে বিয়ে করা দম্পতিদের কখনও সম্পর্ক ভাঙত না’।

অভিষেক বচ্চন এবং ঐশ্বর্য রাই- দু’বছরের বড় ঐশ্বর্যাকে ২০০৭ সালে বিয়ে করেন অভিষেক। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাঁরা দুজনেই তখন যথেষ্ট পরিণত এবং অভিজ্ঞ। ফলে সিদ্ধান্তটা একেবারেই ছেলেমানুষি আবেগপ্রসূত ছিল না। আর তার প্রমাণ তো সর্বজনবিদিত। মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে তাঁদের সুখী জীবন বহুচর্চিত।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes