jamdani

স্ট্রেস? চাপ নেবেন না, উপায় আছে

সকাল থেকে সন্ধে এখন যে শব্দটা প্রায় সকলকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে তার নাম স্ট্রেস। এই স্ট্রেসের ফলে সাধারণ মানুষ একদিকে যেমন অসুস্থ আর হতাশগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, তেমনই এই হতাশা চরমপন্থা বেছে নেওয়ার দিকে পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে চলেছে। এই কর্মব্যস্ত ইঁদুরদৌড়ের সমাজে কেউই জোর গলায় বলতে পারবে না তার স্ট্রেস নেই। স্ট্রেস যেমন একটা সমস্যা, তেমনই তার সমাধানও আছে।

স্ট্রেস আদতে কী?

স্ট্রেস হল একপ্রকার শারীরিক বা মানসিক অসংলগ্নতা। এর ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পাওয়া, হৃদরোগ, মাথার যন্ত্রণা ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। স্ট্রেসের জন্য মূলত দায়ী হল হরমোন, কর্টিসোল হরমোন এবং অ্যাড্রিনালিন (এপিনেফ্রিন ও নরএপিনেফ্রিন)।

স্ট্রেসের ফলে কী হয়?

স্ট্রেসের সমস্যায় কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। যেমন, সাইকোলজিক্যাল-ইমোশনাল সমস্যা, ডিমেনশিয়া, ডিপ্রেশন প্রভৃতি। স্ট্রেস যত বাড়তে থাকে মানুষের হতাশাও ততই তীব্র হতে থাকে। এটা তো গেল স্ট্রেসের সাধারণ মানসিক ফলাফল, তবে স্ট্রেসের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা যায়। এছাড়াও শারীরিক সমস্যা যেমন- মাথা ধরা, ডায়রিয়া, বমিভাব ইত্যাদি সমস্যা হয়। এমনকি এর প্রভাবে অনেকের ধূমপান করা বেড়ে গিয়ে শরীরের ক্ষতি ডেকে আনে।

স্ট্রেস আমাদের দৈনিক জীবনের সঙ্গী। স্ট্রেস যদি ক্রমাগত বেড়েই যায় তাহলে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, মেয়েদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম দেখা যায়। বিবাহিত জীবনে সেক্সুয়াল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। স্ট্রেসের তীব্রতা অতি মাত্রায় বেড়ে গেলে মানুষ মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়।

সাধারণত মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার আগে, পরে বা কাজের মধ্যে যারা ক্রমাগত স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন তাদের সেরোটোনিন এবং ডোপামাইন নামক হরমোন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এটা কম হয়। এর ফলে স্ট্রেস আক্রান্তরা মানসিকভাবে ভীত হয়ে পড়েন। এরকম বেশি হলে অ্যান্টি-সেরোটোনিন এবং অ্যান্টি-ডোপামাইন দেওয়া হয়। তবে যাবতীয় সমস্যার ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।

স্ট্রেস কমাতে ডায়েট

  • সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে লেবুজল খেয়ে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন।
  • এরপর বিস্কুট সহযোগে গ্রিন টি খান। গ্রিন টি-তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের জন্য ভালো।
  • কফি বেশি খাবেন না।
  • ওজন বেশি হলে প্রাতঃরাশে ওটস, ডালিয়া খেতে পারেন। ওজন সাধারণের চেয়ে কম হলে বাড়িতে বানানো আলু পরোটা, রুটি, সবজি, ধোকলা, স্টিমড মোমো, ইডলি খেতে পারেন। তবে বেশি মশলা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • প্রাতঃরাশের কিছুক্ষণ পর ১টা আপেল, পেয়ারা বা কমলা লেবু খান।
  • দুপুরে সাধারণ চালের ভাত, সবজি, ডাল, মাছ খেতে পারেন। তবে তৈলাক্ত মাছ খাবেন না। বিশেষত ইলিশ, চিংড়ি কম খাওয়াই ভালো। মাংস সপ্তাহে দু’দিন অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। সঙ্গে টক দই (৫০ গ্রাম) খান।
  • বিকেলে মুড়ি খেতে পারেন।
  • রাতে নিরামিষ খাওয়াই ভালো। অল্প ভাত, রুটি মিশিয়ে খেতে পারেন। সঙ্গে ছোলা, মটর, পনির দিয়ে সবজি খান। সঙ্গে ১ পিস মাছও খেতে পারেন।
  • বাইরের জাঙ্ক ফুড, তেলে ভাজা একদমই খাওয়া উচিত নয়। কারণ উচ্চ ক্যালোরি থেকে স্ট্রেস বাড়তে পারে। তাই স্ট্রেস কমাতে এবং ফিট থাকার জন্য সাধারণ খাওয়া-দাওয়াই বাঞ্ছনীয়।

স্ট্রেস কমবে কীভাবে

  • স্ট্রেস কমাতে এক্সারসাইজ, ডায়েট এবং লাইফ স্টাইল –এই বিষয়গুলির ওপর জোর দিতে হবে।
  • স্ট্রেস কমাতে কমপক্ষে ৭-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।
  • স্ট্রেস কমানোর জন্য মেডিটেশন খুব উপকারি।
  • নিয়মিত যোগাসন করুন, যেমন – সূর্য নমস্কার, এতে শরীরের ফ্যাট এবং মানসিক চাপ কমে। এছাড়াও অনুলোম-বিলোম করা যায়। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা, স্কিপিং, জগিং ইত্যাদি করুন।
  • প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনতে হবে। লাফিং ক্লাবে যোগ দিলে কিছুটা উপকার পেতে পারেন।
  • ডায়েটে কিছু নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যেমন বেশি পরিমাণে নুন খাওয়া উচিত হয়। মশলা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। এর বদলে গ্রিন টি, লেমন টি খান। বেশি করে সবুজ শাক-সবজি ও মরশুমি ফল খান।

*আমাদের জীবনে স্ট্রেস থাকবেই, কিন্তু সঠিকভাবে মোকাবিলা করলে তা আর মাথায় চেপে বসবে না।

 

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes