jamdani

অদ্বিতীয়া যিনি।। গুণেও সরস্বতী।। সোয়েতা দত্ত

তানিয়া চক্রবর্তী

স্ব স্ব ক্ষেত্রে ওদের কাজই গুণমুগ্ধদের সংখ্যা বাড়িয়েছে। ওরা আমার আপনার সকলেরই পরিচিত। এই অদ্বিতীয়াদের শ্রী ওদের গুণেরই প্রতিচ্ছবি। বাগদেবীর আরাধনার দিনে তাই এই গুণে সরস্বতীদের আরও একবার আপনাদের সামনে তুলে ধরা। সেই  সরস্বতীদের সারণীতে রয়েছেন দময়ন্তী সেন, সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তি মল্লিক, শ্রেয়া ঘোষাল ও সোয়েতা দত্ত।  দময়ন্তী সেন, সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তি মল্লিক, শ্রেয়া ঘোষালকে নিয়ে আলাপচারিতায় রণবীর ভট্টাচার্য আর সোয়েতা দত্তের সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছেন তানিয়া চক্রবর্তী।

ব্ষ্টি ভেজা সকালে মন খারাপ সোয়েতার । হবারই কথা, পাখিগুলোও যে ডাকছে না। ব্ষ্টির চোটে পাখিগুলো কে জানে কোন মগডালে ঘাপটি মেরে বসে আছে। ডাকাডাকির কোনও বালাই নেই! সেই কারণেই মন খারাপ সোয়েতার।

এই মন খারাপের কারণটা জানতে হলে চলুন একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাই, গত বছরের ১০ই জুন। মাত্র ২ মিনিটি ৩৪ সেকেন্ডে নয় নয় করে ১১১ টা পাখির ডাক শুনে তাদের প্রজাতি গড় গড় করে বলে দিয়েছিল সোয়েতা। তার স্বীকৃতিও মিলেছিল সে বছরেরই রথ যাত্রার দিনে। সোয়েতার এই প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিয়ে স্মারক উপহার পাঠিয়ে ছিল ইন্ডিয়া বুক অফ রের্কডস। রীতিমত এটাকে বিশ্ব রের্কড আক্ষা দিয়ে। এখানেই থামেনি, তার কদিন পরেই ২০ জুলাই ” ইণ্টারন্যাশণাল বুক অফ রের্কডস ” সোয়েতাকে শংসাপত্র আর মেডেল পাঠিয়েছিল সোয়েতার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা টাউনের জয়ন্তীপুরে বাড়িতে। এবার সোয়েতার বয়সটা বলি, ৫ বছর ৮ মাস। স্থানীয় জনা ইন্টারন্যাশণাল ইস্কুলের সিনিয়ার কেজিতে পড়ে।

সোয়েতা দত্তর বাবা অভিজিত দত্ত স্থানীয় মল্লেশ্বরপুর সারদা বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের অংকের মাস্টারমশাই। বেশ গর্বের সঙ্গেই তিনি জানালেন, ” জানেন তো ও ইতি মধ্যেই গোটা দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখির প্রজাতির ডাক শুনে তাদের চিনে নিয়েছে। আর গোটা বিশ্বে আমার কন্যাই কনিষ্ঠতম “।

সোয়েতা কিন্তু বরাবরই পশুপাখিদের নিয়ে আগ্রহী। ছটফটে এই একরত্তি পড়াশুনাতেও যথেষ্ট ভালো। ওর কান যে কতটা স্পর্শকাতর তারও ইঙ্গিত মেলে আকছা্র। একবার শুনে অনেকের ফোন নাম্বার ওর মুখস্থ। আর হাতের কাছে কারোর ফোন পেলে সেই নাম্বার ডায়াল করে শুরু হয় সোয়েতার বকবকানি। পাখির ডাক শুনে প্রজাতী চেনা তাও আবার ঐ অল্প সময়ে ওকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তো দিয়েছে বটেই, কিন্তু তার পাশাপাশি সোয়েতা ঠাকু্মার সঙ্গে রুটিও বেলে, নিজে সাজগোজও করে আবার ছবিও আঁকে। বলতে গেলে ও সারাদিনই ব্যস্ত। কত কাজ! পড়াশুনা, খেলাধূলা, বড়বড় কবিতা নিমেষে মুখস্থ করে আবৃত্তি করা, হারমনিয়াম বাজানো, নাচানাচি, সাইকেল চালানো সে কি কম কথা!

নয় নয় করে এই বিস্ময় বালিকার ঝুলিতে গোটা ১৫ পুরস্কার। যথার্থ অর্থেই গুণে সরস্বতী। হ্যাঁ, মাত্র ৫ বছর ৮ মাসেই। তাই সোয়েতার জন্য অদ্বিতীয়ার পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes