jamdani

ওঠো, এবার সময় এসেছে

১৫৯তম জন্মদিনেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তর শব্দখরচ করা যেতেই পারত। হয়তো হবেও তা, কিন্তু আমরা ঠিক সেই রাস্তায় না হেঁটে বরং জানা বা অর্ধেকটা জানা কিছু তথ্যই আরও একবার মনে করিয়ে দেব। যা হয়তো আখেড়ে এই বিশ্বজুড়ে চলা দুঃসময়ে আমাদের মনকে আরও শক্ত করবে, আমরা অবিচল থাকতে পারব লক্ষ্যপূরণে।

তখন স্বামী বিবেকানন্দ মার্কিন মুলুকে। ছোট একটা ব্রিজের উপর থেকে একদল ছেলে শটগান থেকে গুলি চালিয়ে নিচে নদীর জলে ভাসতে থাকা ডিমের খোলা ফাটাতে ব্যস্ত। অবশ্য প্রায় সবকটাই লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছিল। গোটাটাই দূর থেকে দেখার পর শেষমেশ স্বামীজি নিজেই ওদের কাছে এগিয়ে গিয়ে শটগান চেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন। হ্যাঁ, শটগানের নল তাক করে সবকটা ডিমের খোলা ফাটালেন। বলা বাহুল্য, মার্কিন ছেলেপুলের দলের প্রশ্ন এবং কৌতূহল দুটোই- কী করে এটা সম্ভব? স্বামীজির উত্তর ছিল, “তোমারা যা কিছুই করছ, পুরো মনটা তার মধ্যে নিয়ে যাও। ঠিক যেমন তোমরা শটগান থেকে গুলি ছুঁড়ছিলে তোমাদের মনটা শুধুমাত্র লক্ষ্য বা টার্গেটেই স্থির থাকবে। দেখবে একটাও মিস হবে না।” অতএব যেটা করা সেটাতেই পুরো মনোনিবেশ করা।

১৮৮৭ বারাণসী। স্বামীজিকে বাঁদরের তাড়াও খেতে হয়েছিল। দৌড়ে পালানোও শুরু করেছেন, সে সময় স্থানীয় একজনের চিৎকারে শেষমেশ সাহস করে ঘুরে দাঁড়ান। বিবেকানন্দর ওই হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ানো দেখে বাঁদরের দলও হতচকিত হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ঘটনা সম্পর্কে স্বামীজির ব্যাখ্যা ছিল, সমস্যা হলে তার মুখোমুখি হতে হবে। পালানো কোনও সমাধান নয়, সাহস নিয়ে মোকাবিলাই পথ।

২০২২-এর ভারতে আজ আমরা যে অবস্থার মুখোমুখি তাতে সাহস নিয়ে মোকাবিলাই বোধহয় অন্যতম পথ। আর সচেতনতা তো বলা বাহুল্য।

“ওঠো এবং ততক্ষণ অবধি থেমো না, যতক্ষণ না তুমি সফল হচ্ছো” – স্বামী বিবেকানন্দ

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes