jamdani

শীতল ষষ্ঠীর নেপথ্যকথা

আগামীকাল শীতল ষষ্ঠী। যা লোকমুখে এককথায় গোটা ষষ্ঠী নামেই পরিচিতবাঙালির অন্যান্য ষষ্ঠী পুজোর মতো এটাও একটা ষষ্ঠী। তবে পুজো-রীতি-রেওয়াজের বাইরেও এই ষষ্ঠী পালনের একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। শীত শেষে বসন্তের আগমন কালে অনেকেরই অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়। পাশাপাশি বসন্ত রোগও হানা দেয় এই সময়ে। বলা হয়, এই ষষ্ঠী বসন্তকে রোগকে প্রতিহত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তবে শুধুমাত্র বসন্তকালে নয়, বছরের যে কোনও সময়েই বসন্ত রোগ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জানুয়ারিজুন পর্যন্ত এই রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। তাই অনুকূল আবহাওয়া এই ভাইরাস সক্রিয় হয় ওঠে। এক্ষেত্রে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে বলা হয়। তাই শীতল ষষ্ঠী পালন করা হয় শরীর ঠাণ্ডা রাখতেই। যাতে বসন্ত রোগ না হয়।

বসন্ত পঞ্চমীর দিন সন্ধেবেলা গোটা মুগ ডাল, গোটা রাঙা আলু, গোটা বেগুন, গোটা মাখন সিম, গোটা কড়াইশুঁটি, শিস পালং, গোটা আলু ইত্যাদি পরিষ্কার করে ধুয়ে বিশাল হাঁড়িতে রান্না করা হয়। এগুলো সেদ্ধ হলে হাঁড়ি নামিয়ে ভাত রান্না করা হয়শেষে সজনে ফুল ভাজা এবং টোপা কুলের চাটনি রাঁধা হয়রান্না শেষ হলে সেগুলো আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়। পরের দিন সকাল সকাল হয় ষষ্ঠী পুজো। তারপর হয় রান্না ঘরের শি-নোড়ার পুজো। ফুল, প্রসাদ সহযোগে শিল-নোড়ার পুজো করে দইয়ের ফোঁটা দেওয়া হয় সেই দই-ই ছিটিয়ে দেওয়া হয় আগেরদিন রান্না করা খাবারের উপর। তারপর সপরিবারে খাওয়া হয় ওই ঠাণ্ডা খাবার। এমনকি রান্না করা ভাতেও জল ঢেলে খাওয়ারই নিয়ম রয়েছে।

দেখে নিন গোটা সেদ্ধ রেসিপিঃ

গোটা-ষষ্ঠীর দিন কিন্তু বাড়িতে আগুনের ব্যবহার করতে নেই। বাঙালিদের এই পার্বণ মূলত এদেশীয়দের মধ্যেই দেখা যায়ঠাণ্ডা এই খাবারদাবার স্বাদেও কিন্তু অপূর্ব হয়, সঙ্গে খাবারে ব্যবহৃত উপকরণগুলিও আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারিই বটে।

 

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes