jamdani

সিঙ্গল Mother

একদিকে সংসার, অন্যদিকে অফিসে হাজারো কাজ, আজকের নারীরা সবই সামলাতে সিদ্ধহস্ত। কিন্তু যখন সন্তানের দেখভালও কেবলমাত্র একাকী মায়ের ওপরেই বর্তায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে আরও অনেক দায়িত্ব। সেইসঙ্গেই সমাজের বিভিন্ন প্রতিকূলতা এবং মানসিক চাপ ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ে সেই মায়ের ওপর। সিঙ্গল মাদারদের সম্পর্কে সমাজ এখনও কী ভাবে? তাঁদের সম্পর্কে সমাজ এখনও কী ভাবে? তাঁদের সম্পর্কে সমাজ এখনও কী ভাবে? তাঁদের সম্পর্কে সম্পর্কে সমাজ কতটা ইতিবাচক? এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং একক মায়েরা কীভাবে তাঁদের মানসিক দিকটি সামলাবেন তা নিয়ে পরামর্শ দিতে এবার এগিয়ে এল অদ্বিতীয়া লেডিস স্পেশাল ।

সিঙ্গল মাদার-এর বিভিন্ন পরিস্থিতিঃ

পরিবারের যেই থাকুন না কেন, জীবনের কয়েকটা সময় এময় আসে যখন মায়ের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আর কারওরই হতে পারে না। আর মায়েদের সন্তানের প্রতি এই দায়িত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায় যখন তিনি হন একজন সিঙ্গল মাদার। মা এবং বাবা দুজনেরই প্রয়োজন মেটাতে হয় তাঁকে একা। স্বামীর ম্ত্যু অথবা বিবাহ বিচ্ছেদ, নানা কারণেই একজন মহিলাকে তাঁর সন্তানের দায়-দায়িত্ব সব একাই সামলাতে হয়। এইরকম পরিস্থিতিতে আপনার মনে হতেই পারে যে সব কিছু আপনার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আপনার ক্লান্তি, একাকিত্ব, হতাশা কোনও কিছুই আপনার সন্তানের সামনে প্রকাশ করবেন না।

আপনাকে বুঝতে হবে যে, এই পরিস্থিতির সঙ্গে যে কেবল আপনাকেই মানিয়ে নিতে হচ্ছে এমনটাই নয় আপনার সন্তানকেও করতে হচ্ছে নানা রকমের অ্যাডজাস্টমেন্ট।

কী করবেন?

  • বাচ্চাদের মধ্যে একটা অভাব থেকেই যায় বাবা-মা দু’জনকে একসঙ্গে কাছে না পাওয়ার জন্য। তাই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে কীভাবে সন্তানের এই অভাব দূর করবেন। সন্তানের সঙ্গে একটা সুন্দর বন্ডিং তৈরি করুন।
  • সন্তানের কাছে একজন আদর্শ ফিগার হয়ে উঠুন। ওর মধ্যে এমন একটা জায়গা তৈরি করুন যে জীবনের যে কোনও পরিস্থিতিতে যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারবেন এমন একটা বিশ্বাসও সন্তানের মধ্যে তৈরি করা খুবই জরুরি।
  • বেহিসেবি জীবনযাপন থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন সন্তানের কথা ভেবেই। কারণ আপনি যদি শুধুমাত্র টেলিভিশনের পোকা হন বা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে অধিক সময় স্পেন্ড করেন তবে সন্তান কিন্তু ডিসিপ্লিন্ড হবে না। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি কিন্তু আপনার সন্তানের প্রথম এবং প্রধান অভিভাবক।
  • আপনার এবং আপনার সন্তাদের চারপাশে একটা সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করুন। এমন বন্ধু থাকা ভালো যাঁর সঙ্গে আপনি এবং আপনার সন্তান দু’জনেই সহজভাবে মিশতে পারবেন।
  • সন্তানের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করুন। কাজের বাইরে যতটুকু সময় হাতে পাবেন সেটা ওর সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করুন। ছুটির দিনে ওকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যান। ও যেন কখনও মনে না করে যে আপনার কাছ থেকে অবহেলিত হচ্ছে।
  • আপনার যদি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে, তাহলে একটি বিষয় সবসময় খেয়াল রাখবেন। আপনার এবং আপনার প্রাক্তন স্বামীর মধ্যে যতই মনোমালিন্যই থাকুক না কেন, তা আপনার সন্তানের সামনে প্রকাশ করবেন না। এটা সবসময় মনে রাখবেন যে আপনার প্রাক্তন স্বামী কিন্তু আপনার সন্তানের বাবা। তাঁর বিরুদ্ধে জোর করে সন্তানের মনে কোনও খারাপ কথা জোর করে ঢোকাতে গেলে আপনার সন্তানের মানসিক ক্ষতি হতে পারে।
  • আপনি যদি চিকিৎসা ব্যবস্থার সাহায্য নিয়ে বিয়ে না করেই মা হন তবেও কিন্তু আপনি একজন সিঙ্গেল মাদার। সন্তান একটু বড় হলে তাকে বিষয়টি সম্পর্কে খোলাখুলি বলুন যাতে সে-ও সমাজে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
  • জীবন তো কোনও অবস্থাতেই থেমে থাকে না, তাই আপনি যদি নতুন কোনও জীবনসঙ্গী বাছার পরিকল্পনা করেন তবে অবশ্যই আগে প্রায়োরিটি দিন আপনার সন্তানের প্রয়োজন, ভাললাগা এবং খারাপলাগাকে। আপনি যাঁকে নিজের পরবর্তী জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁর সঙ্গে আপনার সন্তানকে আলাপ করিয়ে দিন, যাতে ওদের মধ্যেও সম্পর্কটা সহজ হয় এবং সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes