jamdani

অফিস পলিটিক্সকে বলুন, না!

অফিস বা কর্মক্ষেত্রে কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে পলিটিক্স! এই সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি। আরে, সোজা বাংলায় যাকে আমরা চুকলি কাটা বলি। এক্ষেত্রে মনে হতে পারে এই অফিস পলিটিক্সের কারনে অনেকে চাকুরিতে সুবিধাজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আবার অনেকে অন্যের পলিটিক্সের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হন। এই পলিটিক্সের কারণে অনেকের ব্যক্তিগত জীবনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানেরও এতে ক্ষতির পরিমান কম হয় না কিন্তু!

তাই অফিস পলিটিক্স থেকে নিজেকে দূরে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এর থেকে দুরে থাকা এত সহজ না। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত আপনাকে এর সঙ্গে নিজেকে জড়াতেই হচ্ছে।

অফিস পলিটিক্সে জড়ালেও সেটি যেন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিত্বের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যায় সেই প্রচেষ্টা করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগীতার পরিবেশ তৈরি করে এর সুফল লাভ করতে হবে।

কিভাবে অফিস পলিটিক্স থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন-

  • কারও সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব ও সংঘাত থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। ছোট একটা মনোমালিণ্য হয়তো আপনার কর্ম পরিবেশে স্থায়ী শত্রু তৈরি করে দেবে, যে আপনার অগোচরেই হয়ত ভুল ধরার কাজে সব সময় নিয়োজিত হয়ে যাবে।
  • সহকর্মী বা কলিগের কাজে নাক না গলিয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দিন। সে ফাঁকি দিচ্ছে, সেটা তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুঝে নেবে। আপনার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা তো দুরের কথা, সেটা নিয়ে ভাবারও দরকার নেই আপনার।
  • কারও কারও অভ্যেস থাকে অন্যের কাজের ভুল খোঁজা। খুঁজে পাওয়া ভুল ধরে, সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডাতে ভুল নিয়ে আলোচনা করে নিজেকে বড় প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু এই দুটি কাজই পলিটিক্স করার জন্য একটা নতুন শত্রু গ্রুপ তৈরি করে দেয় অফিসে।
  • এক্ষেত্রে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা, এবং নিজের কাজে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিজেকে অফিস পলিটিক্স থেকে মুক্ত রাখতে পারেন। কাজ দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করে অফিসের বড় কর্তাদের কাছে যোগ্যতার তালিকাতে ঢুকতে হয়।
  • অন্যের খারাপ দেখে কিংবা অফিসের কোনও সিদ্ধান্তে কিংবা কাজে অপ্রয়োজনীয় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখালেই বিপদ। আপনার চোখে কাজটি ভুল হলেও প্রতিক্রিয়া দেখাতে যতটা সম্ভব নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করুন। কিংবা যদি বলাটা জরুরী মনে করেন, তাহলে কর্পোরেট কালচার মেনেই ভদ্রতার সঙ্গে বিষয়টি নজরে আনতে পারেন, কিন্তু এক্ষেত্রে তর্ক করা যাবেনা।
  • অফিসে অন্যের ব্যক্তিগত কোনও সমস্যাতে নিজেকে যুক্ত করবেন না, এমনকি মতামতও দেবেন না। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন না। এতেই পলিটিক্স অনেকটা এড়াতে পারবেন।
  • অনেকেরই বদ অভ্যাস রয়েছে, অফিসে অন্যের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর। নিজের মধ্যে এই গুণ থাকলে সেটি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। এ ধরনের বদ অভ্যাস যাদের রয়েছে তাদের সঙ্গ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
  • আবার অনেকেই রয়েছেন যারা খবর চালাচালি করেন। এদের থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করুন। অফিসের পরিবেশ ভালো রাখতে আপনিই পারেন। পলিটিক্স থেকে দূরে থাকুন, দেখবেন মানসিক শান্তিও থাকবে। কাজে ফিরবে গতি।
  • যে অফিসে চাকুরি করছেন, সেই জায়গাতে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে নিজের সর্বোচ্চ মনোযোগ দিন ও একাগ্র থাকার চেষ্টা করুন। আপনার লক্ষ্য পূরণে সফল হলে অফিসে ভাল একটি পজিশন অর্জন করতে পারবেন।
  • নিজের কাজকে, কাজের পরিবেশকে উপভোগ করুন। নিজের সব সহকর্মীদের ভালবাসুন। সিনিয়রদের সম্মান করুন। সঙ্গে অবশ্যই জুনিয়রদের সাহায্য করুন। কাজকে ভালবাসলেই কাজে মনোযোগী হতে পারবেন, কাজে ডেডিকেশন বাড়বে। সব অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই কাজে ডেডিকেটেড কর্মকর্তাকে সবচাইতে বেশি ভালবাসে।
  • অনেকেই অফিসে নিজের অবস্থান ভাল করার জন্য সচেতনভাবে অন্যের বিরুদ্ধে পলিটিক্স করে। সচেতনভাবে হোক কিংবা অসচেতনভাবেই হোক কারও বিরুদ্ধেই পলিটিক্স করা যাবেনা, কারণ মাথাতে রাখতে হবে নোংরা পলিটিক্স করে বড় হওয়া যায়না। নিজের পলিটিক্সের জালে নিজেকেই জড়িয়ে পরতে হয়। কথাগুলো একটু ভেবে দেখবেন, পারলে কাজে লাগাবেন রোজকার কর্মজীবনে। তাই কর্মক্ষেত্রে পলিটিক্স বা চুকলি কাটা নৈব নৈব চ।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes