jamdani

সেদিনের সেই চারশো টাকা

বৈশাখী নার্গিস

১৯৬৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। দিল্লির রামলীলা ময়দান। স্তব্ধ হয়ে শুনছেন তাঁকে। গাইছেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। পাশে বসে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ এবং প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরু। ‘অ্যায় মেরে বতন কে লোঁগো’ গানের সুরে চোখে জল চলে এসেছে সবার। গানটি লিখেছিলেন সুরকার কবি প্রতাপ ভারত-চিনের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে।

সি রামচন্দ্র’র সুরে গানটি গাওয়ার পর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই চমকে যান লতা জি। দেখেন, নেহরুর চোখে জল, তিনি কাঁদছেন। লতাকে দেখে বলেছিলেন, “লতা, তুমি আমার চোখে জল এনে দিলে।”

এই পর্যন্ত আমরা সবাই জানি। তবে এটা কি জানেন যে এই গানটি’র জন্য চারশো টাকা পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ পঞ্চাশ সাল পর্যন্ত সেই পারিশ্রমিকের এক টাকাও পাননি। একথা একবার আক্ষেপের সুরে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীকে জানিয়েছিলেন তিনি। অথচ বহুক্ষেত্রে তাঁর একটাকাও পারিশ্রমিক না নেওয়ার নজির বিস্তর।

সুরলোকের দেশে পাড়ি দিয়েছেন নাইটিঙ্গেল লতা মঙ্গেশকর। শুধু হিন্দিতেই নয়, প্রায় প্রতিটি ভারতীয় ভাষায় তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। প্রায় সব ভাষাতেই তাঁর জাদুর ছোঁয়া ছুঁয়ে আছে মন।  স্বাধীনতা দিবস হোক বা প্রজাতন্ত্র দিবস – কিংবা গান্ধীজি, নেতাজির জন্মজয়ন্তী – এই গানটি প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় শুনতে পাওয়া যায় আজও। গানের প্রতিটি লাইনে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এমন সুর, যা মুহূর্তের মধ্যে ভারতীয়দের দেশপ্রেমের সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলে। এক অনবদ্য সুরের মুর্ছনা… যা চোখে জল আনতে বাধ্য করে। সেই গান যে সকলকে উদ্বুদ্ধ করবে, এটাই স্বাভাবিক।

আজও এই গান দেশরক্ষীদের ততটাই উদ্বুদ্ধ করে, সেরকমই দেখতে পাওয়া গেল ITBP জওয়ানের নজরকাড়া শ্রদ্ধার্ঘ্য। প্রয়াত লতা মঙ্গেশকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আইটিবিপি’র জওয়ান স্যাক্সোফোনে সুর তুললেন ‘অ্যায় মেরে বতন কে লোঁগোর’। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার প্রশংসা কেড়ে নিল। এক ঝলকে দেখে নিন সেই ভিডিও-

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes