jamdani

প্রেগনেন্ট মহিলাদের বিউটি গাইডলাইন (প্রথম পর্ব)

মা হওয়া যে কোনও মেয়ের জীবনেই সবচেয়ে বড় উপহার। প্রেগনেন্সির সময় ভাল থাকা, সুস্থ থাকা খুব দরকার। কারণ নিজের এবং আপনার শরীরে বেড়ে ওঠা শিশুটির দায়িত্ব কিন্তু আপনার। প্রেগনেন্সির সময় মেয়েদের শরীরে হরমোনের কিছু পরিবর্তন হয়, যা ত্বক ও চুলের ওপর প্রভাব ফেলে ত্বক ক্রমশ খসখসে শুষ্ক, নিম্প্রাণ হতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, প্রেগনেন্সির সময় অনেকের ত্বক আবার অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়, যা থেকে দেখা দেয় ব্রণর সমস্যা। অনেকেরই ত্বকে কালো ছোপ পড়ে – স্ট্রেচ মার্কস, মেচেতার মতো হাজারও একটা সমস্যা নতুন করে দেখা দিতে শুরু করে। এর জন্য দায়ী কিন্তু হরমোনের পরিবর্তন। প্রেগনেন্সির সময় সব মেয়েদেরই কম বেশি শারীরিক সমস্যার স্ষ্টি হয়। হরমোনের পরিবর্তনের ফল পড়ে চুলেও। চুল পড়ার সমস্যা, স্পিল্ট এন্ড, চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া, সারা শরীরে র‍্যাশ বেরোনোর মতো নানা সমস্যা দেখা যায়। ত্বক ও চুলের এই পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রেগনেন্সির সময় হয়। ডাক্তারি পরিভাষায় একে ফিজিওলজিক্যাল চেঞ্জেস ফর প্রেগনেন্সি বলে। তবে প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই যদি ত্বক ও চুলের জন্য প্রপার বিউটি রেজিম মেনে চলেন, তাহলে প্রেগনেন্সির সময় রূপ সংক্রান্ত না না সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব। প্রেগনেন্সির সময় যে সমস্যাগুলো দেখা দেয় সেগুলো ক্ষণস্থায়ী। ডেলিভারির কিছুদিন পর থেকেই সমস্যাগুলো ক্রমশ কমতে শুরু করে। মা হওয়ার সময়টা জীবনের অন্যতম সেরা সময় তাই এই সময়টা সব চিন্তা ভুলে আনন্দ থাকুক, বিশ্রাম নিন, গান শুনুন, গল্পের বই পড়ুন, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করুন, সঙ্গে হালকা এক্সারসাইজ করুন। আর একটু সময় বের করে নিজের একটু যত্ন নিন, তাহলেই হবে। এরজন্য বেশি সময় লাগবে না আর খরচও খুব সামান্য। আপনার বাড়িতে মজুত জিনিস দিয়েই শুরু করতে পারেন আপনার কমপ্লিট বিউটি ট্রিটমেন্ট। এই সময় ত্বক, চুল ও শরীরে নানা সমস্যা থাকলেও হবু মায়েদের তাঁদের আগত সন্তানের চিন্তায় চোখ-মুখে একটা খুশির ছাপ ফুটে ওঠে, যা জীর্ণ ত্বকেও ফুটিয়ে তোলে উজ্জ্বলতা।

ত্বকের যত্নঃ

সারাবছর নিয়ম মেনে যেভাবে ক্লিনজিং-টোনিং-ময়শ্চারাইজিং করেন, সারাবছর নিয়ম মেনে যেভাবে ক্লিনজিং-টোনিং-ময়শ্চারাইজিং করেন, গর্ভবস্থাতেও ঠিক একইভাবে এগুলো কিন্তু নিয়ম মেনে করতে হবে। কারণ প্রেগনন্সির সময় ত্বকের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়। তাই এই সময় দাগ-ছোপহীন উজ্জ্বল, মস্ণ, পেলব ত্বক পেতে প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিন।

ক্লিনজিংঃ

দিনে দুবার (সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে শুতে যাওয়ার আগে) ভাল করে মুখ, গলা ও ঘাড় পরিষ্কার করে নিন। কারণ ত্বকে ধুলো-ময়লা জমে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রেগনেন্সির সময় অনেকের ত্বক আবার অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়- ত্বকের অতিরিক্ত তেলভাব কমাতে ত্বক ভাল করে পরিষ্কার করা দরকার। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ত্বক ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে ত্বক স্বাভাবিক জেল্লা হারাবে, ক্রমশ কালচে হয়ে পড়বে। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য ক্লিনজিং ক্রিম, জেল (আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী যেটা উপযুক্ত) ব্যবহার করুন। এই সময় বাইরের কেনা জিনিস মাখতে না চাইলে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে, সেই তুলো দিয়ে ভাল করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। দুধ ন্যাচারাল ক্লিনজির। দিনে দু’বার করে কাঁচা দুধ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে একদিকে যেমন ত্বক পরিষ্কার হবে, তেমনই ত্বকের ময়শ্চার ব্যালেন্স ঠিক থাকবে।

টোনিংঃ

মুখ পরিষ্কার করার পর টোনিং কিন্তু মাস্ট। কারণ টোনার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভাল করে, ফলে ত্বক টানটান হয়, জেল্লাও বাড়ে। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী অ্যারোমেটিক ওয়াটার টোনার ব্যবহার করতে পারন। না হলে ঘরোয়া উপায়েও টোনার তৈরি করে নিতে পারে। শশার রসের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রয়োজন মতো বের করে ব্যবহার করুন।

ময়শ্চারাইজিংঃ

প্রেগনেন্সির সময় হরমোনের সমস্যার জন্য ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। আর যাঁদের ত্বকে এমনিতেই শুষ্ক, প্রেগনেন্সির সময় তাঁদের সমস্যা আরও বেশি হতে পারে। তাই স্নানের পর ও রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে ময়শ্চারাইজার বা নারিশিং ক্রিম লাগিয়ে হালকা হাতে কিছুক্ষণ মাসাজ করুন। উপকার পাবেন। গোলাপ জল, অ্যালোভেরার রস ও গ্লিসারিন একসঙ্গে মিশিয়ে লাগাতে পারেন। যে কোনও ত্বকেই এটি ময়শ্চারাইজার হিসেবে দারুন কাজ করবে। প্রেগনেন্সির সময় যাঁদের ত্বক একটু বেশিই শুষ্ক হয়ে গেছে, তাঁরা কাঁচা দুধের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। নিয়মিত ব্যবহার করলে, শুষ্ক ত্বক হয়ে উঠবে মস্ণ ও কোমল।

Trending


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes