jamdani

প্রেগনেন্ট মহিলাদের বিউটি গাইডলাইন (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রেগনেন্সির সময় ভাল থাকা, সুস্থ থাকা খুব দরকার। কারণ নিজের এবং আপনার শরীরে বেড়ে ওঠা শিশুটির দায়িত্ব কিন্তু আপনার। তাই এই সময় আপনি নিন আপনার বিশেষ যত্ন।

ত্বকের যত্নে ফেসপ্যাকঃ

প্রেগনেন্সির সময় মেয়েরা সাধারণ সাংসারিক কাজ থেকে বিশ্রাম পান, ফলে নিজের পরিচর্যার জন্য বেশ কিছুটা সময় হাতে থাকে। সারাদিনে একটু সময় বের করে ফেসপ্যাক লাগান, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা তো সমাধান হবেই, সঙ্গে ত্বকের জৌলস আগের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যাবে, ত্বক সতেজ লাগবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য প্যাকঃ

প্রথমে কোনও ভাল কোম্পানির ক্লিনজিং মিল্ক বা জেল দিয়ে মুখ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। তারপর দুচামচ বেসনের সঙ্গে পাঁচ চামচ মধু, ১/২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার মিশ্রণটি মুখে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়ে, ত্বক হয়ে উঠবে মস্ণ ও প্রাণবন্ত।

তৈলাক্ত ত্বকের প্যাকঃ

যাঁরা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী তাঁরা চারা চামচ মটর ডাল বাটার সঙ্গে দু’চামচ মুধ ও এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ত্বকের তৈলাক্তভাব আগের চেয়ে অনেকটা কমবে।

স্বাভাবিক ও মিশ্র ত্বকের উপযোগী প্যাকঃ

তিন চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে তিন চামচ গোলাপজল ও দু’চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট অনেক্ষা করে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

প্রেগনেন্সির সময় ত্বিকের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানঃ

কালো ছোপ

অনেক সময়ই প্রেগনেন্সির সময় হবু-মায়েদের ত্বকে কালো ছোপ পড়ে ও যায়। ফলে দেখতে বিশ্রী লাগে, তবে ডেলিভারির কিছুদিন পর আপনা থেকেই এই কালো ছোপ ক্রমশ হালকা হয়ে যায়। প্রেগনেন্সির কালো ছোপ কমাতে কাঁচা হলুদ বাটার সঙ্গে এক চামচ দুধ ও একটা টম্যাটো চটকে নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন করে কিছুদিন লাগিয়ে দেখুন, তফাতটা নিজেই বুঝতে পারবেন।

মেচেতা

হবু মায়েরা মেচেতার হাত থেকে মুক্তি পেতে একটা শশা করে রসটা আলাদা করে নিন। শশার রসের সঙ্গে টম্যাটো রস ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মেচেতার ওপর লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। প্রতিদিন দু’বার করে এই মিশ্রণটি মেচেতার ওপর লাগান। নিয়মিত লাগালে মেচেতার দাগ ম্যাজিকের মতো উধাও হয়ে গিয়ে ত্বকে হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়।

র‍্যাশ বা চুলকানি  

প্রেগনেন্সির সময় প্রায় সব মহিলারাই স্কিন র‍্যাশের সমস্যা ভোগেন। এই সময় সারা শরীরে চুলকানির প্রভাব বেড়ে যায়। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে ত্বক ঠিকমতো পরিষ্কার রাখুন। এক লিটার জলে ৫০০ গ্রাম নিমপাতা দিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে জলটা ছেঁকে নিয়ে এয়ার টাইট কন্টেনারে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রতিদিন তিন-চারবার তুলোয় এই জল নিয়ে সারা শরীরে (বিশেষ করে যেখানে চুলকানি হয়েছে সেখানে) লাগিয়ে নিন। এটি নিয়মিত লাগালে উপকার পাবেন।

স্ট্রেচ মার্কসঃ

এই সময় হবু মায়েদের সারা শরীরে, বিশেষ করে হাতে, বুকে, পেটে ফাটা দাগ দেখা দিতে পারে, যাকে ষ্ট্রেচ মার্কস বলে। শুষ্ক ত্বকে এই সমস্যা আরও বেশি করে দেখা দেয়। স্ট্রেচ মার্কসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দিনে অন্তত ভাল করা মাসাজ করুন। ইচ্ছে হলে অলিভ অয়েলের সঙ্গে মধু ও চন্দনবাটা মিশিয়ে নিয়ে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট পর ঈষদুষ্ণ জলের সাহায্যে পরিষ্কার করে নিন।

হাত ও পায়ের শুষ্ক ত্বকঃ

প্রেগনেন্সির সময় হরমোনের পরিবর্তনের জন্য শুধু মুখের চামড়াই শুষ্ক হয়ে যায় না, হাত ও পায়ের ত্বক ক্রমশ খসখসে হয়ে যায়। স্নানের আগে সারা শরীরে বডি অয়েল লাগিয়ে নিন। আধঘন্টা পর স্নান করুন। স্নানের পর হাতে-পায়ে, সারা শরীরে ভাল করে বডি লোশন লাগান। ত্বক ভিজে থাকা অবস্থাতেই লাগাবেন, এতে বডি লোশন ত্বকে ভাল করে অ্যাবজর্ব হতে পারবে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে আরও একবার সারা শরীরে ময়শ্চারাইজার লাগান। ভাল করে পা পরিষ্কার করে ফুটক্রিম লাগিয়ে নিন। হালকা হাতে কিছুক্ষণ মাসাজ করুন। প্রেগনেন্ট মহিলাদের পায়ে অনেকসময় ব্যথা হয়। ক্রিম মাসাজ করলে এর থেকে উপকার পাবেন।

ডার্ক সার্কলঃ

প্রেগনেন্সির সময় হবু মায়েদের রাতে অনেকসময় ঠিকমতো ঘুম হয় না, টেনশন, চিন্তা, রাতজাগা না না কারণেই সন্তানসম্ভবাদের চোখের তলায় কালি পড়ে। ডার্ক সার্কলের সমস্যা কমাতে রাতে শুতে যাওয়ার আগে কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল নিয়ে চোখের চারপাশে লাগিয়ে হালকা হাতে একই দিকে এক মিনিট করে মাসাজ করুন। নিয়মিত কিছুদিন লাগালে ডার্ক সার্কলের সমস্যা কমবে।

 

 

Trending


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes