jamdani

শহর কলকাতার প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের জন্য সেরা ডেস্টিনেশন

গত কয়েক বছরে প্রি ওয়েডিং ফটোশুটের জনপ্রিয়তাও কিন্তু আকাশ ছুঁয়েছে। আর জনপ্রিয় হবে না-ই বা কেন বলুন! বিয়ের দিন তো সেই গথে বাঁধা নিয়ম মেনে ছবি উঠে থাকে। সেখানে ফোটোগ্রাফারের ইচ্ছাই শেষ কথা। কিন্তু প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুট হল একেবারে খোলা ময়দান। সেখানে ফোটোগ্রাফার নয়, আপনার হাতেই থাকবে স্টিয়ারিং। আপনার যদি বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে ঝটপট প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের প্ল্যানিং সেরে ফেলতে ভুলবেন না যেন! 

কলকাতার কয়েকটি সেরা প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুট ডেস্টিনেশন

প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটে তোলা ছবিগুলি কতটা নজরকাড়া হবে, তা যেমন ফোটোগ্রাফারের দক্ষতার উপর নির্ভর করে, তেমনই লোকেশনের গুরুত্বও কিন্তু কম নয়। তাই তো ফোটোশুটের কয়েক মাস আগে থাকতেই এই নিয়ে রিসার্চ শুরু করে দেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। জেনে নিন সেই জায়গাগুলি সম্বন্ধে-

প্রিন্সেপ ঘাট 

গঙ্গা নদী, দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজ, রেল লাইন, কী নেই প্রিন্সেপ ঘাটে। তাই তো ফোটোশুটের জন্য সেরা ডেস্টিনেশন হল এই জায়গাটি। বিশেষ করে ভোর সকালে হুগলি ব্রিজকে পিছনে রেখে ছবি তুললে যেমন মন্দ হবে না, তেমনই দিনের শেষ সূর্য়ের নরম আলো গায়ে মেখে পিন্সেপ ঘাটের দুধ সাদা মেমোরিয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারেন। ইচ্ছে হলে রেল লাইনে হাঁটতে হাঁটতে ছবি তোলা যেতে পারে। মোট কথা এখানে বিকল্প অনেক। তাই শুটের দিন প্রিন্সেপ ঘাটে ঢুঁ মারলে যে ঠকবেন না, তা হলফ করে বলতে পারি।

বোটানিক্যাল গার্ডেন, হাওড়া 

যে কোনও গাঢ় রঙই ছবিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। আর বোটানিক্যাল গার্ডেনে তো সবুজের ছড়াছড়ি। ইচ্ছে হলে এখানকার শতাব্দী প্রাচীন বট গাছের সামনে দাঁড়িয়েও ছবি তুলতে পারেন। তাই তো প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের জন্য এর থেকে ভাল জায়গা আর কিছু হয় বলে তো মনে হয় না। তবে তাই বলে ভোর সকালে এখানে পৌঁছে যাবেন না যেন! কারণ সকালবেলা বোটানিক্যাল গার্ডেনে মর্নিং ওয়াকার্সদের ভিড় থাকে। তাই দশটার পরে যাওয়াটাই উচিত। প্রয়োজনে এই নিয়ে একবার ফোটোগ্রাফারের সঙ্গে আলোচনাও করে নিতে পারেন।

ময়দান 

প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের ডেস্টিনেশন নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন কলকাতার সবচেয়ে সুন্দর জয়গাটার নাম না নিলে হয় বলুন! ট্রাম, মূর্তি এবং সবুজ গালিচা পাতা ময়দানের যে-কোনও দিকেই ক্যামেরা তাক করলেই নজরকাড়া সব ফ্রেম পাওয়া যায়। বিশেষ করে ট্রামের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ মিলবে এখানে। তাছাড়া দূরের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকেও ফ্রেমে রেখে দারুণ সব ছবি তোলা যেতে পারে। তবে এই জায়গাটার একটাই সমস্যা। ময়দানে সারাক্ষণ লোক গিজগিজ করে। তাই হাজার লোকের সামনে নানা পোজ দিয়ে ছবি তুলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করলে তবেই ময়দানকে বেছে নেবেন। নচেৎ নয়!

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল 

সবুজ গালিচা, লেক এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো কলোনিয়াল আর্কিটেকচার, সব মিলিয়ে ফোটোগ্রাফারদের কাছে স্বপ্নের জয়গা হল ভিক্টোরিয়া। তাই ময়দানে যদি ফটোশুট করতে ইচ্ছে হয়, তাহলে হাঁটতে হাঁটতে ভিক্টোরিয়ায় চলে আসতে পারেন। সকালের আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ফ্রেম যে কোন দিনই সুপার হিট। ধূসর আকাশ, দুধ সাদা ইমারত এবং সবুজ গালিচার রং মিলেমিশে প্রতিটি ছবি নজরকাড়া হবেই। ভোর সকালে এখানে মনিং ওয়াকার্সদের ভিড় থাকে, তাই দশটার পরে এখানে আসবে, তার আগে নয়।

কুমারটুলি 

উত্তর কলকাতার আমেজটাই সবসময় আলাদা। ছোট-ছোট অলিগলি, বনেদি বাড়ি আর কুমারটুলি, সব মিলিয়ে ফোটোগ্রাফির জন্য কলকাতার মধ্যে অন্যতম সেরা জায়গা হল উত্তর কলকাতা। বিশেষ করে কুমারটুলির অলিতে-গলিতে মাটি লেপা মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দিয়ে তোলা প্রতিটি ছবিই যে একে অপরের থেকে আলাদা হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি 

ফোটোশুটের দিন যদি ট্র্যাডিশনাল ড্রেসে ছবি তুলতে ইচ্ছে হয়, তা হলে একবার জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে ঢুঁ মারতেই পারেন। কারণ, ঠাকুরবাড়ির দালান এবং গালিচা যতটা নজরকাড়া, ততটাই আকর্ষণীয় এর আর্কিটেকচারও। সোমবার ছাড়া বাকি সব দিন খোলা থাকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি।

ঢাকুরিয়া লেক 

সবুজে মোড়া ঢাকুরিয়া লেকের সৌন্দর্য স্বভাবতই নজরকাড়া। এখানে এমন কিছু মূর্তি রয়েছে যা চোখধাঁধানো। তাই প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের জন্য ঢাকুরিয়া লেকে ঢুঁ মারতেই পারেন।

বো ব্যারাক 

প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের লোকেশন হিসেবে বো ব্যারাক মন্দ নয়। এখানকার প্রতিটি অলি-গলিতেই একাধিক নজরকাড়া ফ্রেমের সন্ধান মেলে। এখানকার লাল বাড়িগুলিও কিন্তু কম আকর্ষণীয় নয়। একের পর এক চোখ ধাঁধানো সব ছবি তোলার ইচ্ছে থাকল্র, সক্কাল-সক্কাল পৌঁছে যেতে হবে এখানে।

 

ছবি সৌজন্য- ইন্টারনেট

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes