jamdani

প্রয়োজন যখন মজবুত ইমিউনিটি, কাছে রাখুন এই ভেষজ উপাদানগুলি

প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তবে এটি দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতোই ভয়াবহ কিনা সেটি এখনই বোঝা যাচ্ছে না। তবুও আমাদের সাবধানে থাকা প্রয়োজন। এই সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তবে আপনি কি এই কথা জানেন যে, এমন কিছু ভেষজ উপাদান আছে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক সেসব ভেষজ উপাদানগুলি কী কী।

তুলসী

তুলসীর মধ্যে আছে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। যা আপনার শরীরের টক্সিন উপাদান বের করে দেয়। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও এর আছে জীবাণুনাশক গুণাবলী। শ্বাসযন্ত্র সুস্থ রাখতেও এর ভূমিকা অপরিসীম। বুকে কফ জমলে বা কাশি হলে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায় ভীষণ। এছাড়াও তুলসীর চা বানিয়ে খেতে পারেন। আপনার প্রয়োজন ১/৪ কাপ তুলসী পাতা। ১ টেবিল চামচ মধু। ২ টেবিল চামচ লেবুর রস। একটি পাত্রে দেড় কাপ মতো জল নিয়ে তুলসী পাতা ফুটিয়ে নিন। অল্প আঁচে মিনিট ১৫ ফোটানোর পরে একটা কাপে ছেঁকে নিন। এ বার তার মধ্যে মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। ব্যস আপনার চা তৈরি।

আমলকি
প্রকৃতির অদ্ভুত দান হল আমলকি। যকৃৎ, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ ভাল রাখে ভিটামিন সি, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পেকটিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ আমলকি। আমলকি প্রদাহ নির্মূল করতে যেমন সাহায্য করে তেমনই কমায় জীবাণুঘটিত সংক্রমণের আশঙ্কা।

হলুদ

হলুদের আশ্চর্যজনক গুণ রয়েছে। হলুদে থাকা কার্কুমিনকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা যেতেই পারে। কার্কুমিনে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হলুদ ব্রেনস্টেম উন্নত করতে এবং গাঁটে ব্যথা কমাতেও সহায়ক। এটি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। আয়ুর্বেদিক এবং চিনা ওষুধ হিসেবে হলুদের অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং ৫-৬ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে এটি এয়ারটাইট জারে সংরক্ষণ করুন। দিনে দু’বার ১/২ চা চামচ করে এটি খান।

মধু

মধুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই যে সেটি ঘরোয়া অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত। চিনির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করা যেতেই পারে। চায়ের সঙ্গে মধু সেবন করা উপকারি। বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক ঔষুধ তৈরিতে মধু ব্যবহার করা হয়। এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান অনেকগুলো ইনফেকশনের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম। এমনকি মধু ব্যাকটেরিয়ার বিকাশ প্রতিরোধ করে থাকে।

অশ্বগন্ধা

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ব্যথা বেদনা কমাতে এবং প্রদাহ কমাতে অশ্বগন্ধার ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। কোনও অসুখে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর শরীরে আগের মতো বল ফিরিয়ে আনার জন্য অশ্বগন্ধা খুবই কাজে দেয়। আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে অশ্বগন্ধা। আপনি অশ্বগন্ধার চা বানিয়ে খেতে পারেন। এই চা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবেই, আর সেই সঙ্গে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করবে। আপনার দুশ্চিন্তাও কমাবে। অশ্বগন্ধা চা তৈরির জন্য লাগবে- ৫ ইঞ্চি শুকনো অশ্বগন্ধা মূল। ১ টেবিলচামচ মধু। অশ্বগন্ধার মূল পরিষ্কার করে এক কাপ জলে ফুটিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট ফোটানোর পরে একটা কাপে ঢেলে নিন। এ বার মধু দিয়ে নাড়তে থাকুন। তা হলেই তৈরি আপনার হার্বাল টি!

** তবে কোভিড সংক্রমিত হলে শুধুই এই পথ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকবেন না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes