jamdani

 ‘মিম মিউজিয়াম’!  

কার্টুন আর কমিক্স দেখে হাসির উপাদান খুঁজে বের করা মানুষেরা এখন বদলে গেছে। ক্রমাগত বদলের পর বদলে তৈরি হয়েছে ‘মিম কালচার’। বিগত কয়েক বছরের দিকে লক্ষ রাখলে বোঝা যাবে, ইন্টারনেটের প্রসারে সব কিছু কেমন বদলে গেছে। আর লকডাউন ও করোনা ভাইরাস যেন তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। তবে শুধু যে হাসির খোরাক, নিছক মজা সেরকমও নয়। সাম্প্রতিক ঘটনা, সংবাদ নিয়েও ব্যাঙ্গাত্মকভাবে তৈরি হয়েছে মিম। তবে এই মিম নিয়েই আস্ত একটা মিউজিয়াম খোলা হয়েছে হংকং শহরে।

হংকং শহরের কে ১১ আর্ট মলের বিশাল কমপ্লেক্স জুড়ে এই মিমের আসর বসেছে। কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রিয় ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম ‘৯ গ্যাগ’ এর যৌথ উদ্যোগে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়েই পথচলা শুরু হয় এই মিউজিয়ামের। তবে এটি শুধু প্রদর্শনশালাই নয়, বরং ‘মিম কালচার’-এর সংরক্ষণাগারও বটে। আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক— সব ধরনের জনপ্রিয় মিমই এখানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

ক্যানভাসের ওপরে ডিজিটাল প্রিন্টিংই নয়, ত্রিমাত্রিক মূর্তি, ভিডিও এমনকি বিভিন্ন সুগন্ধীর মাধ্যমে এক অভিনব পরিবেশ তৈরি করেছে হংকং-এর এই মিউজিয়াম। এ যেন এক সব পেয়েছির দুনিয়া। এই মিউজিয়ামে জায়গা পেয়েছে বিশ্বের মোট ১০০টির বেশি জনপ্রিয় মিম টেমপ্লেট। এমনকি মিউজিয়ামের মধ্যে রয়েছে আস্ত ট্যাটু পার্লারও। তবে শুধুমাত্র মিম-এর ট্যাটুই করা হচ্ছে সেখানে।

সম্প্রতি হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে তার অস্তিত্ব। নেপথ্যে, পাকিস্তান দলের সমর্থক সারিম আখতার। ২০১৯-এর বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাকিস্তানের বড়ো ব্যবধানে হারের পরই ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি। লাল চেক শার্ট ও পাফার জ্যাকেট পরিহিত, কোমরে হাত রেখে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারিমের ছবি আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল ইন্টারনেটে। আর তা প্রায় লুফে নিয়েছিলেন মিম-স্রষ্টারা।

হংকং-এর মিউজিয়ামে জায়গা পেয়েছেন তিনিও। এক কথায় বলতে গেলে তাঁর সুবাদেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় একচেটিয়া আলোচনায় উঠে আসে হংকং-এর ‘মিম মিউজিয়াম’।

হারিয়ে যাওয়া গল্পদেরই সুলুকসন্ধান দিচ্ছে হংকং-এর এই ‘মিম মিউজিয়াম’। সেখানে দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগ শুধু যে অভিনব সেটাই নয়, বরং প্রশংসনীয়ও।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes