jamdani

এক অন্যরকম ‘রাজকাহিনী’

রণবীর ভট্টাচার্য

যেই মানুষটি আসমুদ্রহিমাচল মানুষকে ভালোবাসতে গিয়েছেন, ভালোবাসার কথা বলেছেন অজস্র কালজয়ী গান, সেই লতা মঙ্গেশকর কি জীবনে কখনো ভালোবাসেননি?

পাঁচ ভাই বোনের সবচেয়ে বড় লতা চিরকালই একটু রক্ষণশীল ঘরানার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে যখন বোন আশা ভোঁসলে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৩১ বছরের গণপতরাও ভোঁসলেকে, তখন রুষ্ট হয়েছিলেন লতা। সারা পৃথিবীর লোক ভেবেছিল দুই বোনের নিদারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু বাস্তব ছিল আলাদা। একই ভাবে রাহুল দেব বর্মনের সাথে আশার বিয়ে ও পরবর্তীকালে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত মন থেকে মেনে নিতে পারেননি তিনি। তবে নিজের জীবনের ক্ষেত্রে কি কাউকে মেনে বা মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন?

একথা সকলেই জানেন লতা মঙ্গেশকরের ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগের কথা। ১৯৮৩ সালের ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ফাইনাল তিনি দেখেছিলেন লর্ডসের মাঠে। কিন্তু শুধুই ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বা ভালোলাগা?

রাজ সিং দুঙ্গারপুর নামটা অনেকেরই পরিচিতি। রাজ পরিবারের সন্তান, প্রাক্তন ক্রিকেটার, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে দীর্ঘদিন উচ্চ পদে আসীন – সাবেক বোম্বাইতে খুব পরিচিত ছিলেন রাজ সিং দুঙ্গারপুর। বিশেষ করে বাঙালিরা যারা সৌরভ গাঙ্গুলির অভিষেক ও পরবর্তী খেলা দেখেছেন, পর্দার বাইরের অন্যরকম রাজ সিং দুঙ্গারপুর নিয়ে জেনেছেন। কিন্তু তার আরেকটি দিক ছিল স্রেফ লতা মঙ্গেশকরের জন্য। দুজনেই বিয়ে করেননি জীবনে, বাস্তবে সর্বসমক্ষে কখনো একে অন্যের প্রতি অনুরাগ প্রকাশও করেননি।

রাজ লতাকে ‘মিঠু’ নামে ডাকতেন। রাজের বাবা চেয়েছিলেন ছেলের বিয়ে কোন রাজ পরিবারের মেয়ের সাথে হোক। তার ফলে, রাজ সিং দুঙ্গারপুরের সাথে আর বিয়ে হয়নি লতা মঙ্গেশকরের। কিন্তু ভালবাসা, ক্রিকেট, গানের সহাবস্থান শেষ দিন পর্যন্ত ছিল দুজনের জীবনে। এই চাওয়া – পাওয়া হীন সম্পর্কের মহরতের সাক্ষী ছিলেন কিছু পরিচিত মানুষ। এই অমর রাজ কাহিনী তাই থেকে যাবে চিরকালের মতো!

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes