jamdani

আজ তুমি নাই, মুক্ত গোলাপ নাই

অনির্বাণ গুহ

শিবাজী পার্কে সরস্বতী বিসর্জন সম্পন্ন। স্মৃতিচারণা, তাকে নিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য এসব তো চলবেই। দেশের জাতীয় পতাকাও তার সম্মানে মাথা নুইয়েছে । কিন্তু আমি ফিরে যাব সাতের দশকে।
খাস কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে বা এমনকি দক্ষিণের কোনও অনুষ্ঠান, ওনার সঙ্গে মঞ্চে থাকা অন্য যন্ত্র শিল্পীরাও আকছার দেখেছেন এই ঘটনা। আর খুব ছোট বয়েসে তাজ্জব বনে যাওয়া রুমা গুহঠাকুরতার কন্যা শ্রমনা তো বলেই দিয়েছেন তাঁর স্মৃতিচারণে। অনুষ্ঠানের মধ্যেই বরফ জলে গলা ভেজাতেন সুর সম্রাজ্ঞী! তিনিই বলেছিলেন, ‘কে বলে ঠাণ্ডা খেলে বা টক খেলে গলা ধরে!’ সরস্বতীর খাদ্যাভাসে ছিল লঙ্কা! অবাক হবার কিছু নেই, ঠিকই শুনছেন। কর্মসূত্রে বা ছাত্র জীবনে আমার মহারাষ্ট্রে থাকার কিঞ্চিৎ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সেখানে অনেক রান্নার লাল টুকটুকে রঙ আর ঝাল আজও মনে আছে, সেই স্মৃতি বিস্তর মনে আছে বিলক্ষণ মনে আছে। মারাঠি রা তো ঝালে, ঝোলে দিব্য আছেন, তাই লতাজি যে তার বাইরে যাবেন এরকমটা তো নয়! আর তার অকাট্য যুক্তি কে খণ্ডন করবে! সত্যিই তো! তার কথায়, ‘তাহলে তো দক্ষিণ ভারতীয় বা মারাঠিরা কেউ গানই গাইতে পারতো না !’
সরস্বতী তো বটেই, না হলে এভাবে পূজিত হন, গোয়াতে আজও আপনি যদি কোনও কন্ডাক্ট ট্যুর-এর বাসে চাপেন তাহলে লিখে নিতে পারেন দ্রষ্টব্য স্থানগুলোর মধ্যে মঙ্গেশি গ্রামের সেই মন্দির আপনি দেখতে পাবেনই। বলে রাখি শৈশবে দীননাথ আর শেভান্তি মঙ্গেশকর-এর জ্যেষ্ঠা কন্যা এই মন্দিরে গানও গেয়েছেন। সেটা যে গোয়ার দ্রষ্টব্য হবেই এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।
বাড়িতে কুন্দন লাল সাইগলের গান ছাড়া অন্য কারও গান শোনা ছিল ওনার পিতৃদেবের না পসন্দ, যেদিন বাড়িতে একটা রেডিও সেট কেনার ক্ষমতা হল, সেদিনই সাইগল সাহেব মারা যান, তৎক্ষণাৎ সেই রেডিও দোকানেই ফেরত দিয়ে এসেছিলেন লতা। অল্প বয়েসে বাবা কে হারানো, সবকিছু ওলোট-পালোট করে দিতে পারতো যদি না পারিবারিক বন্ধু বিনায়ক দামোদর সেদিন লতার পাশে এসে না দাঁড়াতেন।
এই গল্প কথা, তার জীবন এখন সবই নিউজ প্রিন্টে, কিন্তু “মেরি আওয়াজ হি পেহচান হ্যায়…” যিনি নিজেই গেয়েছেন, তিনি তো নিজেই বলে গিয়েছিলেন সত্যিটা! তার গানের সংখ্যা কত তা বোধহয় নিজেও জানতেন না! আমি শুধু ভাবছিলাম ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা। জাতির জনক সম্পর্কে আইনস্টাইন-এর মন্তব্যের রেশ টেনে বললে হয় তো এতটুকুও বাড়াবাড়ি হবে না, “ভবিষ্যত প্রজন্ম বোধহয় এটা ভেবেই অবাক হবে এরকম একজন সত্যিই এই পৃথিবীতে ছিলেন” কী এভাবে বললে কি খুব বেশি বলা হবে ? উত্তরটা আসুমদ্র হিমালয়ে এক-ই হবে, ‘না, কখনই নয়।’

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes