jamdani

SAD: শীতকালীন বিষণ্ণতা

শীতের মাসগুলিতে গুরুতরভাবে বিষণ্ণবোধ করার অর্থ হতে পারে আপনি ঋতুগত অনুভূতিমূলক ব্যাধি বা seasonal affective disorder (SAD)-এর শিকার। এটা এক বিশেষ ধরণের বিষণ্ণতা যা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে হয় এবং প্রতি বছর একই সময়ে হয়। আমেরিকার নিউপোর্ট একাডেমির ক্লিনিকাল অফিসার এবং কাউন্সেলর বারবারা নোসালে’র মতে, “এই ধরণের বিষণ্ণতা অনুভূত হওয়া খুবই সাধারণ, কারণ আমরা বছরের অনেকটা সময় গ্রীষ্মকালীন (দিন বড়, রাত ছোট) জীবনযাত্রায় কাটানোর পর শীতের ছোট (দিন ছোট, রাত বড়) এবং ঠান্ডা আবহাওয়াতে কাটাই। যা অনেকেই মানিয়ে নিতে পারেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে বহু মানুষই এই রোগে ভুক্তভোগী।

কীভাবে বুঝবেন আপনি SAD-ভুগছেন?

  • এক্ষেত্রে সময়ের প্রতি মনোযোগ দিন। যারা SAD-এ ভুগছে, তারা শরৎকাল থেকেই এর উপসর্গগুলি অনুভব করতে শুরু করেন, যা স্থায়ী হয় পুরো শীত জুড়ে। তবে পুনরায় উষ্ণ আবহাওয়ায় ফিরে আসলে এই সমস্যা ঠিক হয়ে যায়।
  • আপনার বিষণ্ণতার কারণ SAD কিনা তা নির্ভর করে আপনি যে লক্ষণগুলি অনুভব করছেন তার তীব্রতার উপর। SAD আক্রান্ত হলে আপনি হতাশ বোধ করবেন, কোনও কাজে মনোনিবেশ করতে সমস্যা হবে, আপনি সাধারণত উপভোগ করেন এমন কার্যকলাপেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এছাড়া আপনার খিদে এবং ঘুমের সময়সূচীতে পরিবর্তন দেখা দেবে।

  • যদি আপনি SAD-এর শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে বসন্ত ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই এই লক্ষণগুলি চলে যাবে।

SAD আক্রান্ত হলে কী করবেন এবং কী করবেন নাঃ

  • আপনার যদি মনে হয় আপনি SAD আক্রান্ত, তাহলে অবশ্যই ডাক্তার বা মনোবিদের সঙ্গে কথা বলুন। একমাত্র তাদের পরামর্শগুলোই আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
  • যদি SAD না হওয়া সত্ত্বেও আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিষণ্ণবোধ করেন, তাহলে যতটা সম্ভব সূর্যের আলো গায়ে মাখুন। কারণ, আমাদের মস্তিষ্ক সূর্যালোক ছাড়া কম সেরোটোনিন উৎপাদন করে, যা বিষণ্ণতা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। কম সূর্যালোক মেলাটোনিনকেও বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ঘুম বা আলসেমিকে বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যায় বিশেষজ্ঞরা দুপুর ২টোর সময় বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। যখন সূর্য তার সর্বোচ্চে তাপমাত্রায় থাকে। তবে সানগ্লাস এবং সানস্ক্রিন নিতে ভুলে যাবেন না
  • আপনি যদি এমন একটি জায়গায় বসবাস করেন যেখানে শীতকালে খুব কম সূর্যালোক থাকে তবে সেক্ষেত্রে হালকা থেরাপির প্রয়োজন। এটি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে আপনার ডাক্তার বা মনোবিদই পরামর্শ দেবেন।
  • এছাড়াও ব্যায়াম করতে পারেন। শরীর এবং মন উভয়কেই ভালো রাখতে প্রতিদিন ৩০ মিনিটের ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞরা। কারণ ব্যায়াম মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের উৎপাদন বাড়ায়।
  • এছাড়া খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনলে উপকার পাবেন। যেমন কম শর্করা যুক্ত খাবার খেতে হবে। বদলে ফলিক অ্যাসিড, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন-ডি যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes