jamdani

দোল স্পেশাল | দোলের ছুটিতে ঘুরে আসুন পলাশরাঙা পুরুলিয়ায়

রুমা প্রধান

 

শুধুই কি মানুষ? বসন্তে রঙ নিয়ে খেলা করে প্রকৃতিও। লাল, কমলা, হলুদ, গোলাপি, সবুজ নানা রঙের বাহারে ফুটে ওঠে চারিপাশ। ফুরফুরে বাতাস, রাঙামাটি আর ফুলের জোয়ারে ভাসতে এবার দোলের গন্তব্য হোক পুরুলিয়া। বসন্তে পলাশের আগুন লাগে সেখানে।

এ বছর দোল পূর্ণিমা পড়েছে ৭ মার্চ, মঙ্গলবার। অর্থাৎ মাঝের ১টি সোমবার অফিস থেকে ছুটি নিলেই কেল্লাফতে। ৪ মার্চ, শনিবার থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত যান্ত্রিক জীবন থেকে চারদিনের বিরতি।

কীভাবে যাবেনঃ

  • বাসে যেতে চাইলে- কলকাতার ধর্মতলা থেকে পুরুলিয়ার বাস পেয়ে যাবেন। বাস স্টপে নেমে গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
  • ট্রেনে গেলে- হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরে পুরুলিয়া জংশন অথবা বারাভুম স্টেশনে নামতে হবে।
  • এছাড়াও নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন।

কী কী দেখবেনঃ

প্রথম দিন, সকাল সকাল হোটেলে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন বাঘমুন্ডির পাখি পাহাড়দেখতে। এই পাখি পাহাড়ে যেতে যেতে ছোটখাটো ট্রেকের অভিজ্ঞতাও হয়ে যাবে আপনাদের। তারপর জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হেঁটে পৌঁছে যাবেন ‘খয়রাবেড়া ড্যাম ওয়াচ টাওয়ারে’। এরপর একে একে দেখে নিন ‘চড়িদা গ্ৰামবা মুখোশ গ্ৰাম’, ‘তুর্গা ড্যাম এবং ঝর্ণা। এগুলো ঘুরতে ঘুরতেই সারাটাদিন কেটে যাবে।

দ্বিতীয় দিন, জলখাবার সেরে বেরিয়ে পড়ুন ‘অযোধ্যা’ পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। আরও ঘুরে নিন লাগোয়া ‘ময়ূর পাহাড়’, ‘তুর্গা লেক’, ‘বামনি ফলস’, ‘মার্বেল লেক’, ‘আপার ড্যাম’, ‘লহড়িয়া ড্যাম’ এবং ‘লোয়ার ড্যাম’ থেকে। তারপর ফিরে আসুন হোটেলে। ঝর্ণার শীতল জলে পা ভিজিয়ে এবং পলাশের বন দেখতে দেখতে ফেরার পথেই মুছে যাবে সারাদিনের ক্লান্তি।

তৃতীয় দিনের গন্তব্য হোক ‘মুরুগুমার দিকে। গাড়িতে দেড় ঘণ্টা যাত্রা করে প্রথমেই দেখে নিন সুইসাইড পয়েন্ট’। চারিদিকে পাহাড় ঘেরা পরিবেশ, তার মধ্যে থেকে বয়ে চলেছে শান্তস্নিগ্ধ জলরাশি। সুইসাইড পয়েন্টের পর একে একে দেখে নিন ‘মুরুগুমা ড্যামএবং দেউলঘাটা মন্দির চত্বর। পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের অন্তর্গত কংসাবতীর দুই পাড়জুড়ে ইতিহাসের সাক্ষ বহন করছে আড়াই হাজার বছরের পুরনো ‘দেউলঘাটা মন্দির। একসময় সেখানে ছিল অসংখ্য মন্দির, তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং সংরক্ষণের অভাবে বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র দুটি মন্দির। বাকি সবগুলো পরিণত হয়েছে পাথরের স্তুপে। এই দেউলঘাটা মন্দিরে গেলে জানা যায় পুরুলিয়ায় জৈন ধর্মের প্রভাব এবং বিস্তৃতি সম্পর্কে।

চতুর্থ বা শেষ দিন হোটেলের আশেপাশের দিকটা পায়ে হেঁটেই ঘুরে দেখতে পারেন। খাওয়া-দাওয়া সেরে ফিরে আসুন নিজের শহরে।

থাকাখাওয়া

পুরুলিয়ায় পৌঁছে থাকার জন্য পাবেন অনেক হোটেল, রয়েছে সরকারি আবাসও। আর বেড়ানোর জন্য গাড়ি এবং গাইড হোটেলে বললে সেখান থেকেই পেয়ে যাবেন।

প্রয়োজনীয় কথাঃ

  • মশার উপদ্রপ এড়াতে সঙ্গে রাখুন ধূপ, মর্টিন, অ্যান্টি মসকিউটো ক্রিম, মসকিউটো কিলার ইত্যাদি।
  • পাহাড়ে হাঁটা-চলায় পা ব্যথা হতে পারে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাগে রাখবেন পেন কিলার স্প্রে বা মলম।
  • পেট ব্যথা, গ্যাস, জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, অ্যালার্জি, কাশি, বমি, পেট খারাপ সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখুন।
  • ছাতা, মোমবাতি, টর্চ, শুকনো খাবার সঙ্গে রাখবেন।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes