jamdani

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ জুড়ে কোটি কোটি লার্ভার সমুদ্রশয্যা

একসময় দূষণের প্রভাবে বিপন্ন হতে চলেছিল বিশ্বের বৃহত্তম প্রাবাল প্রাচীর ‘দ্য গ্রেট বেরিয়ার রিফ’। তবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সমস্ত বিজ্ঞানী মহলে আশার আলো দেখাল। গত ২৩ নভেম্বর রাতে অস্ট্রেলিয়ার দ্য গ্রেট বেরিয়ার রিফে কোরাল স্পনিং লক্ষ্য করেন গবেষকরা। যা সংখ্যায় অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

প্রবাল প্রজননের নির্দিষ্ট কোনও দিন-ক্ষণ আগে থেকে অনুমান করতে পারেন না বিজ্ঞানীরা। সাধারণত নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের কোনও এক পূর্ণিমার পর যখন সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে, তখনই প্রবালদের প্রজননের আদর্শ সময়

আজ থেকে ৪০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা প্রথমবার আবিষ্কার করেন সমুদ্রের তলদেশে প্রবাল প্রাচীরে নতুন প্রাণের সঞ্চার। পরবর্তীকালে এই নিয়ে চলেছে বহু গবেষণা। অস্ট্রেলিয়ার মেরিন বায়োলজিস্ট গ্যারেথ ফিলিপস এ বিষয়ে বলেছেন, ‘‘সাধারণত নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের পূর্ণিমার ২ থেকে ৬ দিন পরে প্রবাল প্রজনন শুরু করে

প্রবালদের এই প্রজনন প্রক্রিয়া নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর।

  • প্রথমত, প্রবাল স্পনিং বা প্রজননের আগে অন্তত এক মাস সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকতে হবে।
  • এমন সময় প্রবালের লার্ভার জন্ম হবে, যখন প্ল্যাঙ্কটন খাদকেরা ঘুমিয়ে থাকে। এতে লার্ভাদের প্রাণহানীর ঝুঁকি থাকে না।
  • সমুদ্রের জল হতে হবে শান্ত। উত্তাল সমুদ্রও লার্ভার বেঁচে থাকার জন্য কষ্টসাধ্য।
  • এই বিষয়গুলো থাকলে তবেই প্রবাল প্রজনন প্রক্রিয়া শুরু করে

প্রবাল সাধারণত অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে। এক্ষেত্রে প্রবাল নিজে থাকেই ভেঙে একটি থেকে ২টি, ৩টি বা ৪টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তবে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে, প্রবালরা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিঃসরণ ঘটায়। সমুদ্রের শান্ত জলে সেই শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু মিলিত হওয়ার পর প্রবালের লার্ভা জন্মায়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তারা এবং তৈরি হয় প্রবাল। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রায় ২৬০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই প্রজনন প্রক্রিয়া চলে। বিজ্ঞানীদের মতে এ বছরের প্রবাল প্রজনন বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

সমুদ্রের জল দূষণ এবং জলবায়ুর অসম পরিবর্তনের প্রভাবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রবাল প্রাচীরকে ‘বিপন্ন’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। এমন সময় এরূপ প্রবাল প্রজনন দেখে বিজ্ঞানীমহল ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes