jamdani

সুন্দরবনের বিরল কচ্ছপের পিঠে বসল জিপিএস ট্র্যাকার

বাটাগুড় বাস্কা। না, এর সঙ্গে গুড়ের কোনও সূত্র নেই। বাটাগুড় বাস্কা আসলে একটা কচ্ছপ প্রজাতির নাম। বিরল এই প্রজাতির কচ্ছপ কেমন ভৌগলিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাদের প্রজননের উপযুক্ত সময়, জীবনদশা- সবকিছু নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে দেশে আনা হল অভিনব প্রযুক্তি। সুন্দরবন তথা ভারতে এই প্রথমবার কচ্ছপের দেহে বসানো হয়েছে জিপিএস যন্ত্র।

আধুনিক প্রযুক্তির এই যন্ত্রই অবগত করবে বাটাগুড় বাস্কার-এর খুঁটিনাটি সম্পর্কে। কচ্ছপের বহু প্রজাতিই আজ বিপন্ন। চলছে সংরক্ষণের কাজ। বিরল প্রজাতির এই কচ্ছপগুলাকেও সংরক্ষণ করা হয়। কচ্ছপগুলো যাতে প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে জন্য তার তৈরি করা হয়েছিল আস্ত একটা পুকুর। ওই পুকুরে সহজেই প্রবেশ করতে এবং বেরোতে পারে নদীর জোয়ার-ভাঁটার জল। ওখানেই বেড়ে ওঠে তারা। দু’বছর গবেষণার পর কচ্ছপগুলোর শরীরে বসানো হল জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম। এই যন্ত্রও কাজ করবে দু’বছর।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অতিরিক্ত ফিল্ড ডিরেক্টর জাস্টিন জোন্স-এর কথায়, আধুনিক প্রযুক্তির এই মেশিন নোনা জলে নষ্ট হবে না। বিরল প্রজাতির এই কচ্ছপগুলোর বাসস্থান কেমন, বংশবিস্তার কৌশল, আয়ু- সবই জানা যাবে এই যন্ত্রের সাহায্যে। একেবারে মার্কিনমুলুক থেকে আমদানি করে আনা হয়েছে এই যন্ত্রগুলি।

ব্যাঘ্র প্রকল্পের আধিকারিকরাই বাটাগুড় বাস্কা কচ্ছপগুলোকে প্রজনন করিয়েছেন দীর্ঘ ৯ বছর ধরেটি পুরুষ এবং টি মহিলা কচ্ছপ নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রজনন পর্ব। জানা গিয়েছে, এর আগেও তাঁরা ভিন্ন কিছু প্রজাতির কচ্ছপ প্রজনন করিয়ে নদীতে ছাড়েন। কিন্তু তাদের জীবনযাত্রা জানার জন্য কোনওরকম পন্থা অবলম্বন করা হয়নি।

বাটাগুড় বাস্কা প্রজাতির কচ্ছপগুলোকে সাধারণত সুন্দরবনবঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশা উপকূলেই দেখা মেলেচোরা শিকারি এবং মৎস্যজীবিদের জালে পড়ে এই কচ্ছপ প্রজাতি আজ বিলুপ্তির পথে।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes