jamdani

ভিনদেশি উৎসব (পর্ব – ২)

কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। উৎসবের আতিশয্যে বাঙালির নাকি ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একমাত্র বাঙালিই কি উৎসবপ্রিয়? সারা বছর ধরে গোটা বিশ্বে যে কত রকমের উৎসব হয়, সে বিষয়ে ধারণা থাকলে বাঙালির বিরূদ্ধে নিন্দেমন্দ কিছুটা কমবে বই কী। সামান্য বরফ পড়া কিংবা রোদ ওঠা নিয়েও যে উৎসবে মেতে ওঠা যায়, নৌকা বাওয়া কিংবা লন্ঠন জ্বালানোটাও যে মেগা উৎসব হতে পারে, সে বিষয়ে নানা তথ্য আর ছবি নিয়ে অদ্বিতীয়ার নতুন বিভাগ ‘উৎসব’।

  • আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ মেতে ওঠে শীত কালীন তুষার উৎসবে। তুষারপাত এবং জল জমে জমাট বরফ হওয়ার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাকে ঘিরেও মানুষের উৎসাহের অন্ত নেই। ঠিক যেমন বসন্তের আবির্ভাবে গাছে-গাছে নতুন পাতা আর নবপুষ্পের আগমনে সেজে ওঠে আমাদের বসন্তোৎসব, তেমনই তুষার আর বরফপাতের পর সেসব দেশে জমে ওঠে শীতকালীন আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল।

  • জাপানে সাপোরো স্নো ফেস্টিভ্যাল

জাপানের উইন্টার ইভেন্টগূলির মধ্যে অন্যতম হল এই ‘সাপোরো স্নো ফেস্টিভ্যাল’। প্রতিবছর দু’লক্ষরও বেশি দর্শক সমাগম হয় এই তুষার উৎসবে। জাপানের Tsudome-এর Odori Parp এবং Susupino অঞ্চলের মূল সড়কে আয়োজিত এই উৎসবে দেখা যায় বৃহৎসংখ্যক স্নো স্কাল্পচার। ফেব্রুয়ারি মাসের সাতটি দিন ক্রিস্টালের মতো বরফ এবং সাদা তুষার দিয়ে তৈরি নানা প্রাকৃতিক সাজে সেজে ওঠা এই উৎসব ড্রিমল্যান্ডের চেহারা নেয়। ১৯৫০ সালে স্থানীয় হাই স্কুলের স্টুডেন্টদের তৈরি করা ছটি তুষার প্রতিমূর্তি দিয়ে সূচনা হয়েছিল এই উৎসবের। ১৯৫৫ সালে সেখানকার সেলফ ডিফেন্স ফোর্স যোগ দিয়েছিল এই ইভেন্ট এবং একটি ম্যাসিভ স্নো স্কাল্পচার তৈরি করেছিল। এরপর ক্রমে এই উৎসব আরও বড় এবং বিখ্যাত হয়ে ওঠে। বিগত বছরের কোনও কোনও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব বা বিখ্যাত কোনও স্থাপত্যের আদলে গড়ে ওঠে এখানকার স্নো স্কাল্পচারগুলি। প্রতিবছর বছর এবং তুষারের এরকম প্রায় চারশোটি স্ট্যাচু তৈরি করা হয় এই অঞ্চলে। অনিন্দ্যসুন্দর এবং বিস্ময়কর এই নির্মাণগুলি দেখার আনন্দ ছাড়াও দর্শকদের রসনাতৃপ্তির আয়োজন করা হয়। সমগ্র হাকাইডো-র প্রাদেশিক রান্নাবান্না, যেমন ফ্রেশ সি-ফুড, পোটাটো, কর্ন এবং ফ্রেশ ডেয়ারি প্রোডাক্ট চোখে দেখার সুযোজ থাকে দর্শকদের জন্য। ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যাবে এই সাপোরোতে আগে বিচ্ছিন্ন-ভাবে আরও অনেক স্নো ফেস্টিভ্যাল দেখা গেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেগুলি সবই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও শুরু হয় এবং আরও বড় হয়ে ওঠে এই উৎসব, যার বর্তমান নাম সাপোরো স্নো ফেস্টিভ্যাল।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes