jamdani

ভিনদেশি উৎসব(পর্ব-১)

কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। উৎসবের আতিশয্যে বাঙালির নাকি ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একমাত্র বাঙালিই কি উৎসবপ্রিয়? সারা বছর ধরে গোটা বিশ্বে যে কত রকমের উৎসব হয়, সে বিষয়ে ধারণা থাকলে বাঙালির বিরূদ্ধে নিন্দেমন্দ কিছুটা কমবে বই কী। সামান্য বরফ পড়া কিংবা রোদ ওঠা নিয়েও যে উৎসবে মেতে ওঠা যায়, নৌকা বাওয়া কিংবা লন্ঠন জ্বালানোটাও যে মেগা উৎসব হতে পারে, সে বিষয়ে নানা তথ্য আর ছবি নিয়ে অদ্বিতীয়ার নতুন বিভাগ ‘উৎসব’।

আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ মেতে ওঠে শীত কালীন তুষার উৎসবে। তুষারপাত এবং জল জমে জমাট বরফ হওয়ার মতো প্রাকৃতিক ঘটনাকে ঘিরেও মানুষের উৎসাহের অন্ত নেই। ঠিক যেমন বসন্তের আবির্ভাবে গাছে-গাছে নতুন পাতা আর নবপুষ্পের আগমনে সেজে ওঠে আমাদের বসন্তোৎসব, তেমনই তুষার আর বরফপাতের পর সেসব দেশে জমে ওঠে শীতকালীন আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল।

চিনের হার্বিন ইন্টারন্যাশানাল আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল

এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বরফ-উৎসব এটিই। বরফ আর তুষার দিয়ে এখানে এ সময় তৈরি করা হয় অসাধারণ সব ম্যাগনাম সাইজের আইস স্কাল্পচার। বিশালত্বে, শিল্পনৈপূণ্যের সূক্ষ্মতায় এই তুষার নির্মাণগুলি সত্যিই অতুলনীয়। জানুয়ারির ৫ তারিখ থেকে শুরু করে এক মাস ব্যাপী চলে এই ফেস্টিভ্যাল। উৎসবকে ঘিরে আরও নানা মজাদার অ্যাকটিভিটিস-এ মেতে ওঠেন দর্শকরা। ‘ইয়াবুলি অ্যালপাইন স্কিয়িং’, উইন্টার স্যুইমিং ইন দ্য সংযুয়া রিভার’ এবং ‘আইস-ল্যানর্টান এক্সিবিশন ইন সাওলিন গার্ডেন’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৩ সালে প্রথম এই তুষার উৎসবের অংশিক সূচনা হয়। মাঝখানে বেশ কয়েক বছর কালচারাল রেভেলিউশনের সময় বন্ধ থাকার পর পর ১৯৮৫ সালে সাওলিন পার্কে একটি ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে আবারও খানিকটা শুরু হয়। এরপর ২০০১ সালে হার্বিন আইস ফেস্টিভ্যাল মার্জ করে যায় হেইলংগিয়াং-এর ইন্টারন্যাশানাল স্কি ফেস্টিভ্যাল-এর সঙ্গে। এরপরই নতুন নাম এবং নতুন উৎসাহে পালিত হতে শুরু করে বর্তমানের ‘হার্বিন ইন্টারন্যাশানাল আইস অ্যান্ড স্নো স্কাল্পচার ফেস্টিভ্যাল’। ফায়ারওয়ার্ক শো, আইস ল্যান্টার্নস, স্নো স্কাল্পচার কমপিটিশন এবং আরও বিভিন্নরকম ইভেন্টের সঙ্গে মূল উৎসবটিকে প্রতিবছরই সাজানো হয় থিম্যাটিক্যালি। সংঘুয়া নদীর জমাট বাঁধা জল থেকে বরফের চাঁই সংগ্রহ করে ‘স্যুইং স’ নামের একধরনের যন্ত্র দিয়ে কেটে কেটে বরফের ব্লক তৈরি করা হয় প্রথমে। এরপর আরও বেশ কিছু যন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি করা হয় বৃহদাকায় আইস স্কাল্পচার। আইস ব্লকগুলিকে কাচের মতো চকচকে এবং স্বচ্ছ করে তোলার জন্য অনেক সময় ডি-আয়োনাইজড ওয়াটারও ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন বিল্ডিং, মনুমেন্ট, নানা ধরনের স্থাপত্য প্রভৃতির পাশাপাশি জীবজন্তু, মানুষ এবং পৌরাণিক চরিত্রের প্রতিমূর্তি তৈরি করা হয় বরফ দিয়ে। রাতের অন্ধকারে নানা রঙের আলোয় যখন সেটা ওঠে এই স্থাপত্যগুলি, তখন মনে হয় ঠিক যেন স্বপ্নরাজ্য।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes