jamdani

হেলদি Heart

মন দেওয়া নেওয়া, প্রেমে পড়া- পুরোটাই কিন্তু হৃদয়ের খেলা। এমনকী প্রেমে ব্যর্থ হলে বা ব্রেক-আপ হলেও কিন্তু হৃদয়টাই ভেঙে খানখান হয়ে যায়! তাই কাউকে নিজের হৃদয়টা দেওয়ার আগে তাঁকে একটু যত্ন আত্তি করে সুস্থ রাখুন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে হার্টের অসুখের সমস্যায় যে শুধু বয়স্করাই ভোগেন, তা কিন্তু নয়। কমবয়সিদের মধ্যে হার্টের নানা সমস্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে, এর জন্য মূলত দায়ী সেকেন্ডারি লাইফস্টাইল। অফিসে ওয়ার্ক প্রেসার, স্ট্রেস, টেনশন বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে রয়েছে খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম। মহিলাদের মধ্যেও বাড়ছে হার্টের সমস্যা। তবে একটু সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ থাকা সম্ভব। জানাচ্ছেন সিনিয়র কার্ডিয়াক সার্জেন ডা. সুশান মুখোপাধ্যায়। 

আমাদের দেশে নানা ধরনের হার্টের অসুখের মধ্যে খুব কমন ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ। ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ ও ডায়াবেটিস হাতে হাত মিলিয়ে চলে। যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁদের ইসকিমিক বা করোনারি হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বংশগত কারণেও অনেকের ডায়াবেটিস ও হার্টের ডিজিজ হতে পারে। তাই আগে থেকে সচেতন হওয়া দরকার। সঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া করা, এক্সারসাইজ করা, ঠিকমতো ঘুমানো, রেস্ট নেওয়া- এই ছোটো ছোটো কয়েকটা জিনিস মেনে চললেই হার্টের সমস্যাগুলো অনেকটা আটকানো সম্ভব।

ওভারওয়েট হলে বা স্ট্রেস খুব বেশি হলে বা ধূমপান করলে কিন্তু ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। হার্ট ভালো রাখতে স্মোকিং বন্ধ করা দরকার সঙ্গে লাইফস্টাইল মডিফিকেশনও দরকার। ইসকিমিক হার্টডিজিজে বুকে ব্যথা হতে পারে। একে অ্যাঞ্জাইনাল পেইন বলে। এধরনের ব্যথা হলে অনেকে ভাবেন অ্যাসিডের সমস্যা থেকে হয়তো বুকে ব্যথা হচ্ছে। বুকে ব্যথা হলে অ্যান্টাসিড খেয়েও যদি ব্যথা না কমে তাহলে ফেলে রেখে সময় নষ্ট করবেন না। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

গ্যাস ভেবে ফেলে রাখলে কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হতেও পারে। হার্ট অ্যাটাকে সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা হয়, প্রচণ্ড ঘাম হয়, অনেকে আবার অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৪৫ বছর ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর হলেই বেসিক কিছু কার্ডিয়াক স্ক্রিনিং করিয়ে নেওয়া জরুরি।

হার্ট অ্যাটাক হলে যত দ্রুত সম্ভব হসপিটালে নিয়ে যান। অ্যাটাকের একঘন্টার মধ্যে যদি প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করানো যায়, তাহলে সবচেয়ে ভাল হয়, এতে হার্টের ড্যামেজ কম হয়। যদি একঘন্টার মধ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত যদি দু’ঘন্টার মধ্যেও হসপিটালে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে হার্টের ক্ষতি অনেক কম হয়। ব্লাড ক্লট গলিয়ে দেওয়ার জন্য ওষুধ দেওয়া হয়, একে বলে থ্রম্বোলাইটিক। ৩০-৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে এতে ফল পাওয়া যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে বাড়িতেই যদি অ্যাসপিরিন দেওয়া যেতে পারে, এতে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।

  • অনেকের হার্টের সমস্যা থাকে। ভালভগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এর পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। অনেকসময় দেখা যায়, ভালভ ঠিকমতো তৈরি হয় না, অনেকক্ষেত্রে আবার ভালভের গঠন ঠিকঠাক হয় না বা ভালভ ঠিকমতো খুলতে বা বন্ধ হতে পারে না। এগুলো অপারেশনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়।
  • রিউম্যাটিক ফিভার হলে রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ হয়। হার্টে ভালভের একটি সমস্যা। এক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকে পেনিসিলিন নেওয়া প্রয়োজন। মাইক্রো সার্জারির পর অনেকক্ষেত্রে ভালভ ট্রান্সপ্লান্ট বা রিপেয়ার করতে হয়।
  • হার্টের সমস্যায় অনেকসময় পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হয় না। হার্ট একটি নিজস্ব রিদমে চলে, হার্টবিটের রেট কমে গেলে পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হতে পারে। ক্যালসিয়াম ডিপীজিশনের জন্য ভালভ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, রিদম ব্লক হলে পেসমেকারের প্রয়োজন হতে পারে। কম বয়সেও কিন্তু এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খাওয়া-দাওয়া ও এক্সারসাইজ

হার্ট ভাল রাখতে সঠিক ডায়েট মেনে চলা ও নিয়মিত এক্সারসাইজ করা খুব প্রয়োজন। কারণ ওবিসিটি বা অতিরিক্ত ওজন কিন্তু হার্টের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়েট থেকে জাঙ্ক ফুড, ভাজাভুজি, তেল-মশলা জাতীয় খাবার একেবারে বাদ দিতে হবে। বেশি করে মরসুমি ফল, শাকসবজি ডায়েটে রাখুন। রেড মিট এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে পারেন। তবে এক্সারসাইজ করতে শরীরে যদি কোনও কষ্ট বা অস্বস্তি হয়, তাহলে জোর করে কিছু করবেন না। এরসঙ্গে নিয়মিত চেকআপ করাবেন তাহলেই সুস্থ থাকতে পারবেন।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes