jamdani

হৃদযন্ত্র ভালো রাখুন এইসব প্রাকৃতিক উপাদানে

সাম্প্রতিক চলমান মহামারী হৃদরোগীদের জন্য উদ্বেগের কারণ। হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে নিয়মমাফিক জীবনযাপন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ ছাড়াও, রক্তের শর্করা, উচ্চ রক্তচাপ ও নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার সৃষ্টি জন্য দায়ী। সুস্থ থাকতে নিয়মিত ওজন মাপা এবং বিএমএই ১৮.৫-২৪.৯ এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে।

    • অর্জুন গাছের বাকল হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে, এর পেশিকে মজবুত করে ও কার্যকারিতা ঠিক রাখে। এর ‘হাইপারটেন্সিভ’ বিরোধী উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও কার্যকর।
    • গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় তা হৃদরোগ ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী উন্মুক্ত ‘রেডিকেল’এর বিরুদ্ধে কাজ করে। গ্রিন টির প্রধান অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ‘এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট (ইজিসিজি)’ বহু শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় ও খাবার হজমে উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।
    • হলুদে থাকা ‘কারকিউমিন’ নামক শক্তিশালী যৌগ হৃদপেশিকে সুস্থ রাখে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন প্রদাহনাশক ও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। এতে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। রক্ত পাতলা করে এর ‘অ্যান্টিথ্রম্বোটিক’ নামক উপাদান। গ্রিন টিয়ের প্রদাহরোধী উপাদান ব্যথা কমাতেও কার্যকর।
    • ‘অ্যালিয়াম স্যাটিভাম’ নামে পরিচিত রসুন নানা গুণাগুণ সমৃদ্ধ। রসুন কেবল কার্বোহাইড্রেইটে সমৃদ্ধ নয় এটা পটাসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং ভিটামিন এ এবং বি-কমপ্লেক্সের মতো পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। হৃদরোগ সৃষ্টিকারী উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে রসুন সহায়তা করে। এতে থাকা ‘হেজিং জিক্লে রিডাক্টেইজ’ এনজাইমের মাধ্যমে যকৃতের সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াতে কোলেস্টেরল উৎপন্ন হয়। রসুন এই এনজাইম আটকে রাখে এবং কোলেস্টেরলের সংশ্লেষণ কমাতে সহায়তা করে। রক্ত জমাট বাঁধা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। এই সমস্যা দূর করতে রসুন উপকারী। এছাড়া রসুনের রয়েছে নানা রকমের যৌগ যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

  • এই ভেষজ উপাদান হৃদসংক্রান্ত জটিলতা দূরে রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আদা খাওয়া খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল-য়ের মাত্রা কমায়। পাশাপাশি, ভালো কোলেস্টেরল- এইচডিএল এর মাত্রা বাড়ায়।ডায়াবেটিস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে ও ধমনী সংকীর্ণ করে ফেলে যা হৃদরোগের ঝঁকি বাড়ায়। আদাতে আছে উপকারী উপাদান যা রক্তের শর্করা হ্রাস করে এবং নিয়মিত আদা খাওয়া দীর্ঘমেয়াদি উপকার দিতে পারে।
  • ক্যাপসিকাম অর্থাৎ ‘ক্যাপসাইসিন’ নামক উপাদান যা সুস্বাদু ও উপকারী। ক্যাপসাইসিন হৃদয় সুস্থ রাখতে সহায়ক। এটা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, শর্করার মাত্রা হ্রাস এবং হৃদযন্ত্রের পেশির ওপর চাপ কমায়।

** হৃদয়কে সুস্থ রাখতে এই ভেষজ উপাদানগুলো ভীষণ কার্যকর। সুস্থ থাকতে তাই সুষম খাবার খান ও সুস্থ জীবনযাত্রা মেনে চলুন।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes