jamdani

শিশুর যত্নে অ্যারোমাথেরাপি

কেয়া শেঠ

খেলাধুলো করতে করতে হাত-পা কেটে বা ছড়ে যাওয়া বাচ্চাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এর সঙ্গে সর্দি, কাশি, পেটে ব্যাথা, ইনফেকশন এসবও লেগেই থাকে। অ্যারোমা এসেনশিয়াল অয়েলের সাহায্যে খুব সহজেই হতে পারে সমস্যার সমাধান। হঠাৎ করে পা মচকে গেলে, পোকামাকড় কামড়ালে বা টনসিলের প্রদাহ সৃষ্টি হলে ঘাবড়াবার কিছু নেই। হাতের কাছে মজুত রাখুন কিছু এসেনশিয়াল। আপনাদের জন্য রইল কিছু পরামর্শ।

  • অনেক বাচ্চারই টিনিসিলের সমস্যা থাকে। গলা ব্যাথা, খাবার খেতে কষ্ট প্রভৃতি হয়। সেক্ষেত্রে ইউক্যালিপটাস অয়েল এক-দুই ফোঁটা রুমালে ফেলে গন্ধ শুঁকলে উপকার পাওয়া যাবে।
  • বাচ্চার যদি বদহজমজনিত কারণে সাধারণ ডায়ারিয়া হয় তাহলে কোনও বেস অয়েলের সঙ্গে ২ শতাংশ ল্যাভেন্ডার বা ক্যামোমাইল অয়েল মিশিয়ে পেটে মালিশ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
  • পেটে ব্যাথা হলে ৫ মিলি বেস অয়েলে তিন থেকে চার ফোঁটা পিপারমিন্ট অয়েল মিশিয়ে তলপেটে ম্যাসাজ করে দিন।
  • বাচ্চারা অনেক সময় ভয় পেলে বা ভয়ের স্বপ্ন দেখলে মুত্রত্যাগ করে ফেলে। এটি বারবার হলে ২ শতাংশ সাইপ্রাস অয়েল জলের বাটিতে নিয়ে তাতে টাওয়েল ডুবিয়ে তলপেট ও নিম্ন তলপেটে হালকা কম্প্রেস করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

  • গলা, নাক প্রভৃতিতে ইনফেকশনের ফলে অনেক সময় সাইনাইটিস দেখা দেয় বাচ্চাদের। গরম জলে অল্প পরিমাণে টি-ট্রি অয়েল ফেলে ভেপার নেওয়ালে অনেকটা উপকার পাওয়া যাবে। রোগের প্রকোপ চলাকালীন দিনে ৩-৪ বার এবং একটু কমে গেলে দিনে ২ বার ভেপার নেওয়া যেতে পারে।
  • বাচ্চাদের পেট ফাঁপা একটি কমন অসুখ। বেস অয়েলের সঙ্গে ফিনাল, ক্যামোমাইল বা পিপারমিন্ট অয়েল মিশিয়ে তলপেটে মালিশ করে দিন । উপকার হবে।
  • হঠাৎ করে বেশি খাওয়া-দাওয়া বা বাইরের খাবার থেকে বাচ্চাদেরও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। এর থেকে মুক্তি পেতে ল্যাভেন্ডার বা ক্যামোমাইল অয়েল জলের সঙ্গে মিশিয়ে তলপেটে ম্যাসাজ করতে হবে।
  • কেটে বা ছড়ে গেলে ক্ষতস্থান ভাল করে ধুয়ে ধুলোবালি পরিস্কার করে দিন প্রথমেই। এরপর টি-ট্রি অয়েল অথবা ল্যাভেন্ডার অয়েল লাগিয়ে পরিস্কার ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলে ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি নিরাময় হবে এবং ঘা শুকোনোর পর কালো দাগও থাকবে না।
  • ছোটোখাট পুড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসেনশিয়াল অয়েল ভাল কাজ দেবে। প্রথমে ১০ মিনিট ধরে ঠান্ডা জল ঢালুন দেহের পুড়ে যাওয়া অংশে। এরপর ল্যাভেন্ডার অয়েল লাগিয়ে দিন। এছাড়াও বাদাম তেলের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে মেশান চন্দন। মিশ্রণটি পুড়ে যাওয়া জায়গাতে লাগালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
  • পোকা কামড়ালে, আক্রান্ত স্থানে টি-ট্রি অয়েল লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে বরফ ঠান্ডা জল দিতে পারলে ভাল হয়। ২০ মিনিট পরে যন্ত্রণা, লাল হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়ার উপশম হবে। আক্রান্ত স্থান থেকে পোকার হুল প্রভৃতি সরাতে হবে।
  • অনেক সময় আঘাত লেগে বাচ্চার দেহের কোনও অংশে কালশিটে পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে আক্রান্ত স্থানে বরফ ঠান্ডা জল ঢালুন এবং ল্যাভেন্ডার অয়েল লাগিয়ে দিন।
  • হাত বা পা মচকে গেলে ল্যাভেন্ডার অয়েলের সঙ্গে ক্যামোমাইল অয়েল ঠান্ডা জলের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগালে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
  • নাকে আঘাত পেলে বা খুব গরম আবহাওয়ায় অনেক সময় বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। এ ক্ষেত্রে লেমন অয়েল ঠান্ডা জলের সঙ্গে মিশিয়ে খানিকটা উলের ওপর ফেলে দিন। এরপর নাকে ঘ্রাণ নেওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে। নাকের ওপর ওই উল চেপে ধরলেও উপকার হবে।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes