jamdani

শিশুদের পেটের সমস্যার সমাধানে ঘরোয়া প্রতিকার

শিশুদের একটু খাওয়ার এদিক থেকে ওদিক হলেই, পেটের সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। শিশুর মল জলের মতো পাতলা এবং দুর্গন্ধযুক্ত হবে যদি তার ডায়রিয়া হয় । সে সব ক্ষেত্রে যে সব বাচ্চাদের দাঁত বেরুচ্ছে তাদের পেট খারাপ অথবা ডায়রিয়ার প্রবনতা বেশি লক্ষ্যনীয়। তাই এই বিশেষ সময় আপনি নিন আপনার সদ্যজাত এবং ছোট শিশুদের বিশেষ কেয়ার।

তবে কী করে বুঝবেন আপনার আদরের সবথেকে ছোটো শিশুটির ডাইরিয়া হয়েছে ! তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে কারণটা জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।

 

  • সদ্যজাত থেকে শুরু করে দুই বছর বয়সী শিশুরা প্রায়শই রোটাভাইরাসে আক্রান্ত হয়, যা থেকে শিশুটি ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয়।
  • অ্যান্টিবায়োটিক্স পেটেরর ভিতরের ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সক্ষম যার ফলে ডায়রিয়া হওয়ার প্রবনতা অনেক বেশি মাত্রায় বাড়তে পারে।
  • বাড়ির বা ঘরের ফার্নিচার অথবা আশেপাশের জিনিসপত্র অপরিষ্কার থাকলে শতর্ক থাকুন। কারণ, শিশু হামাগুড়ি দেওয়ার সময় অথবা কোন খেলনা বা অন্য জিনিস মুখে দেওয়ার প্রবনতা থেকেও, তার পেট খারাপ হতে পারে ।

শিশুর পেট খারাপ অথবা ডাইরিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার ঘরোয়া প্রতিকারঃ

ও আর এস

শিশুর পেট খারাপের চিকিৎসার জন্য এটি বহুকাল ধরে চলে আসা ঘরোয়া প্রতিকার ‘ও আর এস’। যে কোনও ওষুধের দোকান থেকে আপনি কিনতে পারেন এটি । নাহলে বাড়িতেই তৈরি করে নিন। এক লিটার ফোটান জলে ৬ চা-চামচ চিনি ও হাফ চা-চামচ লবণ দিয়ে ততক্ষণ মেশাতে হবে, যতক্ষণ না সেগুলি সম্পূর্ণ মিশে যায় । শিশুর শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জল ও লবণ চাহিদা পূরণ করতে শিশুকে নিয়মিত ও আর এস দিন ।

মুড়ি

এক বাটি মুড়ি এক গ্লাস জলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন । শিশুর পেট খারাপ দ্রুত নিরাময় করতে মুড়ি ছেঁকে নিয়ে সেই জল আপনার শিশুকে দিনে দুবার করে খাওয়ান । পালিশবিহীন সাদা চালে প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার বা শাঁস থাকে এবং খুব সহজে হজম হয়ে যায় । ডায়রিয়া থেকে উপশম পেতে এটিকে জলে সিদ্ধ করে, ছেঁকে আপনার শিশুকে খাওয়াতে পারেন । সদ্যজাত শিশুর ডায়রিয়ার এটি একটি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার।

 

আদা

পাচনতন্ত্রের জন্য আদা উপকারী এবং ডায়রিয়ার একটি কার্যকর চিকিৎসা । এক চা-চামচ আদা, একটু দারুচিনি গুঁড়ো, সামান্য একটু জিরে গুঁড়ো এবং এক চা-চামচ মধু মেশান । দিনে তিন বার ওই মিশ্রণ আপনার শিশুকে খাওয়ান । আপনি শিশুকে দেওয়ার আগে একটূ জায়ফলও দিতে পারেন এতে ।

কলা

পেট খারাপের কারণে শিশু অনেকটা পটাশিয়াম হারিয়ে ফেলে এবং এগুলির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরী । কলাতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। এটা শক্তির একটি বিস্ময়কর উৎস হিসাবে প্রমাণিত, কারণ পেট খারাপ শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং সৌভাগ্যক্রমে, বাচ্চারা কলার স্বাদ পছন্দও করে । এটি সারা বছরই পাওয়া যায় এবং বেশিরভাগ পরিবারে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অপরিহার্য খাবার ।

 

মুসুর ডালের স্যুপ

ডায়রিয়ায় ভুগলে আপনার শিশু কিছুই খেতে চাইবে না । যাইহোক, তাকে তার শরীরে শক্তির পরিমাণ বজায় রাখতে হবে, এই ক্ষেত্রে লাল মুসুর ডাল সাহায্য করতে পারে । এই ‘সুপারফুডপ্রোটিন ও শক্তিতে ঠাসা, যার কারণে এটি স্বাস্থ্যকর ও সহজপাচ্য । এক কাপ মুসুর ডাল জলে ফোটাতে হবে এবং সেটা ঠাণ্ডা হতে দিতে হবে । কিছুক্ষণ পর মুসুর ডাল থিতিয়ে পড়বে । সেখান থেকে জল আলাদা করে সেটা আপনার শিশুকে খাওয়ান । স্বাদ বাড়াতে সামান্য একটু লবণ দিন ।

ডাবের জল

বিভিন্ন স্বাস্থকর উপকারিতা ছাড়াও, ডাবের জল আপনার শিশুকে ডায়রিয়া থেকে মুক্তি দিতে একটি চমৎকার পানীয় । এটি যে শুধুমাত্র সুস্বাদু তাই নয়, এটি শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া তরল ফিরে পেতেও সাহায্য করে । আপনার বাচ্চাকে দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ডাবের জল দেওয়ার সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে ।

দই

বাড়িতে তৈরি তাজা দই ও ইয়োগার্ট শিশুর পাচনতন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়াকে ফিরে পাওয়ার জন্য খুব উপকারী । যখন আপনার শিশুর ডায়রিয়া হয়, এটিকে সবচেয়ে অন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার বলে ধরা হয় । বাড়িতে তৈরি লস্যি এবং মাখন-তোলা দুধেও (চিনি ছাড়া) প্রোবায়োটিক্স থাকে, তাই শিশুকে দেওয়ার আগে কখনো দুবার ভাববেন না ।

গাজরের রস

যখন আপনার শিশুর পেট খারাপ হয়, তখন তার হারিয়ে যাওয়া শক্তি ফিরে পাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ । এই সময়ে গাজর শক্তির খুব ভালো উৎস । গাজরের রস অথবা পিউরি দিনে দু’বার পরিবেশন করা যেতে পারে । যদি আপনার শিশুর বয়স ১ বছরের উপরে হয়, তাহলে গাজরের রস তার জন্য ভালো ।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes