jamdani

মায়াবী পিকনিক

শ্রেয়া ঘোষ

পর্ব ১

শীতকাল আর পিকনিক গায়ে গায়ে জড়াজড়ি। শীতকাল, বড়োদিন, ইংরেজি নিউ ইয়ার। তারপর ২৩শে, ২৬শে জানুয়ারি। পিকনিক আর পিকনিক। পিকনিক দেখেছি শীতের সকালে চলন্ত ম্যাটাডোরে। গায়ে গায়ে ছেলে- মেয়ে, মাঝবয়সি, প্রায় বুড়ো-বুড়ি। ডেকোরেটরের দোকানের ভাড়া করা পুরনো কালচে মারা হাঁড়ি, কড়া পোর্টেবল উনুন, গ্যাসের সিলিন্ডার। বড়ো বড়ো প্লাস্টিকের থলিতে চাল, ডাল, মশলাপাতি। রক্ত মাখা মাংসের প্যাকেট, রান্নার ঠাকুর, জোগাড়ে। পিকনিক লিখেছি শীতকালের রচনায়- বনভোজন, চড়ুইভাতি। ভোরবেলায় ঘুম ভাঙানো পিকনিক শুনেছি তারস্বরে বাজা ফিলমি গানে। উদ্দাম গান, শরীরী নাচ ছেলে-মেয়ে। পিকনিকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিন্তু এরকম বাইরে থেকেই। আমি আর পিকনিক অন্তরঙ্গ হতে পারলাম না পরস্পরের। ইচ্ছে ছিল, প্রস্তুতিও, কিন্তু চূড়ান্ত পর্ব অধরা রয়ে গেল বরাবর।

বহুকাল আগে নাকি একবার মধ্যমগ্রাম না বাদুতে কার বাগানবাড়ি। বিরাট জায়গা, গাছপালা, মাঠ, পুকুর যেমন হয়ে থাকে সব সময়ে। বাড়ির সকলে, বাড়ির বাইরেরও কেউ, আমিও ছিলাম নাকি। এমনকী প্রমাণও মজুত। সাদা কালো ছবি পোস্টকার্ড সাইজ। সামনে পিছনে পাশাপাশি, আড়াআড়ি জনা পঁচিশ-ছাব্বিশ। সেইসব লোকজনের দিকে মুখ করে, তার মানে ক্যামেরার দিকে পিছন ফিরে সোয়েটার, টুপির বাচ্চাটাই নাকি আমার ছোটোবেলার পিকনিক। গল্প শুনেছি কতবার। যেমন হয় সব পিকনিকের গল্প। তলা লেগে যাওয়া ভাত, ধোঁয়া গন্ধ মাংস, থেঁতলে যাওয়া কাঁচাগোল্লা।

ছবির লোকজনকে পেরিয়ে গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে হেঁটে গেছি। শতরঞ্চি পেতে তাস খেলা, ব্যাডমিন্টন, তোলা উনুন, তার পাশে ইট দিয়ে গাঁথা আরও একখানা, রান্নার ঠাকুরের সঙ্গে হাত লাগানো মা, জেঠিমা। বড়ো বড়ো বঁটি পেতে বসে ঘচঘচ আলু, ফুলকপি। গামলায় গোলা বেসন, উনুনের ভাত। গা বাঁচিয়ে মটরশুঁটি ছড়ানোর ফাঁকিবাজি। শিলনোড়ায় বাটা পেঁয়াজ আদা রসুনের ঝাঁঝে মিশছে আরও মশলাদার যত প্রাচীন পারিবারিক কেচ্ছাকাহিনি। এইসব পেরিয়ে হাঁস চরা পুকুর ধার অবধি। খুঁজে খুঁজে কোথাও পাইনি আমাকে। সোয়েটার টুপির ওই বাচ্চা তো ক্যামেরার দিকে পিছন ফেরা। শেষপর্যন্ত তাই পিকনিকের বাইরেই রেখেছি নিজেকে।

চলবে…

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes