jamdani

মায়াবী পিকনিক

শ্রেয়া ঘোষ

শেষ পর্ব

রোজকার ভাত, ডাল, চার চৌকো টেবিল, একই থালা, একই বাটি, পিরিচ, পেয়ালা। একই অন্ন আর ব্যঞ্জনের ক্লান্তিকর দিন আর রাতের বিষণ্ণ মলিনতা থেকে মুক্তির নামই পিকনিক। দৈনিক রোজনামচা ফেলে একটু ঘুরে আসা। হয়ে উঠল না। তবু পিকনিকের আগের দিনগুলো সত্যি- শুনশি চুঁচড়ো হয়ে যেতে হয়। ব্যবস্থা ভাল। শ্যামলদাকে বলো বুকিংটা সেরে নিতে। পিকনিকের ফেরত কয়েকটা দিনও তো থাকে। এমনকী শূন্য থেকে জন্ম নেয় স্মৃতি। এককোষী এক বিন্দুর মতো। গায়ে-গতরে বাড়তে বাড়তে নিটোল ক্রমশ। বস্তুত এসব হল অন্যের স্মৃতি ধার করে চালানো। সে ঋণ শোধ হয় না। আঁকড়ে ধরে একদম নিজের করে নিই উলটে। শীতে চিড়িয়াখানায় খবরের কাগজ বিছিয়ে কমলালেবু, কেক, নলেন গুড়, জয়নগরের মোয়া, ফ্লাক্স, বেতের বাস্কেটের পিকনিক যেমন।


মুখে মুখে ফেরা গল্পকথা যত। একটু একটু করে পালটে যেতে যেতে অনেকখানি। অলীক যত কল্পনায় ঘটনার সিলমোহর পড়ে যায়। যে পিকনিক যাওয়া হল না স্কুল থেকে ঠেলেঠুলে সেই ফুলেশ্বরে বাগানবাড়িতে দুপুর পেরোনো বিকেলে সকলের সঙ্গে। বহুদিন পর যখন দেখা হয় সোমা কী ডলি কী চিত্রলেখার সঙ্গে- উফ্‌, কী মজা হয়েছিল না… মনে আছে তোদের, ফিরতি পথে অন্ধকার নির্জন কাঁচা রাস্তায় সেই বাস খারাপ। সকলে আমরা বাসের ভেতর বসে রইলাম দরজা ভেতর থেকে লক করে। ড্রাইভার আর হেল্পার গেল মেকানিকের খোঁজে। আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। দিদিমণিরাও নার্ভাস মতো। যদি বাস ঠিক না হয়… দূর থেকে তখনই সাইকেলের আলো। বাস স্টার্ট হতে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। শুধু সোমা আর কণিকা হতাশ যেন- কী ভাল হতো যদি আজ ঠিকই না হতো বাসটা। মনে আছে সোমা তোর? কণিকার কী খবর রে? তুই-ই বা কোথায় এখন? একটু হেসে সোমা বলে আমরা দুজনেই ক্যালিফোর্নিয়ায়।
দিল্লি থেকে ফোনে মাঝে মাঝে যখনই অরুণকুমার, কুশল বিনিময়ের পরই সূরযকুণ্ড। ইয়াদ হ্যায় ও পিকনিক। আমি বলি হামেশাকে লিয়ে স্টোর হো গয়া দিলমে। ও যো বায়গন ফ্রাই বনায়ী থি আপনে, আভি তক হর উইন্টার মে বনা লেতা হম। ঠিকঠাক ঢুকে গেছি বনভোজনে ফাঁকেফোঁকরে।
এখনও অঘ্রানে প্রতি বছর খোঁপায় একটা গোলাপ আর তারপর এক দৈব পিকনিকের স্মৃতিচারণ। অবয়বহীন পিকনিকের গোলাপ সত্যি হয়ে যায় কী অনায়াসে।
পিকনিক মানে স্বপ্ন একটা। ফিরে ফিরে আসে। সব কিছু। সকলে। শুধু মুখগুলো অস্পষ্ট। যেমন হয় স্বপ্নে। ফিরে ফিরে আসে পুরনো দিন, স্মৃতি, পিকনিক। সেই এক বায়না। স্কুলের পিকনিক থাকতেই হবে কিন্তু। সক্কলেই যাচ্ছে। সকলের বাড়ি থেকে, শুধু তুমি। অবাক হয়ে যায় সকলে- একটাও পিকনিক নেই গোটা জীবনে!
কে বলে নেই? এই দ্যাখো। পুরোনো অ্যালবাম খুলি। এই যে বাচ্চাটা, পিছন ফিরে, এই তো মনে নেই? না মনে নেই। মনে পড়ে যাবে ঠিক আস্তে আস্তে, যত দিন যাবে…

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes