jamdani

‘ভূত’-গ্রামে প্রেমিকার পথ চেয়ে ৫২ বছর প্রতীক্ষায় ৮২ বছরের প্রেমিক

কথায় আছে, প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে কে জানে। প্রেম কোনও সীমানা মানে না। শুধু সিনেমা বা উপন্যাসে নয়, বাস্তব জীবনেও তা সমানভাবে সত্য। জয়সালমীরের কুলধারার ৮২ বছর বয়সী দারোয়ান আবার প্রবাদ বাক্যটিকে যথার্থ করে তুললেন।


২০০ বছর আগে বেশ স্বাভাবিক ছন্দেই কাটছিল রাজস্থানের জয়সালমীরের কাছে কুলধারার গ্রামবাসীদের জীবন। কিন্তু আচমকাই এক রহস্য ছিনিয়ে নিল পুরো গ্রামকে। রাতারাতি গ্রামবাসীরা হারিয়ে গেলেন। সেই রহস্য আজও অধরা। এই কুলধারায় এখনও বিরাজ করছে শূন্যতা। তবে সেই ইতিহাস আর গল্পও আজও রয়ে গিয়েছে অমলিন। জয়সালমীরের এই কুলধারা আজও ভূত গ্রাম নামেই পরিচিত। ভূতের আতঙ্কে মানুষ, পর্যটক এই গ্রাম মুখো হয়না। আতঙ্কে পর্যটন ব্যবসাতেও সাড়া পায়নি রাজস্থান সরকার। তবে এক বাসিন্দা কিন্তু এখনও আছেন এই ভূত গ্রামে। তিনি এই কূলধারা গ্রামের দারোয়ান। ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধা তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় এখানেই কাটিয়েছেন। তাঁর স্মৃতিচারণায় যে কাহিনির বর্ণনা উঠে এসেছে, তা রোমহর্ষক তো নয়ই বরং রোমাঞ্চকর এবং রোমান্সে ভরা। এ এক প্রেমের গল্প। কুলধারার দারোয়ানের অমর প্রেমের গল্প। না গল্প নয়, সত্যিই।

১৯৭০ সালের কথা। এই প্রেমের কাহিনি যখন শুরু হয়েছিল, তখন কুলধারার দারোয়ানের বয়স ছিল ৩০ বছর মতো। অস্ট্রেলিয়া থেকে মেরিনা পাঁচ দিনের সফরে এসেছিলেন রাজস্থানে। মেরিনাকে উট চালানো শিখিয়েছিলেন তিনিই। তখনই দুজনে প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। মাত্র পাঁচ দিনেই প্রেম এতটাই গভীর হয়ে গিয়েছিল যে, মেরিনার ডাকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত গিয়েছিলেন কুলধারার দারোয়ান। পাঁচ দিন পরেই অস্ট্রেলিয়া ফিরে গিয়েছিলেন মেরিনা। বলে গিয়েছিলেন- আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েই তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁকে। আর মেরিনার সেই ডাক শুনে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন ৩০ হাজার টাকা ঋণ করে। সেখানে তাঁরা একসঙ্গে ছিলেনও তিনমাস।

মেরিনা বিয়ে করতে চেয়েছিলেন তাঁকে। চেয়েছিলেন তাঁকে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতে। কিন্তু কুলধারার দারোয়ান চাননি রাজস্থান ছেড়ে থাকতে। তিনি মেরিনাকে চেয়েচিলেন পাগলের মতো, কিন্তু দেশ ছেড়ে নয়। তারপরই ব্যর্থমনোরথ হয়ে তিনি ফিরে এসেছিলেন দেশে। পারিবারিক চাপে বিয়েও করেছিলেন। চাকরি নিয়েছিলেন এই কুলধারার দারোয়ানের।

কুলধারায় ফিরে এসেও তিনি ভুলতে পারেননি মেরিনাতে। দিনরাত শুধু মেরিনার কথাই ভেবেছেন। ভেবেছেন- সে কি বিয়ে করেছে, আমি কি আবার তাঁকে দেখতে পাবো। কিন্তু আর যোগা্যোগ হয়নি তাঁদের। চিঠিও লেখেননি কেউ। বছর দুই হল তাঁর স্ত্রী-বিয়োগ ঘটেছে। ছেলেরা সবাই বাইরে থাকেন। তিনি এখনও ভাবেন মেরিনার কথা! এক মাস আগে এক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ কুলধারার এই দারোয়ান চিঠি পান মেরিনার কাছ থেকে। মেরিনা জানিয়েছেন, তিনি আবার ভারতে আসছেন। তারপর থেকে দুজনের যোগাযোগ রয়েছে ফোনে। ৫২ বছর পর পুরনো প্রেম আবার কুলধারার দারোয়ানের জীবনে ঝড় তুলতে আসছে। প্রশ্ন একটাই, তাঁদের প্রেম কি পূর্ণতা পাবে শেষ জীবনে!

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes