jamdani

ব্রেক আপ

রেহান কৌশিক

‘ফালতু বকিস না। যেন সেই টানটাই আর নেই।’ কর্কশ শোনাল শায়নের কণ্ঠ।

থমকে গেল জিনাতের হাত। হাতের রং- মাখা তুলিটা সরিয়ে রেখে সামনের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। তারপর খুব ঠাণ্ডা গলায় বলল, “কী বলতে চাইছিস, তুই? ‘সিম্পল। তুই আমাকে আগের মতাে পছন্দ করছিস না। ‘হা। তাে? শুধু কথাই বলেছিস। শুধু কথা। তাতে আর কিছু ছিল না। কথার নাইন্টি পারসেন্ট জুড়ে সৌম্য পুষ্পল অরিন্দমদা ঋতুরাজ, নেক্সট এগজিবিশন এটসেটরা… ইদানীং আর একটা নাম যােগ হয়েছে আলাদিন। ‘আর য়ু জেলাস? ‘নাে নট এ্যট অল। আমি শুধু ফিল করতে চাইছি, তাের এত রিলেশনের মাঝখানে আমার জায়গাটা কোথায়! আমি তাের ঠিক কী! ‘তুই আর পাঁচজনের সঙ্গে নিজের তুলনা করছিস কী করে সেটা ভেবেই আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি! তুই জানিস না তুই আমার কে? ‘জানি। আর জানি বলেই তাের এই রিলেশনগুলাে আমার কাছে ম্যাটার করে। হ্যা, সিমপ্লি ম্যাটার করে। ‘প্রেমিক মানেই গার্জেন নাকি! ‘ ডেফিনিটলি গার্জেন নয়। কিন্তু নিজের ভালােবাসার জনকে আগলে রাখাটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ‘তুই আগলে না রাখলে আমি গলে যাব! ইটস সাে ফানি! কলকাতা শহরটা কবে কাবুল হল, আর কবেই বা তুই তালিবান। হয়ে উঠলি বুঝলাম না! ‘ইনসাল্ট করছিস? ‘না। একদম না। আমি তাের ওই অ্যাটিটিউড ডেসক্রাইব করছি। ‘তাের ওই পুস্পল, মাথায় ঝুঁটি কানে দুল হাতে ব্রেসলেট, জাস্ট লাইক আ স্ট্রিট লাফাঙ্গা। আর তাের ওই অরিন্দমদা, হাতির মতাে ক্ষুদে চোখ, মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বুকের দিকে। আমি কিছুই জানি না ভেবেছিস! এদের সঙ্গে তাের কীসের র‍্যাপো! ‘জাস্ট শাট আপ। কারও সম্পর্কে ভালাে করে কিছু না জেনে কথা বলবি না। তুই জানিস…’। জিনাতের কথা শেষ হওয়ার আগেই ওপারে ফোনটা কেটে দেয় শায়ন। স্তব্ধ মােবাইলটা ছুঁড়ে দেয় জিনাত। ভয়ঙ্কর একটা শূন্যতা মাথার ভিতর রাগি সাপের মতাে ছােবল দিচ্ছে। ছবির বারােটা বেজে গেল। ভেবেছিল আজ ক্যানভাসটা কমপ্লিট হয়ে গেলে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেবে। মাঝে আর মাত্র তিনদিন। পাঁচজনের এগজিবিশন। বিদেশ থেকে কিছু কাস্টমার আসার কথা। ছবিটা পছন্দ হয়ে গেলে ভালাে টাকা চলে আসত পার্সে। শায়নের যুক্তিহীন কথাগুলােই সব ভণ্ডুল করে দিল। দেড় বছর সবকিছু সুদ ছিল। কোথাও কোনাে প্রবলেম ছিল না। কিন্তু লাস্ট সিক্স মান্থ শায়ন যেন দিনদিন অচেনা হয়ে উঠছে। অথচ প্রবলেম হলে প্রথমেই হওয়ার কথা ছিল, যখন শায়ন জিনাতকে প্রপােজ করেছিল। কারণ একটি হিন্দু ছেলে আর একটি মুসলিম মেয়ের প্রেম হজম করার মতাে পাকস্থলী এখনাে এই সমাজের নেই। যে কটি হয়েছে, তাদের দিকে ছুতােনাতায় এখনাে আঙুল ওঠে। শায়ন জানিয়ে ছিল তাদের ফ্যামিলি পিউরিটান নয়। তবুও সাবিনার মনে সংশয় ছিল। কিন্তু সেই সংশয়কে ফুঙ্কারে উড়িয়ে দিয়ে জিনাত বলেছিল, “আম্মি, মুঘল- মেন্টালিটি নিয়ে এই সময়ের রিলেশনগুলােকে জাজ করাে না, প্লিজ…’ সাবিনা কোনােদিন মেয়েকে নামাজ শেখাতে পারেননি। অথচ কোরান গীতা রামায়ণ মহাভারত বাইবেল সব পড়েছে। নিজের ইচ্ছেতেই পড়েছে। এবং কথা প্রসঙ্গে জিনাত বলেছে, ‘আম্মা, মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু কে জান?

দুই 

‘আত্মবিশ্বাসের অভাব। সঙ্গে অভাব সেল্ক রেসপেক্টের। যার ফলে মানুষের ভিতরে ভয়ের জন্ম হয়েছে। “মানে?

‘সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই ভয় দূর করার জন্য অবলম্বন খুঁজেছে। বজ্রপাতে ভয়, ঝড়ে ভয়, অসুখ হয়ে মৃত্যু হলে ভয়। নিজের শ্রম নিজের মেধা নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে যেসব সমস্যার মােকাবিলা করতে পারেনি, সেখানেই জন্ম মনগড়া অলৌকিক এক অদৃশ্য শক্তির। সেই শক্তিই জন্ম দিয়েছে ঈশ্বর আল্লা গডের। ‘নিজের সম্পর্ককে জাস্টিফাই করার জন্য এমন বলছিস না তাে? ‘নিজের মেয়েকে এই চেনাে তুমি!

অভিমানে ঠোট ফোলায় জিনাত। তারপর বলে, ‘আম্মি, পূর্বজন্মে পরজন্মে বিশ্বাস করি না আমি। জন্ম থেকে মৃত্যু- এই পিরিয়ডে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকাই আমার ধর্ম। আমার সততা আমার আল্লা, আমার ঈশ্বর, আমার স্বপ্ন আমার গড। শায়ন আমার প্রয়ােজনও।

অনেকদিন পর কথাগুলাে মনে পড়ল জিনাতের। শায়নের সঙ্গে সম্পর্কটা তার হৃদমহলের আতরদান। আর সেটাকে নিয়েই সংশয়! হঠাৎ কান্না পেল। কিন্তু মুহুর্তেই নিজেকে সামলে নিল সে। জিনাত শিশিরের মতাে মায়াময়, নরম। আবার স্ফুলিঙ্গের মতাে তীব্রও নিমেষে ছাই করার ক্ষমতাও ধরে।

জিনাত সটান বিছানায় বডি ফেলে দিল। খিদে আছে কিন্তু খাওয়ায় ইচ্ছেটাই নেই। দেখল, মােবাইল স্ক্রিনে আলাদিনের চ্যাটহেড। সঙ্গে সতেরােটা মেসেজ। ওপেন করতেই দেখল হাবিজাবি কতকিছু লিখেছে। মােদ্দা কথা আজ খুব লােনলি ফিল করছে। জিনাত মেসেঞ্জারে টাইপ করল, “ হােয়াই আলাদিন? হােয়াট হ্যাপেন্ড? এনিথিং রং?

সঙ্গে সঙ্গে মেসেঞ্জারে আলাদিনের চ্যাট-বক্সের লাইট গ্রিন হয়ে উঠল। আলাদিন যেন জিনাতের রিপ্লাইয়ের জন্যই অপেক্ষা করছিল। সেকেন্ডে রিপ্লাই দিল, “নাথিং… জাস্ট এমনিই মনখারাপ। ‘আরে মনখারাপের কারণ থাকে না? ‘তুমি যে আর্টিস্ট! শিল্পী! তুমি জান না মানুষের কারণ ছাড়াও মিছিমিছি মনখারাপ হতে পারে!’জিনাতকে মৃদু খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করল আলাদিন। জিনাত লিখল, ‘আর্টিস্ট বলেই কথাটা মানতে পারলাম না। কমন পাবলিক হলে হেঁ হেঁ করে পাশ কাটিয়ে যেতাম। লিসিন, যারা সত্যিকারের চিত্রশিল্পী কবি ঔপন্যাসিক, তাদের কাজগুলাে সেকেন্ড আইডেন্টিটি, ফাস্ট, দে আর অল ফিলােসফার, থিংকার। এবং মনে করে যে পৃথিবীতে সমস্ত কাজের পিছনেই এক বা একাধিক কারণ থাকে। কারণ ছাড়া কাজ হয় না। ইটারন্যাল টুথ। ‘বাট, আমি তাে বুঝতে পারছি না আমার মনখারাপের জন্য কোনাে কারণ আছে কিনা। ‘সেটা আলাদা কথা। মেবি, য়ু ডােন্ট ফাইন্ড দ্য রিজন। আস্ক ইয়ােরসেল্ক, সার্চ ইয়াের হার্ট। একসময় ঠিক খুঁজে পাবে। আলাদিন বস্টন ইউনিভার্সিটিতে স্পাের্টস মেডিসিনে রিসার্চ করে। বেশ মজার ছেলে। বাড়ি এখানে, গড়িয়ায়। কয়েকমাস আগে ফেসবুকে আলাপ। ছেলেটাকে বেশ ভালাে লাগে জিনাতের। কী করে যেন জিনাতের ভালােলাগা মন্দলাগাগুলাে নিমেষেই বুঝে ফেলে!

আলাদিন লিখল, ‘তােমাকে আজ খুব হার্ড লাগছে! আলাদিনের মেসেজে বিস্মিত হল জিনাত। টাইপ করল, ‘হােয়াট! হার্ড! ‘হুম। কেন জানি না মনে হচ্ছে, তােমার মন আজ খুব ডিসটার্বড় হয়ে আছে। আর তাই তােমার রিপ্লাইগুলাে কাঠ কাঠ।

নরম স্পর্শ নেই। ‘মেসেঞ্জারে লেখা মেসেজ থেকে এইরকম বােঝা যায়! বাখােয়াজ। ‘বাখােয়াজ শব্দটাই তােমার চেনা মেজাজে ফিরিয়ে আনল। গুড। বাট আমি যা বলেছি তা কি সত্যি নয়? ‘যদি বলি সত্যি নয় ! ‘আই গেট দ্য আনসার। ‘আর য়ু সাইকোলজিস্ট? ‘নাে ম্যাম। মেসেজের সঙ্গে একটা স্মাইলি পাঠাল আলাদিন। তারপর লিখল, ‘অ্যাকচুয়ালি, আমাদের শুধু মেডিসিন সম্পর্কে জানলেই চলে না। পেশেন্টের সাইকোলজিটাও বুঝতে হয়। মাইন্ডটা রিড করতে হয়। জানাে তাে, লিফ- রিডিং বলে একটা ব্যাপার আছে! দূর থেকে মানুষের ঠোটের নড়াচড়া দেখেই লিফরিডারটা বুঝে নিতে পারে সেখানে কী আলােচনা হচ্ছে। বিশ্বের নানা দেশের নেতার সঙ্গে কী কথা বলছে তা জানার জন্য। পিওরলি স্পাইয়িং আর কী! ‘ কিন্তু আমার মেসেজ দেখে কী করে বুঝলে যে আজ আমার মেজাজটা ঠিক নেই? এখানে তাে আর লিফরিডারদের ব্যাপারটা খাটছে না! তােমার টাইপিং স্পিড, তােমার অনেকক্ষণ ধরে টাইপ করার পর যতটা লেখা আসার কথা ততটা আসছে না। লেখার পর বারবার মেসেজ মুছে নতুন করে লিখে সেন্ড করছ। মন বিভ্রান্ত থাকলে এমন হয়। খুব সিম্পল। সত্যিই আশ্চর্য ছেলে! ক-মাসেই আলাদিন বেশ ভালাে বন্ধু হয়ে উঠেছে। জিনাত লিখল, কী করছ? আজ কাজ নেই? ‘ ছিল ফাকি দিচ্ছি। বললাম না মনখারাপ? হয়তাে তােমার মন ভালাে নেই বলে আমারও মন ভালাে নেই। এখন চার্লস নদীর বুকে দুপুরের সূর্য আলাে ছড়াচ্ছে। সামনেই ব্রিজ। খুব রােমান্টিক অ্যাম্বিয়েন্স। ‘হুম বুঝলাম। কিন্তু সারাদিন কি নদীপাড়েই কাটাবে?

না না স্টুডেন্ট ভিলেজে ফিরব। তােমাকে বলেছিলাম না আমাদের ইউনিভার্সিটিটা একদম চার্লস নদীর পাড়েই? ‘অনেকবার বলেছ। এনিওয়ে, আমি খুব টায়ার্ড। কাল ক্যানভাস শেষ করতেই হবে। গুডনাইট। ‘সিওর। যদি অসুবিধে না থাকে তােমার মনখারাপের কারণ আমাকে বলতে পার। হতেও তাে পারে আমার মেডিসিন তােমারে মন ভালাে হয়ে গেল। থ্যাঙ্কস। সময় এলে নিশ্চয় বলব। বাই। ফেসবুক থেকে লগ-আউট করল জিনাত। আসলে আলাদিনের সঙ্গে আজ আর কথা বলতে ভালাে লাগছিল না। আলাদিন ছেলেটা স্মার্ট, সেনসিটিভ। যেকোনাে বিষয়ে কথা বলতে পারে বলে চ্যাট করতে খুব ভালাে লাগে জিনাতের। কিন্তু মেয়েদের একটা সিক্স- সেন্স আছে। জিনাত যেন ইদানীং বুঝতে পারছে আলাদিন তার কাছে শুধু বন্ধুত্ব নয়, আরও অন্যকিছু চায়। যদিও স্পষ্ট তেমন কোনাে ইঙ্গিত দেয়নি। তবুও এই মুহুর্তে জিনাতের হঠাৎ মনে হল আলাদিন তার প্রেমে পড়ে যায়নি তাে!

তিন

জিনাত ক্যানভাসে তুলির ফিনিসিং-টাচটা দিয়েই বাথরুমে ঢুকল। আলাদিনের সঙ্গে চ্যাটের পর আর ঘুম আসেনি। তাই ভােরবেলা থেকেই ক্যানভাসে হাত দিয়েছিল। একদিক থেকে ভালােই হয়েছে। ছবিটা শেষ করা গেছে। নাহলে আজও শেষ হত না। শাওয়ারের নীচে দাঁড়িয়ে ভাবল, যেকোনাে জিনিসের নেগেটিভ দিক যেমন আছে, খুঁজলে তার পজিটিভ দিকও দেখতে পাওয়া যায়। গতকাল শায়নের ঝগড়া রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে ভােরবেলা থেকে কাজ করিয়ে ছবিটা কমপ্লিট করিয়ে নিল। জলের নীচে দাঁড়িয়ে মনের গুমোট ভাবটা কেটে গেল। বেশ ফুরফুরে লাগছে। হঠাৎ চোখ পড়ল আয়নায়। জলভেজা শরীরটা কী সুন্দর লাগছে! নিজেকেই যেন চিনতে পারছে না। আলিয়া ভাটের মতাে মনে হচ্ছে। ক্যানভাস এগজিবিশন গ্যালারির চক্করে নিজের দিকেই যেন তাকাতে ভুলে গিয়েছিল। স্নান করে ঝটপট রেডি হয়ে ট্যাক্সি নিল। ড্রাইভারকে বলল, “একাদেমী অফ ফাইন আর্টস চলাে”। বিকেলে আর্টিস্ট ফোরামের বিক্ষোভ আছে। আসাম সরকার চল্লিশ লক্ষের বেশি মানুষের নাম নাগরিক পঞ্জিতে তােলেনি। তারা নাকি অনুপ্রবেশকারী। প্রায় অর্ধেক শতাব্দী তারা এদেশে বাস করছে। কেউ সেনাবাহিনীতে কাজ করেছে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছে আজ হঠাৎ করে তারা নেই- রাজ্যের বাসিন্দা হয়ে গেল? তাদের পূর্বপুরুষের শরীরে লেগেছিল দেশভাগের যন্ত্রণা, শিকড় ছেড়ার কষ্ট। আজ নতুন করে আবার উচ্ছেদ করতে হবে? কাঁটাতারই সব? এ পৃথিবী মানুষের নয়? সরকারের মানবিক মুখ থাকবে না? সেদিন এইসব প্রশ্ন তুলে খুব উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল অরিন্দমদা। আর্টিস্ট ফোরাম ডাক দিয়েছিল বিক্ষোভের।। ট্যাক্সি থেকে নামতেই মিতুল জিজ্ঞেস করল, দেরি করলি কেন? ফোনও রিসিভ করছিস না, বুঝতে পারছি না কখন আসবি, আদৌ আসবি কিনা! ‘ফোন করেছিলি! কই! “দ্যাখ।”

জিনাত দেখল, সত্যিই অনেকগুলাে মিসডকল। তার মধ্যে শায়নের পাঁচটা। ভােরবেলা কাজে বসার সময় সাইলেন্ট মােড করে দিয়েছিল, তারপর রিংটোনটা ঠিক করা হয়নি। কোনাে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ঘটার কথাও নয়। এটা প্রতীকী বিক্ষোভ। বিক্ষোভের পর সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল। ঋদ্ধিমা সুজয় মিতুলের সঙ্গে চা নিয়ে বসল জিনাত। হঠাৎ দেখতে পেল শায়ন হাত নেড়ে পুষ্পলের সঙ্গে কথা বলছে। গতকালই পুস্পলকে স্ট্রিট- লাফাঙ্গা বলে গাল পাড়ল, আর আজকে তারই সঙ্গে দিব্যি গল্প করছে! অবাক হল জিনাত। শায়নের তাে অফিসে থাকার কথা। এখন এখানে কেন! আইটি সেক্টরে তাে দশটা পাঁচটার ডিউটি নয়। পুষ্পলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এদিকেই আসছে। জিনাতের অভিমান হল। যেন দেখতেই পায়নি এমন মুখ করে চা খেতে থাকল। কিছুটা কাছে এসেই পুস্পল বাজখাই গলায় হাঁক দিল, জিনাত, গুরু আ গয়া। তুই কেটে পড়। শায়ন কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। এই চেহারা দেখলে কে বলবে মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির আইটি ইঞ্জিনীয়ার! মুখটা এখন ভ্যাবলার মতাে। পুষ্পল বােধহয় কিছু একটা আন্দাজ করল। বলল, কী ব্যাপার রে? ফোল্ডারে ভাইরাস ঢুকে গেছে মনে হচ্ছে, ডাটা ওপেন হচ্ছে না! হেসে উঠল ঋদ্ধিমা, ‘পুষ্পল, তুই একটা জিনিস!’ শায়ন তড়িঘড়ি বলল, ‘ওর শরীর ঠিক নেই। ডাক্তারের অ্যাপাে আছে। তারপর জিনাতকে লক্ষ্য করে বলল, “চল, শিগ্নির। ডাক্তার বেরিয়ে গেলে প্রবলেম হয়ে যাবে। সবার সামনে একটা অপ্রস্তুতের হাসি হেসে উঠে দাঁড়াল জিনাত। অক্লেশে নির্জলা মিথ্যে চালিয়ে দিয়ে একটা ট্যাক্সি দাঁড় করাল শায়ন। ট্যাক্সিতে উঠে শায়ন ড্রাইভারকে বলল, ‘অ্যাক্সিস মল। অ্যাক্সিস মলের বারে বসে শায়ন বলল, “কী খাবি? জিনাত খানিক স্বাভাবিক হল। বলল, ‘স্মার্টভ নে। ‘ওটা তাে প্রায়ই খাই। আজ একটা হুইস্কি ট্রাই করি। শায়ন বলল ওয়েটারকে ডেকে বলল, ‘শিভাসরিগ্যল দুটো করে। সঙ্গে আইস। জিনাত আগে কখনাে হুইস্কি খায়নি। কিন্তু খুব স্মুদ বলে অসুবিধে হল না। চোখ লালচে হয়ে উঠেছে। চিলি চিকেনের একটা টুকরাে মুখের ভিতর চালান করে শায়ন বলল, “কী রে ঠিক আছিস তাে? ‘হুম…’ শায়ন ওয়েটারকে রিপিট করতে বলল। তারপর জিনাতের দিকে ডানহাতে দুটো আঙুল বাড়িয়ে বলল, ‘একটা ধর। জিনাতের গলায় বিস্ময়, “কেন?” “আহ, ধর না। জিনাত শায়নের বাড়িয়ে দেওয়া দুটো আঙুলের একটা ধরল। সঙ্গে সঙ্গে খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল শায়নের মুখ। তারপর বলল, “কবে করব? ডেট ফিক্স কর। জিনাত যেন আকাশ থেকে পড়ল, “কী করবি? কীসের ডেট? ‘বিয়ের। ‘তুই কি পাগল হয়ে গেলি? ‘তুই তাে এইমাত্র বললি!’ ‘আমি! কই, কখন? ‘ওই তাে একটা আঙুলে ছিল বিয়ে পরে করা যাবে। অন্যটায় ছিল দেরি করা ঠিক হবে না। জিনাত হেসে উঠল। বললম ‘পাগল একটা! ‘হাসছিস কেন! আয়াম সিরিয়াস। জিনাতের মুখটাও হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, ‘আয়া, সিরিয়াস টু, শায়ন। বাট ইট উইল টেক টাইম…’ ‘হােয়াই! ‘সবে কাজ শুরু করেছি। পায়ের নীচে মাটিটা একটু শক্ত হােক। দেন…’ ‘আমার টাকা কি তাের নয়?

‘সে কথা নয়। টাকাপয়সাটাই সব নয় জানি, কিন্তু এটা জরুরি। প্রত্যেক মানুষের আত্মসম্মানের জন্য ইকনমিক স্টেবিলিটিটা ম্যাটার করে। ‘ধর, তেমন কোনাে স্টেবিলিটি তাের এল না, তখন? শায়নের কথায় হেসে উঠল জিনাত। তারপর ইয়ার্কি করে বলল, “তাহলে আর কী! মাঝেমধ্যে দুজনে এইরকম বেব, মালফাল খেয়ে বাড়ি চলে যাব। তাছাড়া তুই এমন ভাবছিসই বা কেন যে আমার ইকনমিক স্টেবিলিটি আসবে না? জিনাতের ইয়ার্কিতে সাড়া দিল না শায়ন। সে যথেষ্ট গম্ভীর। বলল, ‘হতে তাে পারে। ‘আমার স্বপ্ন আছে, শায়ন। আমি শুধু ইকনমিক্যালি দাঁড়াব না, কিছু ভালাে কাজ করব। ভালাে ছবি আঁকব। পৃথিবীর মানুষ আমার ক্যানভাসকে ভালােবাসবে। ‘সব স্বপ্ন কি সত্যি হয় ? ‘হয়তাে হয় না। হয় না বলে স্বপ্ন দেখতে তাে অসুবিধে নেই! স্বপ্ন ছাড়া বেঁচে থাকা আসলে মৃতের জীবন। যে মুহুর্তে মানুষের স্বপ্ন ফুরিয়ে যায় সেই মুহুর্তেই মানুষ মরে যায়। শরীর সচল থাকে, কিন্তু তা আসলে মৃতের নড়াচড়া। বেশ রাত হয়েছে। দুজনেই উঠে পড়ে। কারও মুখে কোনাে কথা নেই। যেন দুজন নদীর দুপারে। মাঝের সাঁকোটা আচমকাই ভেঙে গেছে! বার থেকে বেরিয়ে চলমান সিঁড়িতে পাশাপাশি দাঁড়ায়। সিঁড়ি নামতে থাকে নীচের দিকে।

চার 

বাড়ি ফিরে ভালাে করে স্নান করল জিনাত। নেশার সামান্য রেশ আছে কিন্তু বেশ আরাম লাগছে। ভাবল, সে কি শায়নকে হার্ট করে ফেলল! কিছুই বলত না শায়ন যদি তার কেরিয়ারকে অমন নেগেটিভ জায়গা থেকে না দেখত। কীসের প্রেমিক। যদি তার স্বপ্ন তার কাজ তার দাঁড়াবার প্রচেষ্টাকে সাপাের্ট নাই করল! বিছানায় গা এলিয়ে দেয় জিনাত। দেখল মেসেঞ্জারে কী একটা লিংক পাঠিয়েছে আলাদিন। ক্লিক করতেই ইউটিউবে গান বাজতে থাকে- মােহব্বত বরসা দেনা তু, শাওন আয়া হ্যায়। মিস্টি রােমান্টিক গান। জিনাতের মন ভালাে হয়ে গেল। একটু আগে মনে যে চিন্তা নড়াচড়া করছিল তা উধাও হয়ে গেল। গান শেষ হওয়ার পর মেসেঞ্জারে চোখ পড়তেই দেখল আলাদিন মেসেজ করেছে, ‘কেমন লাগল? ‘নাইস রিয়েলি নাইস। আমি আগে এই গানটা শুনিনি। লিরিক টিউন আর ভয়েসের ব্রিলিয়ান্ট কম্বিনেশন। ‘পার্পেল কালারে তােমাকে দারুণ লাগে। ‘মানে! “আজ তাে ওই রংয়ের ড্রেস পরেছিলে। ‘হা, কিন্তু তুমি জানলে কী করে? “ আরে বাবা, তােমার ওয়ালে তােমার কোন এক ফ্রেন্ড একটা ভিডিও আপলােড করেছে। সেখানে দেখলাম তুমি মাইক্রোফোন হাতে গ্যাদারিংয়ে আসাম নিয়ে বলছ। ‘ও আচ্ছা, বুঝেছি। হ্যাঁ আমাদের আর্টিস্ট ফোরামের বিক্ষোভ ছিল আসাম ইস্যুতে। ‘খুব ফালতু ব্যাপার। খুব অমানবিক। এখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ম্যাক্সিকান বর্ডারে পাঁচিল তুলছে মাইগ্রেশন আটকানাের জন্য। খুব হইচই হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। এখানের বায়ােডাইভাটির ওপরেও এটা একটা গ্রেট। আমরা বিরােধিতা করছি।’ ‘উচিতও তাই। পৃথিবী কি কিছু রাষ্ট্রনেতার বাবার জায়গির নাকি যে যা খুশি তাই করতে পারে! ঠিক বলেছ। যেখানে সেখানে পাঁচিল, যাকে তাকে উচ্ছেদ, এটা সভ্যতা হতে পারে না। আমার ক্ষমতা থাকলে সব দেশের সব সীমান্তই উধাও করে দিতাম। পৃথিবীতে মানুষের তৈরি করা কোনাে সীমান্ত থাকবে না। ‘ ইস! কী ভালােই না হত তাহলে! আমি ফ্রান্স ইতালি রােমের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ওদের স্ক্যাল্পচার পেন্টিংগুলাে দেখতাম। একটা হাসিমুখের স্মাইলি পাঠায় আলাদিন। আলাদিন লিখল, “ কিছু মনে না করলে একটা কথা বলব? ‘মনে না করার মতাে হলে নিশ্চয় করব না। বলাে…’

আই লভ য়ু। উইল য়ু ম্যারি মি?” হােয়াট! জিনাত চমকে উঠল আলাদিনের প্রস্তাবে। ‘অ্যাকচুয়ালি, আমি মনে মনে ভালােবেসে ফেলেছি তােমাকে। আমি নেক্সট ইয়ারে দেশে ফিরছি। তােমার পেন্টিং আমি দেখেছি। “থ্যাঙ্কস ফর ইয়াের কমপ্লিমেন্ট, আলাদিন। বাট আয়াম এনগেজড। হি ইজ শায়ন। সে আমাকে খুব ভালােবাসে। আমিও। ‘ওহ! সরি। এক্সট্রিমলি সরি, জিনাত। ‘সরির কিছু নেই, আলাদিন। তুমি আমার খুব ভালাে বন্ধু। ‘ সিওর জিনাত। তুমি হার্টফিল করনি তাে।

না না, একদমই না। আরে তুমি তাে আমাকে ভালােবাসতে চেয়েছ, খুন করতে তাে চাওনি!’ আর খানিক বকবক করার পর ফেসবুক থেকে লগ আউট করল জিনাত। ঘুমে ভারী হয়ে এল চোখ।

পাঁচ

বৃষ্টির পর রােদ বেশ মায়াময় হয়। জিনাতের দোতলা থেকে গঙ্গা দেখা যায়। গঙ্গার জলে বৃষ্টি ধােয়া রােদ যেন কফিরঙের বিকেল ছড়িয়ে দিয়েছে। জিনাত জানালার পাশ থেকে সরে এল। কাল এগজিবিশন। ছবি চলে গেছে। মন খুব রিল্যাকসড। আজ বেরােনােও নেই। জিনাত নতুন একটা ক্যানভাসে ড্রয়িং করতে বসল। এমন সময় মােবাইলে রিং হল। দেখল, সেঁজুতি কলিং। ফোনটা হাত বাড়িয়ে তুলে নিল জিনাত। কল রিসিভ করে বলল, কীরে বল। “কী করছিলি? ‘নাথিং স্পেশাল। একটা ড্রয়িং শুরু করেছিলাম। ‘দাদা অসুস্থ, জানিস! ‘মানে! কী হয়েছে শায়নের?’জিনাতের গলায় গভীর উদ্বেগ। “আরে না না, ঘাবড়ানাের কিছু নেই। অফিসে ব্ল্যাক আউট হয়ে পড়েছিল। কলিগরা চেকাপের পর বাড়ি ফিরে গেছে। এখন শুয়ে আছে। তুই একটু আসবি?’ ‘আমি এক্ষুনি যাচ্ছি। জিনাত দশ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে ট্যাক্সি নিল। রাস্তায় দেখল আলাদিন মেসেঞ্জারে কী একটা লিংক পাঠিয়েছে। এবং অনলাইনেও আছে। জিনাত রিপ্লাইয়ে লিখল, ‘শায়ন অসুস্থ। ওকে দেখতে যাচ্ছি। পরে কথা হবে। সঙ্গে সঙ্গে আলাদিন মেসেজ করল, ওহ নাে। যাও যাও, উনি কেমন থাকেন জানিও। চিন্তায় থাকলাম। জিনাত আর রিপ্লাই করেনা। হঠাৎ শায়নের জন্য খুব মনখারাপ হল। সেঁজুতি ফোন করেছে মানে শায়নের নিশ্চয় ফোনে কথা বলতে অসুবিধে হচ্ছে, নাহলে শায়নই তাে ফোন করত। তাই মনে হলেও জিনাত শায়নকে ফোন করল না।। শায়নের বারিতে কাজের মাসি দরজা খুলে দিল। একটু অবাক হল জিনাত। কেউ নেই। কাজের মাসিকে জিগ্যেস করায় সে বলল, “দাদাবাবু নিজের রুমে। জিনাত তরতরিয়ে দোতলায় উঠে গেল। শায়নের রুমের দরজায় নক করল। ভিতর থেকে শায়ন বলল, ‘আয়। খােলা আছে। জিনাত দেখল শায়ন বেডে বসে ল্যাপটপে কী যেন খুটখুট করছে। কত  উৎকণ্ঠা নিযে ছুটে এসে দেখে শায়ন দিব্যি শায়নেই আছে, মুখে চোখে অসুস্থতার চিহ্নমাত্র নেই। জিনাত বিস্ময়ে বলল, সেঁজুতি বলল তুই অসুস্থ! কই তেমন তাে কিছু…’ ‘ ছিলাম। এখন ঠিক আছি। তুই কি ভেবেছিলি আমি বিছানায় শুয়ে কোঁকাচ্ছি? শায়নের কথায় হাে হাে করে হেসে উঠল শায়ন। বলল, তুই কি দাঁড়িয়েই থাকবি নাকি! বােস।’ বলেই জিনাতের হাতে টান দিল শায়ন। শায়নের পাশে বসে পড়ল জিনাত। জিনাত বলল, ‘সেঁজুতি কই?

শায়ন বলল, “ও মাকে নিয়ে নাগের বাজার গেছে। দিদির বাড়ি। কেন রে, বাচ্চা মেয়ে, আমাকে কি তাের ভয় করছে, লােকজনের খোঁজ নিচ্ছিস?” জিনাত মাছি তাড়ানাের ভঙ্গিতে বলল, ‘ভয় করবে কেন! তুই কি বাঘ ভালুক নাকি যে তােকে ভয় করব! হঠাৎ এক ঝটকায় জিনাতকে নিজের বুকের ওপর টেনে নিয়ে শায়ন বলল, “ বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অ্যানিম্যালও সেফ প্রেমিকের চেয়ে। জিনাতের ঠোটে নিজের ঠোট দুটো গেঁথে দেয় শায়ন। দীর্ঘ চুমু দিয়ে বলে, তুই একটা ঢ্যাঁড়স। চুমুটাও ঠিকঠাক জানিস না। চুমুর সময় মানুষ নাক বলে কিছু আছে সেটা ভুলে যায়, জানিস? উত্তর দেওয়ার সুযােগ না দিয়েই নিজের শরীরের সঙ্গে গভীরভাবে জিনাতকে মিশিয়ে নিতে থাকে শায়ন। একটা সময়ের পর বাধা দেয় জিনাত, ‘ওসব পরে হবে, শায়ন। দিন আসুক। আমি তাে আছিই। ‘আজ নয় কেন? জিনাত বলল, না’ ‘ কেন, অশুদ্ধ হয়ে যাবি? ‘তুই যা মিন করতে চাইছিস তা নয়। শুদ্ধ- অশুদ্ধর প্রশ্ন নয়। আর বিয়ের আগে সেক্স অসুদ্ধ হলে শুধু মেয়েরা কেন, ছেলেরাও অশুদ্ধ হয়। শরীরী ছুঁতমার্গেই আমি বিশ্বাস করি না। আজ মানসিকভাবে তৈরি নই, আর কিছু না। শায়নের বাহু শিথিল হয়। বিছানায় শুয়ে শুয়েই জিনাতের মনে হয় আলাদিনকে শায়নের খবরটা জানিয়ে দিই। জিনাত মােবাইলে মেসেজ করে, ডােন্টওয়ারি, হি ইজ ফাইন। মেসেজটা সেন্ড করার সঙ্গে সঙ্গেই বিছানায় পড়ে থাকা শায়নের স্মার্ট ফোনের একটায় মেসেজ- রিসিভ- টোন বেজে ওঠে। সেদিকে চোখ পড়তেই দ্যাখে স্ক্রিনের ওপর তারই চ্যাটহেড। চমকে ওঠে জিনাত। সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করার জন্য চোখ কপালে উঠে গেল জিনাতের। পাসওয়ার্ড ছিল না বলে সমস্ত চ্যাটই ওপেন হয়ে গেল। আলাদিন আর জেউ নয়, শায়নই। মুহুর্তে পায়ের নীচে পৃথিবীটা দুলে উঠল জিনাতের। শায়ন স্পাইয়িং করছিল! প্রােভােক করছিল সে অন্য কারও প্রেমে পড়ে কিনা! পরীক্ষা করছিল তাকে! এতখানি অবিশ্বাস, এত সংশয মনে! জিনাত দ্রুত শায়কের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এল। ভাবল হলদিরাম মােড়ে ট্যাক্সি একটা নিশ্চয়ই মিলবে। ট্যাক্সি পেয়েই উঠে পড়ল। দেখল শায়ক রিং করছে। মাথা যেন কাজ করছে না জিনাতের। মনে হচ্ছে এমন ছেলেকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া উচিৎ বিশ্বাস হত্যার জন্য। খুনি একটা। তিনবারের বেলায় শায়নের কল রিসিভ করল জিনাত। কাটা কাটা স্বরে বলল, ‘শায়ন ওরফে আলাদিন, ডােন্ট কল মি এগেইন। তােমার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ। শায়ককে জবাব দেওয়ার পর জিনাত ট্যাক্সির সিটে শরীর এলিয়ে দিল। ভারহীন মনে হচ্ছে নিজেকে। জিনাত ফিল করে, কিছু কিছু সম্পর্ক থেকে নিজেকে ছিন্ন না করলে মানুষের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়। মানুষ আর স্বাদীন থাকে না। কিছু আগের চুম্বনের দাগগুলাে ঠোট থেকে রুমাল দিয়ে ঘষে ঘষে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায় সে। বাইরে সন্ধে নামছে কলকাতার চলমান রাস্তায়, ভিড়ে। আর সেই সন্ধে সেই ভিড়ের ভেতর চলন্ত গাড়িতে জিনাত একা। শিকড়হীন, স্তব্ধ, নির্ভার।

অলংকরণ- Dimitra-milan

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes