jamdani

ধূমপানে সর্বনাশ

সারা বিশ্ব জুড়ে চলছে করোনার তাণ্ডব। ভাইরাস আক্রমণ করছে ফুসফুসে। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও নিজেদের প্রাণ আরও বিপন্ন করে তুলছেন সিগারেট প্রেমীরা। বিষ ধোঁয়ায় লাখো লাখো মানুষের হার্ট আচমকা থেমে যাচ্ছে। সিগারেটকে গেট আউট করে হার্ট ভালো রাখার পরামর্শ রইল আপনাদের জন্য।

গল্প হলেও সত্যি

প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষকে এক বছরের মধ্যেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই। অথচ এঁরা নিজেরা যদি একটু সতর্ক হতেন তাহলে অসময়ে ভয়ানক কষ্ট পেয়ে মারা যেতেন না। আসলে এদের প্রত্যেকেই ছিলেন সিগারেটে আসক্ত। এ কোনও মনগড়া সিগারেট বিদ্বেষীর হিসেবের খগতিয়ান নয়। ল্যানসেট নামক এক জার্নালে সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সিগারেটের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা কম বেশি সকলেরই জানা। কিন্তু এর বিষ ধোঁয়া যে হার্টের চরম শত্রু, সেকথা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। ল্যানসেটে প্রকাশিত সমীক্ষায় জানা গেছে যে ধূমপায়ীদের যতজনের ক্যানসারে মৃত্যু হয়, তার দ্বিগুণ সংখ্যক মারা যান হার্ট অ্যাটাকে। আমাদের দেশে কার্ডিয়োভাসকুলার ডিজিজে (হার্টের রক্তবাহী ধমনি দিয়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া) মহামারী শুরু হয়েছে সে কথা আর কারও অজানা নয়। এই মহামারীর অনেকটাই রুখে দেওয়া যায় শুধু মাত্র সিগারেট বিড়ির সুখটানকে গুড বাই করতে পারলে।

আরও কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য

আমেরিকার ধূমপায়ীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য জানলে চমকে উঠতে হবে। ওদেশে কেবলমাত্র সিগারেটের ধোঁয়া টেনে প্রত্যেক বছর চার লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। আর আমাদের দেশে এই সংখ্যাটা আরও কয়েক গুণ বেশি। শুনলে আঁতকে উঠবেন সিগারেট-বিড়ির কারণে আমেরিকায় ভয়ানক অসুস্থ হয়ে মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৮৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ।

সব থেকে বড় রিস্ক ফ্যাক্টর

সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা অজস্র বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে হৃৎপিণ্ডের ভয়ানক ক্ষতি হয় তা প্রথম জানা যায় ১৯৬৪ সালে। সিগারেটের ধোঁয়া আমাদের হৃৎপিণ্ডের রক্ত সংবহনকারী ধমনিগুলির স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা নষ্ট করে ফেলে। সিগারেটের সঙ্গে কার্ডিয়োভাসকুলার ডিজিজের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই গবেষণা ও সমীক্ষা চলতেই থাকে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে যে ওদেশে করোনারি হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ৩০ শতাংশই শুধুমাত্র ধূমপানের কারণে হয়। চেন স্মোকারদের হার্ট অ্যাটাকের চান্স একজন নন স্মোকারের থেকে প্রায় চার গুণ বেশি। ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল, ওবেসিটি, ফিজিক্যাল ইনঅ্যাক্টিভিটি আর সঙ্গে স্ট্রেস, স্ট্রেন থাকলে ধূমপায়ীদের সাডেন কার্ডিয়াক অ্যাটাকের চান্স বেড়ে যায়।

মেয়েদের বিপদ বেশি

ইদানীং মেয়েদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে ইস্ট্রোজেন হরোমনের কল্যাণে মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কম। কিন্তু অনেক মহিলা আছেন যাঁরা কন্ট্রাসেপটিভ পিল ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে স্মোক করেন। এদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ভয়ানকভাবে বেড়ে যায়। আসলে এমনিতে মেয়েদের করোনারি আর্টারি (হার্টের রক্তবাহী ধমনি) পুরুষদের  তুলনায় সরু। তাই ধূমপায়ী মহিলাদের অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে যে-কোনও সময় আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট ভালো রাখতে গেলে কী করবেন

প্রথমেই সিগারেট-বিড়ি ছাড়তে হবে। এরপর ধাপে ধাপে হার্ট ভালো রাখার পাসওয়ার্ড জানতে হবে। বংশে আচমকা হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস থাকলে ছোট থেকেই সতর্ক হতে হবে। ওজন বাড়তে দিলে চলবে না। ফাস্ট ফুড যতটা সম্ভব কম খাওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকদিন নিয়ম করে আধঘন্টা খোলা মাঠে জোড়ে হাঁটাহাঁটি ও এক্সারসাইজ করা দরকার। এখন যেহেতু লকডাউন চলছে তাই বাড়ির ছাদে হাঁটাহাঁটি ও এক্সারসাইজ করতে পারেন। ব্লাডপ্রেশার ও সুগার থাকলে অবশ্যই নিয়ম করে চেক আপ ও ওষুধ খেয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মনে রাখবেন সিগারেট বা বিড়ির নেশা ছেড়ে দেওয়ার এক বছরের মধ্যেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে দাঁড়াবে অর্ধেক। আর ১৫ বছর পর প্রায় একজন নন স্মোকারের সমান। সিগারেট ছাড়ার দু’ সপ্তাহের মধ্যেই রক্ত সঞ্চালন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বাড়বে এক্সারসাইজ টলারেন্স। মাস ছয়েকের মধ্যেই নিশ্বাসের কষ্ট-ক্লান্তি কমে এনার্জি লেভেল বেড়ে যাবে। সুতরাং শুভস্য শীঘ্রম!

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes