jamdani

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির ইতিকথা

কলকাতার কলেজ স্কোয়্যার থেকে বিধান সরণি ধরে একটু শ্যামবাজারের দিকে এগোলেই ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরটি পড়বে বাঁ দিকে, একেবারে রাস্তার পাশেই দেবী কালিকা শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী মূর্তিরূপে এখানে অবস্থান করছেন। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এই দেবীকে খুব মানতেন। তিনি মাঝেমধ্যেই এই মন্দিরে এসে মায়ের পুজো করতেন।

ঠনঠনিয়ার কালী বিগ্রহের এক চমকপ্রদ ইতিহাস আছে। সে অনেককাল আগের কথা। সুতানটি-গোবিন্দপুর অর্থাৎ অতীত দিনের কলকাতার বেশিরভাগ অঞ্চলই তখন জলাশয় ও বন-জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। সেইসময় এক ভবঘুরে তন্ত্রসাধক ব্রহ্মচারী এখানে উপস্থিত হন। নির্জন শক্তি-সাধনা করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। এই শাক্ত ব্রহ্মচারীর নাম ছিল উদয়নারায়ণ। ইনিই প্রকৃত ঠনঠনিয়া সিদ্ধেশ্বরী কালী মাকে স্থাপন করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মূর্তিটি ছিল সিদ্ধেশ্বরী কালিকার মৃন্ময়ী মূর্তি। ঠনঠনিয়ার অধিষ্ঠাত্রী দেবী আজও সেই মূর্তিতে বিরাজমানা কিনা তা না জানা গেলেও, বর্তমান সিদ্ধেশ্বরী বিগ্রহটিও কিন্তু মাটির মূর্তি। মৃন্ময়ী আধারে চিন্ময়ী দেবী। ব্রহ্মচারী উদয়নারায়ণের মৃত্যুর পর দেবী পূজার ভার নিয়েছিলেন হালদার বংশীয় এক ব্রাহ্মণ। পরবর্তিকালে ১১১০ বঙ্গাব্দে সেকালের প্রসিদ্ধ ধনী ও কালীভক্ত রামশঙ্কর ঘোষ বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করেন। আজও মন্দিরের সামনে দেওয়ালে দক্ষিণ পাশে প্রস্তর ফলকে লেখা আছে – ‘শঙ্কর হৃদয় মাঝে কালী বিরাজে।’ তাঁর উদ্যোগেই কালীমন্দিরের পাশে শিবমন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। নাটমন্দিরের মাঝখানে অবস্থিত বলিদানের হাঁড়িকাঠ। প্রতি বছর কালী পুজোয় মন্দিরে প্রচুর পাঁঠাবলি হয়ে থাকে।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes