jamdani

চাঁদের মাটিতে পা রাখা সেই নিঃসঙ্গ মানুষটি

১৯৬৯ সাল-এর ২০ জুলাই, সারা বিশ্ব এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো। কারণ চাঁদের পিঠে প্রথম অবতরণ করল মানুষ। মহাকাশচারী নীল আমস্ট্রং এবং এডউইন অলড্রিন পা রাখলেন চাঁদে। তাঁদের পাশাপাশি আরও একজনও সেই ইতিহাসের অংশ। তিনি হলেন মাইকেল কলিন্স। প্রায় অনালোচিত, স্পট লাইটের আলো থেকে বিচ্ছিন্ন এই মানুষটি আড়ালেই রয়ে গেলেন। মাইকেল সেদিন চাঁদে অবতরণ করেননি ঠিক, কিন্তু টানা আট দিন চার ঘন্টা কাটিয়েছেন মুন অরবিটে। তিনি না থাকলে হয়তো অসম্পূর্ণ থেকে যেত মানুষের ইতিহাসের এই অত্যাশ্চর্য ঘটনা।

২০২১-এর এপ্রিলে প্রয়াত হলেন সেই নভোশ্চারী। ফ্লোরিডাতে নিঃসঙ্গ অবস্থায় নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মাইকেল, ‘লোনলিয়েস্ট ম্যান ইন হিস্ট্রি’। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। অনেকদিন ধরে ভুগছিলেন ক্যান্সারে। চাঁদকে জয় করলেও মারনরোগ ক্যান্সারকে হারাতে পারলেন না মাইকেল। যার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

তথাকথিতভাবে মার্কিন দেশের নাগরিক হলেও কলিনসের জন্ম হয়েছিল ইতালিতে। বাবার সহকর্মীদের সঙ্গে শিখেছিলেন বিমান চালানো। ইতালি ছেড়ে আসার আগে ডুয়েল ইঞ্জিন উভচর এয়ারক্রাফট এর আসনে বসেছিলেন। মিলিটারি সায়েন্সে স্নাতক হয়েছিলেন তিনি। এরপরই পাকাপাকি ভাবে পাইলটের আসনে বসেন মাইকেল।

ষাটের দশকে মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে নাসা। সেইসময় খোঁজ শুরু হয় উপযুক্ত নভোচারীদের। মার্কিন বিমানবাহিনীর দক্ষ ৩১ জন পাইলটকে বেছে নেয় নাসা। সেই তালিকাতেই ছিলেন কলিনস। খামতি ছিল না উৎসাহে, তাই নতুন করে শুরু হল পড়াশোনা। পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর আসে সেই ঐতিহাসিক চন্দ্র অভিযান। অ্যাপোলো-১১, যার কথা সারা বিশ্ব মনে রাখবে আজীবন।

এই চন্দ্র অভিযানের জন্যেই তিনি পরিচিতি পান ‘ইতিহাসের নিঃসঙ্গতম মানুষ’ হিসেবে। চন্দ্রপৃষ্ঠে নীল এবং অলড্রিন অবতরণ করলেও, অরবাইটারে থেকে যান কলিনস। সেখান থেকেই মডিউল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। খুব সহজ ছিল না সেই কাজ। চাঁদের অন্ধকার অংশে চলে যাওয়া মাত্রই পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ ছিন্ন হয়ে যেত সম্পূর্ণভাবে। সেইসময় থাকত না নীল আর্মস্ট্রং কিংবা অলড্রিনের সঙ্গেও বেতার যোগাযোগের সুযোগ। অন্ধকারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু প্রতীক্ষার মধ্যেই কাটিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাই তাঁকে এনে দেয় এমন পরিচিতি।

মহাশূন্য থেকে তোলা পৃথিবীর ছবিগুলোর পিছনেও রয়েছেন তিনিই। অরবাইটারে বসেই তিনি ফ্রেমবন্দি করেন নীলগ্রহ এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের কয়েক হাজার ছবি।

সেই চন্দ্র-অভিযানের পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার চাঁদের মাটিতে মানুষ পা দিলেও, ১৯৭২ সালের পর অধরাই থেকে গেছে উপগ্রহ-জয়।  আগামী ২০২৪ সালে আবার চাঁদের মাটি ছুঁতে চলেছে মানুষ। আরও এক ইতিহাস গড়তে চলেছে নাসা। কিন্তু তার আগেই বিদায় নিলেন প্রথম চন্দ্র অভিযানের মানুষটি।

চন্দ্রাভিযানে প্রথম চাঁদের মাটিতে পা রাখা নীল আর্মস্ট্রং এবং দ্বিতীয় মানব অলড্রিনের কথা আলোচনা হলেও মাইকেল খানিকটা আড়ালেই ছিলেন বলা যায়। এই নিঃসঙ্গ মানুষটির সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হলো বিশ্বের এক ইতিহাসের অধ্যায়। বর্তমানে অ্যাপোলো ১১ অভিযানের মাত্র একজন সদস্য বেঁচে আছেন। তিনি হচ্ছেন এডুইন অলড্রিন।এখন তার বয়স ৯১ বছর।

 

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes