jamdani

এই মেয়ে গ্রামবাসীদের জল বয়ে নিয়ে আসা থামিয়েছে

শশিরেখা ইয়েল্লামপল্লি খাওয়ার জল আনতে যেত বহুদূর। এখন সেই গ্রামের জল সংগ্রহের একমাত্র রক্ষকের দায়ীত্বে। তার দায়িত্ব কেউ যেন জল অপচয় না করে।

সাত বছর বয়স থেকে শশিরেখা মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে জল নিয়ে আসত। প্রতিদিনের জলের ব্যবস্থা সেই করত। তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্তবর্তী এক গ্রামে তার বসবাস।

জল সংগ্রহে জন্যে তাঁদের এরকমই করতে হতো। শশিরেখার নিজের পড়াশুনো এবং সময় স্যাক্রিফাইস করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। প্রচণ্ড গরম, এবড়োখেবড়ো রাস্তা পেরিয়ে খাবার জল আনতে যাওয়া, কম কথা নয়। আর সপ্তাহে একটা দিন নয়, প্রতিটা দিন ছিল এরকম যাওয়া আসা। তার স্কুল হারিয়ে যাওয়া, শক্ত কাজ, শারীরিক কষ্ট সব মিলিয়েই দিনগুলো ছিল কষ্টকর।

কিন্তু এখন সে ২০ বছর বয়সী এক মেয়ে। এখন তার কাজ হল জল রক্ষা করা। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্কুলছুট হয় সে। এরপর সে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীতে হেল্পারের কাজ করে পরিবারের হাল ধরতে। জল নিয়ে আসা এবং পরিবারের হাল দুটৈ ছিল তার প্রধান ডিউটি। এরপর ৫ বছর আগে সেখানে হ্যান্ড পাম্প বসে। কিন্তু প্রখর গরমে জল চলে যাওয়া ছিল রোজকার সমস্যা। সারাই করার লোক পাওয়া যেত না।

এরপর কয়েক বছর আগে ওয়াটারএইড ইন্ডিয়া এবং পেপসিকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাইপলাইন আসে গ্রামে। এরপর ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় জল। শশিরেখা জানায়, ‘এখন তার অনেক কাজ। গ্রামের মানুষের সময় বেঁচে যাচ্ছে, আর প্রোডাক্টিভ কাজে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে’।

শশিরেখা এখন গ্রামের জল সাহায়ক। জল নিয়ে কোনো সমস্যা হলেই সবাই তার কাছেই যায়। গ্রামের মধ্যে থাকা ট্যাংকের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তার। রোজ দু’বেলা জল ভরাতে হয় তাঁকে। এছাড়া সারাইও করে সেই। আর এতে তার লজ্জা নেই কোনো। প্রতিটা বাড়ি থেকে রক্ষণাবেক্ষণের যে টাকা ওঠে, এতেই তার দিন চলে যায়। তার বক্তব্য, ‘ভবিষ্যতে যাতে আর কাউকে জল সংগ্রহের জন্য কষ্ট না করতে হয়’।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes