jamdani

ইতালীয়ান খাবারের বিশ্বজয়ের কাহিনী

সারা বিশ্বের বিভিন্ন কুইজিন আমাদের এখন অনেক চেনা হয়ে গেছে মুঠো ফোনের দৌলতে। হোটেল বা রেস্টুরেন্ট হোক কিংবা ফুড ডেলিভারি অ্যাপ। এক ক্লিকেই হাজির হয় বিভিন্ন দেশের খাবার আপনার সামনে। তবে ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করে না এরকম কে আছে। পিৎজা, স্যান্ডউইচ, আইসক্রিম। বিশ্বের যে কোনো জায়গায় গেলেই পেয়ে যাবেন। আর শুধু মাত্র আমাদের শহরেই নয়, সারা বিশ্বে যে খাবারের অনেক চল আছে, তার মধ্যে পিৎজা একটি। আর পাস্তা এখন সকালের খাবারের সঙ্গে অনেকের ডাইনিং এ প্রবেশ করেছে।

তবে এই পিৎজা, পাস্তা, চিকেন স্টিকের মতোন খাবারগুলো কিন্তু আমাদের দেশের নিজস্ব খাবার নয়। ইতিহাস ঘাঁটলেই পাওয়া যাবে আমাদের পূর্বসূরিদের খাবারের তালিকায় এসব খাবারের নাম কোথাও ছিল না। রেস্তোরাঁয় পিৎজার টুকরা খেতে খেতে কখনও ভেবে দেখেছেন কি কোথা থেকে এসে এই খাবারগুলো জুড়ে বসল আমাদের টেবলে?

পিৎজা, স্যান্ডউইচ, পাস্তা, চিকেন স্টিক, ম্যাকারনি কিংবা বিখ্যাত স্প্যাগেটির মতো খাবারগুলোর জন্ম ভূমধ্যসাগরের তীরের দেশ ইতালিতে। ইতালির বেশিরভাগ অঞ্চল যেমন সিসিলি, ভেনিস কিংবা তুরিন একসময়ে স্বকীয়তা বজায় রেখে চলতো, পরবর্তীতে তারা একত্র হয়ে ঐক্যবদ্ধ ইতালি গঠন করে। এiসব অঞ্চল সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে স্থিতিশীল ও নিরাপত্তা ছিল না। স্বাভাবিক জীবন বলতে কিছুই ছিল না। আর তাই অনেক আগে থেকেই ইতালিয়ানরা দেশ ছেড়ে ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়ে পড়তে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু তারা নিজের দেশ ছাড়লেও শত শত বছর ধরে চলে আসা ইতালিয়ান খাদ্যাভাসের সংস্কৃতি ছাড়তে পারেননি। নতুন দেশে গিয়ে বসবাস শুরু করলেও ইতালীয় খাবার তৈরির উপাদানগুলোর সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের নিজস্ব খাদ্যাভাসকেই ধরে রেখেছিলেন।

ভারতে একসময় ব্রিটিশরা বিনামূল্যে চা-পাতা বিলিয়ে দিত বাঙালিদের মধ্যে। তার কারণ এতে বাঙালিরা চা সম্পর্কে জানতে পারবে। নিয়মিত চা পান করার অভ্যাসের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হবে। এরপর অভ্যাসের কারণেই টাকা দিয়ে ব্রিটিশদের কাছ থেকে চা-পাতা কিনতে বাধ্য হয় বাঙালিরা।

ইতালীয় খাবারের ক্ষেত্রেও সেই কাজটি করেছিলেন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া ইতালিয়ান নাগরিকেরা। ইতালিয়ানরা পৃথিবীর সবচেয়ে বন্ধুবৎসল জাতিগুলোর একটি। তারা খাবার সময় সকলকেই আমন্ত্রণ জানায়। ইতালীয়রা যখন ইউরোপ কিংবা লাতিন আমেরিকায় গিয়ে নিজেদের খাবার খেত, তখন তারা সেই দেশের স্থানীয় মানুষদেরও আমন্ত্রণ জানাত। অনেক ইতালিয়ান আবার বিদেশে গিয়ে ইতালীয় রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকান খুলে বসে। এতে ইতালীয় খাবারের পরিচিতি বাড়ে। আর ইতালীয় খাবারের বিজ্ঞাপনও হয় এভাবেই।

ইতালিয়ান খাবার পছন্দ করার আরেকটি বড় কারণ ছিল খাবার তৈরির উপাদানগুলো খুব সহজে পাওয়া যেত। কৃষিবিপ্লবের পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় ব্যাপক হারে টমেটো, পুদিনা পাতা, অ্যাসপারাগাস, ক্যাপসিকাম প্রভৃতি সবজির চাষ শুরু হয়।

অল্প সময়ে প্রস্তুত করা ইতালিয়ান খাবারগুলো তাই দ্রুত সকলের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা হয়ে ওঠে পুঁজিবাদ ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের অভিভাবক, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ইতালীয় খাবার পুরো বিশ্বের ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ইতালীয় খাবারের স্বাদ এতটাই চমৎকার যে সব অঞ্চলের মানুষকেই এই খাবার আকৃষ্ট করে। তবে বর্তমানে চীনা খাবার কিংবা থাই খাবারেরও বিশ্বজয় ঘটেছে। ইতালীয় খাবারগুলো এমন সব উপাদান দিয়ে তৈরি, যেগুলো অল্প খরচেই পেয়ে যাওয়া সম্ভব। এই কারণে পৃথিবীর সবখানেই তুলনামূলক অল্প খরচে ইতালীয় খাবার পাওয়া যায়, উৎপাদন খরচ কম হওয়ার কারণে।

একটি খাবারের বিশ্বজয় করতে গেলে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হয়। এক্ষেত্রে কিন্তু ইতালীয় খাবার সবদিক থেকে সফল। ভারতীয় খাবার, চাইনীজ কুইজিন কিংবা থাই কুইজিনেরও জনপ্রিয়তা রয়েছে বিশ্বজুড়ে, তবে সেগুলো ইতালিয়ান খাবারের কাছে কিছুই নয়। ইতালীয় খাবারের জয়জয়কার দেখেছে গোটা বিশ্ব,আর হয়তো সামনেও অব্যাহত থাকবে। তাই পিৎজা অর্ডার করুন আর বাড়িতেই বানান পাস্তা, আপনারও কিন্তু সমানভাবে পছন্দ ইতালীয় কুইজিন। তাই নয় কি!

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes