jamdani

আফ্রিকার একটি দেশ, যেখানে সরকারি ভাষা হল ‘বাংলা’

নানা দেশ, নানা জাতি, নানা ভাষা। এটাই আমাদের বিশ্বের একটি অংশ। তবে জানেন কি আফ্রিকার একটি দেশের সরকারি ভাষা বাংলা। হ্যাঁ আমাদের প্রাণের ভাষা ‘বাংলা’। লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। শুধুমাত্র একটি ভাষার জন্য এই ঘটনা বিরল। একমাত্র বাঙালি জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন।

আর তাই মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা, মায়ের ভাষা নিয়ে গৌরবের শেষ নেই। বাংলায় কথা বলে এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে অসংখ্য। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। বাংলা ভাষা পৃথিবীর অনেক দেশেই ব্যবহার করা হয়। তবে আরও একটি দেশ রয়েছে যাদের সরকারি ভাষাও বাংলা।

তবে হয়ত ভাবতে পারেন ভারতের কথা। না, এটি পশ্চিম আফ্রিকার দরিদ্র এক দেশ সিয়েরা লিওন। ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের দেশে শহীদদের স্মরণে পালন করলেও ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ভাষা শহীদদের সম্মানে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়। অন্যদিকে, আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র রয়েছে, যারা বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে নিজেদের অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে।

সিয়েরা লিওন পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী একটি বহুভাষী দেশ। যা বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইট এবং টাইটানিয়াম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত দেশটিতে সোনা এবং হীরাও উৎপাদন করা হয়। ৭১,৭৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিয়েরা লিওনে ১৬টি ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার প্রায় ৮.৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৭৮ লাখ মানুষের বসবাস। ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বা থাকায় বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায় এখানে।

সময়টা ২০০২, এশিয়ার ছোট্ট বাংলাদেশ নামের একটি বদ্বীপে উদযাপিত হচ্ছে মহান ভাষা আন্দোলনের সুবর্ণজয়ন্তী। আর এ বছরই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরের আফ্রিকান দেশ সিয়েরা লিওন বাংলা ভাষাকে তাদের অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে মর্যাদা দেয়। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে বাংলাদেশ ও সিয়েরা লিওনের ভিন্নতা থাকলেও জাতিসংঘ শান্তি মিশনের সুবাদে দু’দেশের সম্পর্কের উন্নতি হলে ২০০২ সালে সিয়েরা লিওনে সরকারিভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

যুদ্ধ, সংঘর্ষ লেগেই থাকত এই দেশে। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশসহ আরো অনেক দেশ জাতিসংঘের এই শান্তি মিশনে যোগদান করেন। জাতিসংঘের প্রেরিত প্রথম দলে ৭৭৫ জন বাংলাদেশি সেনা ছিলেন। যুদ্ধের অবস্থা আরো খারাপ হতে শুরু করলে, এক সময়ে ৫,৩০০ জন সেনা একসঙ্গে কর্মরত ছিলেন সিয়েরা লিওনে। যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বমোট ১২ হাজার সেনা শান্তি কমিশনের সদস্য হয়ে দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন। যুদ্ধপরবর্তী দেশের পুনর্নির্মাণে সহায়তার তাগিদে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি সেনারা সিয়েরা লিওনে ছিলেন, যদিও যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে ২০০২ সালে।

বাংলাদেশের সেনারা শান্তি কমিশনের সদস্য হয়ে সিয়েরা লিওনে বাঙালি সংস্কৃতি ও ভাষার যে প্রসার ঘটিয়ে এসেছিলেন, তা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কেননা তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পথগুলো এখনও ঝাপসা।

Trending

Most Popular


Would you like to receive notifications on latest updates? No Yes